ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশের বিখ্যাত মানুষগুলোর কাজকাম যেমন আলাদা, তেমনি তাদের নামের বানানও আলাদা। সা’দত হোসেইন। শামসুর রাহমান। অথবা ড. মুহম্মদ ইউনূস। সেই আলাদা বানান মনে রাখিতে পত্রিকার লোকেরা গলদঘর্ম হয়, তাদের ঘাম শুকাইয়া লবন হয়, কিন্তু বিখ্যাতদের দয়া হয়না। তারা ব্যতিক্রমী বানানে নিজেদের নাম রাখিয়াই চলেন। ব্যতিক্রমী বানানে নাম তাহাদের পিতা-মাতারা রাখিয়াছিলেন, নাকি নিজেরাই রাখিয়াছেন তাহা জানা যায় নাই। জানিবার চেষ্টাও করা হয় নাই।

বানানটা একটু ব্যতিক্রমী রাখিয়া তাহারা হয়ত জাতির ঘৃণিত/নন্দিত একটি অংশ পত্রিকার লোকেদের একটু পেরেসানে রাখিতেছেন। কিন্তু কর্ম দিয়া জাতির উন্নতি করিয়াছেন, যাহা শ্রদ্ধাভরে জাতি স্মরণ করে, করিবে ও এবং করিতেছে। সা’দত হোসেনের সময়ে বিসিএস পরীা দিয়া আমার বন্ধুরা বিশেষ আনন্দ পাইয়াছে। দু’একজন এখন সরকারি ক্যাডারও হইয়া গিয়াছে। শাসসুর রাহমানের কবিতা আমাদের সঞ্জীবনী শক্তি জোগায়। ইঞ্জিন চলিতে যেমন ডিজেল লাগে, তেমনি জাতির মনন চলিতে সাহিত্য লাগে। ডিজেল দেয় কুয়েত/ ইরাক। সাহিত্য দেন শামসুর রাহমান, নজরুল/ রবি ঠাকুরেরা। এক সময় এদেশের সাহিত্য সরবরাহের সোল এজেন্ট ছিলেন শরৎ বাবু, মানিকবাবু, জীবননান্দ দাসেরা।

তাহারা গত হইয়াছেন। হালে বিশ্বখ্যাতদের তালিকায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি এদেশে ুদ্র ঋণের জনক; মতান্তরে এ ধারণার জনক নন, প্রসারক। যিনি এদেশের একমাত্র নোবেল জয়ী, মতান্তরে মার্কিনীদের চালের ঘুঁটি। একটা শ্রেণীর কীট আছে যাহারা নর্দমায় স্থান পায়না, সুশীলদের কাতারে নেই, সমাজে যাহারা ুদ্রঋণ বিতরণ করেনা অথবা এনজিও নামের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তাহাহের কোন সম্পর্ক নেই। এমন কিছু কীটের বিশ্বাস- ুদ্র ঋণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করিতে পারে নাই। তাহারা মনে করে, হিলারি বাংলাদেশকে যে ধমক দিয়া গেলেন তাহা দেশের জন্য তিকর।

এখন আমি, নর্দমার একটি কীট হিসেবে দু’একটি কথা বলিতে চেষ্টা করিব। আমি ভন্ড মানুষ। যুক্তিগুলো উদ্ভট লাগিতে পারে। কিন্তু বিবেচনা করিয়া দেখিবেন, ইহার মধ্যে সত্য লুক্কায়িত আছে কিনা। পছন্দ না হইলে পাল্টা যুক্তি দেখাইবেন। দয়া করিয়া গালি দেবেন না। আর যারা আমাকে কোন দলের সমর্থক বলিয়া বদ্ধ ধারণা পোষণ করিয়া লইবেন তাদের উদ্দেশ্যে বলিয়া রাখি, আপনি যে শার্টটা পরিতেছেন তাহাও একটি রাজনীতির অংশ। কেন শার্ট কেনা একটি রাজনীতির অংশ তাহা যে বুঝিতে পারেন না তাহার এই লেখাটি পরিবার প্রয়োজন নাই। কারন আমার কথাগুলো তার মাথার উপর দিয়া যাইবার সম্ভাবনাই বেশি।

