ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

তথ্য অধিকার আইন নিয়ে এখন আর শোরগোল নেই। কেন জানেন? কারণ ওই আইনে এনজিওগুলোর আর্থিক তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। থলের বেড়াল বেড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে এনজিওগুলো এখন চুপ মেরে গেছে। আর সামান্য কিছু এনজিও বাদে বাকিরা এখনও তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়নি। এটা না করে তারা আইন মানেনি। যদিও টকশোতে আমজনতাকে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান এনজিওবাজরাই দিচ্ছে।

আমি একজন ভন্ড মানুষ। আশপাশে সমমনা এত ব্যক্তি ও সংগঠন দেখে আমি অভিভূত। এই অভিভূতি আমাকে বাধ্য করেছে আঙুল ব্যথা করে এই লেখাটি লিখতে। আমি এক আঙুল দিয়ে লেখি। ব্যথা বেশি হয়।

সম্প্রতি আমাদের একমাত্র নোবেল প্রাপ্ত ও নতুন ধারণার উদ্ভাবনকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করা সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। সেখানে নিখিল বাংলাদেশ ভন্ড সমিতির (অস্তিত্বহীন!) প্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার বক্তব্য পেশ করছি।

প্রথমেই আমার প্রস্তাব- ইউনূস সাহেবকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট করা হোক। তাকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করার কথা যারা ভাবতে পারেন তারা মধ্য রাতের দিবা স্বপ্নে এটাও ভাবতে পারবেন যে ইউনূস সাহেব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবটি দিয়ে একটা খেলা খেলেছেন। সেটা হোল- আমেরিকাকে বলা যে, তাকে যখন এতই পছন্দ তখন বিশ্বব্যাংকে নিয়ে যাও। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মজেনা আরেকটি খেলা খেলেছেন। সেটা হল- ইউনূস রাজি হলে তার বিবেচনার আশ্বাস। ইউনূস যে রাজি হবেননা সেটা মজেনা ভাল করেই জানেন। এটা কখনও সম্ভব নয়।

প্রস্তাব আর বিবেচনার আশ্বাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইউনূসের প্রতি তার বৈরিভাব কিছুটা আড়াল করতে পারলেন।

আমরা মা গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য। আমি ুদ্র ঋণের কিস্তি এখনও শোধ করছি। এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে গিয়ে এবং সাংবাদিকতা বিভাগে ‘গ্র“প কমিউনিকেশন’ বিষয়ে অধ্যয়ণ করে আমার মত নিচে উল্লেখ করা হইল।

গ্রামীণ ব্যাংক যে ঋণ দেয় তা কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার তদারকি করেনা। অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ দিয়ে একজন মানুষকে শুধু বিপদেই ফেলা যায়। ভিটেমাটি ছাড়া করা যায়। আর নতুন কোন ব্যবসা শুরু করতে ঋণ মেলেনা। কারন ঋণ দেওয়ার দিন থেকেই যে ঋণ শোধ শুরু হয় তা উৎপাদনের কাজে লাগানো যায়না। ফলে যাদের নিয়মিত আয় আছে তারাই ঋণ পান ও শোধ করেন।

ঋণ নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাস খুব সুখকর নয়। কারন ২৭-৭০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিয়ে বাংলাদেশের গ্রামীন কোন ব্যবসায় লাভবান হওয়ার কোন সুযোগই নেই। কারন এদেশে কৃষকরা চাষ করেন অনেকটা ভর্তুকি দিয়ে নিজের পকেট থেকে। কারন তারা ভাল দাম পাননা।

গ্রামীণ ব্যাংক জামানত নেয়না এটা সম্পূর্ণ ভুল। তারা জামানত নেয় মানুষের সবচেয়ে দামি জিনিস- তার সম্মান। একটি সমিতির কোন সদস্য কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে তা অন্য সদস্যদের দিতে হয়। বারবার ব্যর্থ হলে গ্রামীণ ব্যাংকের চাপ দিতে হয়না, সমিতির অন্য সদস্যরাই চাপ দেন। তারা টাকা আদায় করে ছাড়েন। একেবারেই টাকা না দিতে পারলে পরিবারগুলো এলাকা ছাড়ে গ্রামের মানুষের কাছে নিগৃহীত হওয়ার ভয় থেকে বাঁচার জন্য। অথবা তারা অন্য সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ করেন। এভাবে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন তারা।

