ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কিছুদিন আগে পত্রিকায় সংবাদ এসেছিলো, নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে এসে কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষিকা।

পেশার কারণে এমন অনেক ঘটনা জানতে হয়েছে, কাজ করতে হয়েছে। সেই দেখা ও জানার অভিজ্ঞতা থেকে দুটো ঘটনার কথা উল্লেখ করছি।

কেস স্টাডি ১:  ভদ্রমহিলা একজন সরকারি কর্মকর্তা। বিবাহিতা। অফিসের এক কলিগের সাথে যাওয়া-আসা করেন। একদিন জরুরি কাজের কথা বলে তাকে অফিসের পর একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে কলিগটি। এরপর ব্ল্যাকমেইল করে আরো বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করে তার সাথে। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে জানাতে পারেননি তিনি। তবে ভেঙে পড়েন মানসিকভাবে। অসুস্থও হয়ে পড়েন।

স্বামী খুব বেশি পীড়াপীড়ি করায় চরম ক্ষতির আশংকা থাকা স্বত্বেও স্বামীকে সব বলে দেন তিনি। মহিলার স্বামী ভদ্রলোক কিন্তু ব্যাপারটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসাবে মেনে নেন। ভদ্রমহিলা আমার শরণাপন্ন হন। আমি তাকে পরামর্শ দেই, যেন দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করে  নিজ শহরে, স্বামীর কাছে চলে যান। তারা পরে সেই ব্যবস্থাই করেন।

কেস স্টাডি ২:  মেয়েটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্রী। বেশ চোখ ধাঁধাঁনো সুন্দরী। মডেলিংয়ের প্রচণ্ড শখ। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপনে কাজ করার সুযোগও পান তিনি। শুটিং এর নাম করে তাকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিজ্ঞাপনী সংস্থার ম্যানেজার তাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করে আর পুরো ব্যাপারটি ভিডিও করে রাখে। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটির পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।

মেয়েটির এক নিকটাত্মীয় আমাকে ব্যাপারটি জানালে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পদে থাকা আমার বন্ধুকে জানাই। সে অনেক রাতে ম্যানেজারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরো কয়েকটি ভিডিও উদ্ধার আর ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে। ম্যানেজারের কাছে বেশ কিছু অবৈধ মাদকদ্রব্যও পাওয়া যায়। তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করে চালান দেওয়া হয়। আর ভিডিওগুলোও উদ্ধার করা হয়।

প্রতিনিয়ত যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন আমাদের কর্মজীবী নারীরা। গার্মেন্টস কর্মী, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির উচ্চ শিক্ষিতা কর্মকর্তা কেউ বাদ পড়ছেন না সহকর্মী বা উচ্চপদস্থদের নির্যাতনের হাত থেকে। লোকলজ্জা বা সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়ে এসব ব্যাপার অধিকাংশই চেপে যাওয়া হয়। মাত্র গুটিকয়েক সাহস করে আইনজীবী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়ে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পান। আর সেসব ক্ষেত্রে পরিবারের বিশেষ করে স্বামীর সহায়তা তাদের আবার সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনে।

দেশের কর্মজীবী জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। কাজেই তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকেই নিতে হবে। করতে হবে কঠিন আইন  আর কর্মস্থলে যথাযথ সুরক্ষার বিধান প্রণয়ন। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে পিতা, স্বামী বা প্রেমিকের সার্বিক সহোযোগিতা।

মন্তব্য ০ পঠিত