ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আহ্ আমাদের সংসদ! বহু বছর পরে গতকাল প্রাণ জুড়াইয়া গেল। আমরা সংসদে একটি প্রাণবন্ত দিন দেখিতে পাইলাম। শ্রুতিমধুর শব্দ শুনিয়া আত্মা শান্তি পাইল। গরম কমিয়া গেল। আগের দিনের সন্ধ্যার বহু আকাঙ্খিত বৃষ্টির পরশ পরের দিন সন্ধ্যায়ও পাওয়া হইল। আমরা নিখিল বাংলাদেশের ভন্ডরা উৎসাহিত হইলাম।

এবার সংসদে গুটি কয়েক রীতির কথা বলিব যাহাতে আমাদিগকের, স্বঘোষিত ভন্ডদের আনন্দিত হইবার যথেষ্ট কারণ উপস্থিত। সবচেয়ে বড় ভন্ডামি মনে হইয়াছে এক্সপাঞ্জ করিবার নিয়মটিকে। এছাড়া আরও কিছু কাজ রইয়াছে যাহা এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ভন্ডামির পর্যায়ে পড়ে। সংসদে নারী আসন সংরতি রাখা, মনোনীত নারীদের কাছ থেকে অনেকের সুশীল আচরণ আশা করা, সমালোচনা করিয়া আবার এইসব দলগুলোকে ভোট দেওয়া-এমন কয়েকটি প্রবণতাকে আপনারা রপ্তানিযোগ্য ভন্ডামির তালিকায় রাখিতে পারেন।

প্রথমত, সংসদে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করিবার একটি ভন্ডামির কথাটি বলিব। আদিমকালের একটি কল্পিত গল্পে দেখা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী একটি উন্নত সভ্যতার এক মর্যাদাশীল রমণীকে এক আলোচনা সভায় আরেক মতাশীল পুরুষ জোর করিয়া শ্লীলতাহানী করিল। পরে বিচার বসিল। গোত্র প্রধান ওই নারীর সঙ্গে যা কিছু করা হয়েছিল তা এক্সপাঞ্জ করিলেন। না এখান থেকে বর্তমান বাংলাদেশের সংসদের এক্সপাঞ্জ পদ্ধতির উদ্ভব হয়নি। এটার উদ্ভব হইয়াছে যুক্তরাজ্যীয় সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে।

যাই হোক আমার কল্পিত গল্পের সঙ্গে এক্সপাঞ্জ পদ্ধতির মিল হইল- যে বক্তব্য সংসদে বলা হইয়াছে, যা টেলিভিশনের সুবিধাতে হাজারো, লাখো, কোটি বাংলাদেশী দেখিতে পাইয়াছে, যাহার অনেকাংশে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইয়াছে তাহা এক্সপাঞ্জ করিবার মানে কি? এটা কল্পিত গল্পের রমণীকে শ্লীলতাহানী করার মত নয় কি? ওই নারীকে শ্লীলতাহানী করার পর তা বাতিল করা আর গালাগালি জনসমে প্রকাশ হইবার পর তা বাতিল করার মধ্যে আপনারা কী পার্থক্য খুঁজে পান জানিনা। আমরা ভন্ডরা কোন পার্থক্য খুঁজিয়া পাইনা।

সংসদে এমন প্রাণবন্ত ঝগড়াঝাটির পরে বঙ্গদেশের সুশীল সমাজ একটা ইস্যু পাইলেন। আবুল হোসেনের দপ্তর বদলের পর যাহাদের গলায় মরিচা পড়িয়া যাইতে ছিল তাহারা বিপুল উদ্যোমে সমালোচনা শুরু করিয়া দিলেন। তাহাদের সঙ্গে তাল মিলাইয়া আমরা ভন্ডরাও কীবোর্ড সামনে লইয়া বসিলাম। নইলে এই লেখাটি আসিল কী করিয়া! যাই যারা সুশীল সমাজ তারা সবার কাছ থেকে সুশীল আচরণ করেন। এইখানে একটি ভন্ডামি লুক্কায়িত আছে। ইহা অনেকটা বেগুণ গাছে আম ফলাবার ষড়যন্ত্রের মত। তবে এই ষড়যন্ত্রে আইএসআই ও র’য়ের (র চা নয়) অংশগ্রহণ আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই।

আমাদের ভন্ডদের কথা হল- বেগুণ গাছে বেগুণই ধরবে। আম নয়। তাই নারী সংসদ সদস্য হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের মুখ থেকে এর চেয়ে ভাল বক্তব্য আশা করা ভন্ডামির লণ। ওই নারীরা (সবাই নয়) তাহাদের অনেক কিছু বিসর্জন দিয়া পাতানো খেলার মাধ্যমে সংসদ সদস্য হইয়াছেন। শ্রুতিমধুর কিছু কথা শুনাইয়া পুরুষদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই তাহারা সংসদে গিয়েছেন। আর সেই দায়িত্ব পালনে তাহারা খুবই দায়িত্বশীল বলে প্রমাণ দিয়া কী অপরাধ করিয়াছেন যে সুশীল সমাজ বেগুন গাছে আম ধরাইবার ষড়যন্ত্র করিতেছে। আমরা নিখিল বাংলাদেশের ভণ্ডরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামীকাল প্রেসকাবের সামনে এনিয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ আরেকটি অন্যায় (রাস্তা বন্ধ) করিয়া প্রমাণ করিব আমরা ভন্ড।

নারীর মোতায়ন করিবার জন্যই আমরা সংসদে তাহাদের জন্য সংরতি রাখিয়াছি। তাহাদের নির্বাচিত হইবার প্রয়োজন হয়না। এক নারী সংসদের অন্য নারীদের প্রতিনিধি হইয়া যাইয়া আরেক নারীর হাসি নিয়া, চেহারা নিয়া সমালোচনা করে। তার কাজ নিয়া নয়। ওই নারী ডাইনি কিনা- তা দেশের করের টাকা খরচ করিয়া আলোচনা করে। ঢেকি স্বর্গে গেলে যে ধান বানে না, তার কোন প্রমাণ পাইলাম না।

সবশেষে আমার, নিখিল বাংলাদেশ ভন্ড সমিতির সভাপতির মনে বাংলাদেশের সংসদ ব্যবস্থাটাকেই ভন্ডামি মনে করিবার ইচ্ছা জাগিতেছে। কিন্তু আমি সেই ইচ্ছাকে প্রচন্ড শক্তি দিয়া, অনেক টাকা পয়সা খরচ করিয়া চাপিয়া রাখিয়াছি এই ভয়ে যে, সংসদ বন্ধ হইলে ক্ষমতাশালীদের এই চুলাচুলি দেখা বন্ধ হইয়া যাইবে।

এতসব দোষের মাঝে আমার গুরুচণ্ডালি দোষটা নিশ্চয়ই দোষের হইবে না। আর বিজিনিউজের ব্লগ টিমের প্রতি আমার আবেদন- আপনারা কোন বক্তব্য কারও ব্যক্তির প্রতি আক্রমণ হলেও তা প্রকাশ করিতে দিন। তারপর তা এক্সপাঞ্জ করুন। মহান জাতীয় সংসদে যে রীতি তা বিডিনিউজেও চাই। তবে এ আবেদন গ্রহণ না হইলেই বেশি খুশি হইব।