আর একটি প্রশ্ন- শিল্পপতিদের সরকার ঋণের সুদ মওকুফ করে, মন্দা কাটাতে সুদের হার ১৩ শতাংশে বেঁধে দেয়। শিল্পপতিরা যেখানে ১৩ শতাংশে ঋণ পায় সেখানে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে ২৭ শতাংশ সুদ আদায় করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? ২৭ শতাংশ এখনও কার্যকর হয়নি। এমআরএ সুদের হার ২৭ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আদতে এর চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হয়। যদিও গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার এখন ২০ শতাংশ। কিন্তু এর দেখানো পথে শোষণ করছে অন্য এনজিও।

যে আবিষ্কার দেশে জনপ্রিয় নয় (হলে ইউনূস সাহেব রাজনীতিতে আসতে সাড়া পেতেন) তাকে বৈশ্বিক রূপ দিয়ে নোবেল দেওয়ার মানে কী। আর সেই নোবেল নিয়ে এত গর্বের কী আছে যা হেনরি কিসিঞ্জার ও বারাক ওবামা পেয়েছেন? আর এটা কী আমাদের পাওয়ার কথা? গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম ঋণ গ্রহীর মৃত্যু হয়েছে ভিা করতে করতে। আর যে দ্বোতলা বাড়িটা ইউনূস দেখিয়েছেন সেটি ওই ঋণ গ্রহীতার ভাতিজার- সেটা না জানে শুধু জ্ঞানপাপীরা।

নোবেল পাওয়ায় এদেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানো বাংলাদেশীরা (শ্রমিকরা নন) খুশি হয়েছেন। কারন তারা ওই দেশে সর্বশেষ শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বসবাস করেন। বুক ফুলিয়ে বাঙালী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারেননা। তবু বলতে পারেন ইউনূসের দেশের লোক। কিন্তু আমরা ভন্ডরা ইউনূস সাহেব কে পছন্দ করিনা। কারন জানেনতো- নিজের মত আর কাউকে মানুষ পছন্দ করেনা।

আর একটা কথা- ইউনূস সাহেবকে আমেরিকা পছন্দ করে। তারা তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর তারা নিজেদের স্বার্থের বাইরে কোন কাজ করেনা।

আরও একটা কথা- ক্ষুদ্র ঋণের ধারণাটি পিকেএসএফ থেকে চুরিরও একটা অভিযোগ আছে। যদিও সেটা আমি বিশ্বাস করতে চাইনা।

শেষে একটা গল্প বলে শেষ করছি। হিলারিকে নিয়ে এসেছিলেন ইউনূস সাহেব। বড় ব্যক্তিরা আসলে শুধু মানিকগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। কারন সেখানকার গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের শেখানো পড়ানো থাকে। তো ওইবার এক নারী সদস্য হিলারীর সামনে ইউনূসের কাছে নিজের বিএ পাস ছেলের জন্য চাকুরি চাইলেন। ইউনূস হিলারিকে ইংরেজিতে তর্জমা করে বললেন পুরো উল্টো কথা। তিনি বললেন, সদস্যার ছেলেটি বিএ পাস করেছে। এখন সে এটা চাকুরি করে। তখনই আমি বুঝলাম ইউনূস সাহেব আমাদেরই লোক।

এই গল্পের প্রমাণ চাইলে দিতে পারবনা। বিশ্বাস করার জন্যও কাউকে বলছিনা। ইউনূস সাহেব আমার মত না হয়ে যদি সত্যিকার ভাল কাজের জন্য নোবেল পেতেন আমিই গর্বিত হতাম সবচেয়ে বেশি। সেটা আমি ভন্ড হওয়ার পরও।