মনুষ্য সমাজের সৃষ্টি হউয়াছিল ব্যক্তিগত সম্পত্তি রা করিবার জন্য। যখন সমাজে সম্পত্তির ধারণা তৈরি হয় তখন শক্তিশালীদের হাতে সম্পত্তি দখল হইবার ভয় থাকে। সমাজ তৈরী করিয়া কিছু নিয়ম করা হইল। মানুষ সামাজিক জীব হইল। ব্যক্তিগত সম্পত্তি রা হইল। বিশ্ব রাজনীতিতে একটা সময় জোর যার মুল্লুক তার নীতি ছিল। আলেকজান্ডার, চেঙ্গিস খান, নেপোলিয়ন, মুঘলরাসহ সকল রাজতন্ত্র সে চেষ্টা করিয়া রাজ্যের পর রাজ্য দখল করিয়াছে। মানুষের কাছ থেকে তার শেষ সম্বলটুকু কারিয়া নিয়া ভোগ দখল করিয়াছে।

জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে যখন ছোট রাষ্ট্রগুলোকে নিরাপত্তাহীন হল, যখন সাম্রাজ্যবাদীরা সারা পৃথিরীর সম্পদ লুটে নিতে পারল, যখন নিজেদেরই নিরাপত্তার প্রয়োজন হল- তখন গঠন করা হল জাতিপুঞ্জ/জাতিসংঘ। মূলত ওইসব সংগঠন তাদের হাতের মুঠোয়ই থাকল।

রাজতন্ত্রের যুগের শীর্ষ সাম্রাজ্যবাদী ইংলন্ডের পর দীর্ঘ øায়ুযুদ্ধ হল-পরবর্তী সাম্রাজ্যবাদী দাড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। যাকে আমরা আদর করে ‘ম্যারিকা’ বলে থাকি। এবং ওই দেশে যাওয়ার জন্য ছেলে বুড়ো সবাই মিলে ডিভি লটারি পূরণ করি। এই ম্যারিকা সাম্রাজ্যবাদের একটি নতুন ধারণা তৈরি করিয়াছে। সেখানে যুদ্ধ প্রধান বিষয় নয়; দরিদ্র দেশগুলোর বাজার দখল, তাদের রাজনীতি কব্জা করিয়া রাখা, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করিয়া রাখা ইত্যাদি এই সাম্রাজ্যবাদের ল্য। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যপি ম্যারিকা তাদের শাসন বহাল রাখতে চায়।

কিন্তু কোন কারন ছাড়া বোমা ফেলিয়া, মানুষ মারিয়াতো আর ল্যগুলো অর্জন সম্ভব নয়। তাই তারা বানাইল বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা। যার মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়া দেশগুলোর বাজার দখলের বন্দোবস্ত হইল। আর আমাদের মত দেশগুলোতে কাপড় সেলাইয়ের শিল্প দিয়া তারা মেশিন বানাইবার শিল্প নিজেরা রাখিয়া দিল-যাতে স্বনির্ভর কোনদিন আমরা না হইতে পারি।

আরেকটি মাধ্যম তারা তৈরি করিল যাতে রাজনীতি কব্জায় রাখা যায়। ইহা হইল সুশীল সমাজ ও এনজিও। ধনীরা ঐক্যজোট করিয়া দরিদ্রদের সাহায্যের নামে অর্থ দান করিতে শুরু করিলেন। এই অর্থ সরকারকে দেওয়া হইলনা। সরকারকে দেওয়া হইল ঋণ। কার্ল মার্কস বলিয়া গিয়াছেন, অর্থ যার নিয়ন্ত্রণও তার। ঋণ নিয়া সরকারগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকিল। আর অনুদান নিয়া সুশীলরা তাদের শেখানো মানবাধিকার, নারী অধিকার, এন্টি টোব্যাকো ক্যাম্পেইন ইত্যাদি চালাইতে লাগিলেন। এজন্যই দেশে যেখানে দুর্ঘটনায় বছরে লাখ লাখ মানুষ মারা যায় সেখানে এ নিয়ে একটি এনজিও কথা বলেনা। কিন্তু সিগারেট দমনে লোক দেখানো প্রচারণায় শত শত এনজিও আছে।

গণমাধ্যমের এজেন্ডা সেটিং সম্পর্কে যারা জানেন তারা ‘প্যাকেজ’ ধারণার সঙ্গে হয়ত পরিচিত হবেন। প্যাকেজ কথাটার মানে হল, পাঁচটা ভালো ভালো সংবাদের মধ্যে একটি নিজেদের ভাবধারার সংবাদ ঢুকিয়ে দেওয়া। যাতে মানুষ ওই সংবাদটির উদ্দেশ্য ধরতে না পারে। এেেত্র সাম্প্রতিক পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের/ মালয়েশিয়ার অর্থায়ন নিয়ে প্রথম আলোর ভূমিকার উদাহরণটি দেব। প্রথম আলো অনেক ভালো ভালো সংবাদ লেখে। এর মধ্যে একদিন লিখল মালয়েশিয়া অর্থায়ন করলে পদ্মাসেতুর সুদ ও অন্যান্য খরচ বেশি হবে। স্পষ্টতই প্রথম আলো বিশ্বব্যাংেকের প।ে এর কারন হইল- মতিউর রহমান সাহেবের স্ত্রী যে এনজিও পরিচালনা করেন তাতে বড় অর্থ দেয় বিশ্বব্যাংক। এছাড়া মতিউর রহমান কয়েকটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত। যেখানেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা আছে।

সারা বিশ্বে সুশীলরা যারা মানবাধিকারের কথা বলে, যারা নারীর মতায়নের কথা বলে তারা আমেরিকার বেশ প্রিয়পাত্র। এজন্য শিরিন এবাদিরা নোবেল পান। আমেরিকার শত্র“ প্রত্যেকটা দেশের সুশীলদের যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের নানা পুরষ্কার দিয়ে আমেরিকা হাতে রাখে। কোনদিন প্রয়োজন হইলে এরাই তাদের মিত্র হয়।

বাংলাদেশের ড. ইউনূস সাহেবকে নিয়ে ও গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে হিলারি খুবই চিন্তিত। মা’র চেয়ে মাসীর দরদ বেশি। কারন গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক এসব এনজিও বিদেশীদের টাকায় চলে। তারা হয়ত দেশের উন্নয়নের জন্য মিষ্টি মিষ্টি অনেক কথাই বলবে। কিন্তু আমেরিকা তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শুধু এদেশের উন্নয়নের জন্যই নয়। প্যাকেজের মধ্যে মোম সময়ে নিজেদের একটা উদ্দেশ্য ঢুকিয়ে দেওয়াই তাদের ল্য। সে ল্যটির বাস্তবায়নের চেষ্টা গত তত্ত্বাবধায়কের আমলে হয়েছিল।

কখনও ভুলে যাবেন না, যারা তেলের জন্য হাজার হাজার ইরাকিকে হত্যা করতে পারে তারা যখন মানবাধিকারের কথা বলে সেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বলে। আর এসব কথা বিদেশীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যারা বলে তারা বিদেশীদের ‘সোল এজেন্ট’।

তবে মূল ব্যর্থতা এদেশের রাজনীতিবিদদের। তারা এমন একটা সমাজ উপহার দিতে পারে নাই যেখানে বিদেশীদের মানবাধিকার বা অন্য কোন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন হইতনা। এমন সম রাষ্ট্র তৈরী করিতে পারেন নাই যেখানে ইউনূসের বিচার পেয়ে হিলারি ধমক দিতে একটু ভাবতেন। রাজনীতিবিদরা সুযোগ দেন বলেই সুশীলরা ঘাড়ে চড়িতে পারে।

এনজিও খাতে সবচেয়ে র্দুনীতি বেশি হয়। তথ্য অধিকার আইনে তাদের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই আইনটি বাস্তবায়ন নিয়ে তারা আর চেচায় না।