ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

শৈশব থেকেই নিদারুন কষ্টের মধ্যে বড় হইয়াছি। পরিবার থেকে দূরে থাকিয়া দেখিয়াছি মানুষের জীবন সংগ্রামের কষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়া, সাংবাদিকতার চাকুরি জুটাইয়া যখন আমি পুরো স্বাধীন তখন হিমুদের মত পাগলামি বহু করিয়াছি। ফলে শহুরে জীবনের কষ্ট অথবা পাগলামি জানতে হুমায়ুন আহমেদের বই পড়তে হয়না। আমার সাহিত্য পড়তে ভাল লাগে মূলত ভাষার কারনে, দর্শনের কারনে। আর শহুরে হিমু নয়, আমার পছন্দ ছিল শরৎবাবুর ভবঘুরেপনা।

যেটি ভাল লাগে সেটি বারবার পড়ি। ‘ঈশ্বর থাকে ওই ভদ্র পল্লীতে, এইখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবেনা’ এমন দর্শন যেখানে খুঁজিয়া পাই তা গ্রোগ্রাসে গিলিয়া ফেলি। আমার দুর্ভাগ্য যে হাল আমলের লেখকদের লেখা আমার পড়া হয়না অথবা পড়িনা। কিন্তু হুমায়ুনের বই না পড়িলে আজকাল আড্ডায় ভাত মেলেনা। তাই কয়েকটি বই পড়েছি। সেগুলোর নাম মনে নেই, মনে রাখার কোন প্রয়োজনও বোধ করি নাই। তবে প্রচন্ড আগ্রহ ছিল দেয়াল উপন্যাসটি নিয়ে।

তিনদিন গ্রামের বাড়িতে থাকার পরে ফিরিয়া আসিয়া জানিলাম দেয়ালের দু’টি অধ্যায় প্রথম আলোতে ছাপা হয়ে গেছে। এনিয়ে একচোট বিতর্ক হয়ে গেছে। সেই বিতর্ক হাইকোর্টে গিয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছে। সংশোধন না হইলে তা প্রকাশ করা যাইবেনা বলিয়া হাইকোর্ট বলিয়াছে। প্রশ্ন হল- এই বিতর্কে বইয়ের লেখক অথবা প্রকাশ কারনেওয়ালারা কি ব্যথিত হবেন? রাজনীতিটা এখানেই। পরে বলিতেছি। অনেকে হয়ত বোঝেন।

বলিউডে এক ধরণের এক্সট্রা শ্রেণীর শরীর সর্বস্ব নায়িকা আছে যারা মাঝে মাঝেই উল্টাপাল্টা কথা বলিয়া, কাজ করিয়া আলোচনায় থাকিতে চায়। সংবাদপত্রে ওইসব খবর পাঠের তালিকায় শীর্ষে থাকে। এগুলোতে মানুষ মজা পায়, সুরসুরি পায়, আনন্দ পায়না। আমাদের হুমায়ুনের লেখা পড়ে এমই হয়। তবে সব লেখা একই রকম নয়।

হুমায়ুন হয়ত বিতর্কিত তথ্য বা কাজটি তার দেয়াল উপন্যাসে ইচ্ছা করেই করেছেন। কারন তিনি বাজারটি সবচেয়ে ভাল বোঝেন, যতটা না সাহিত্য লেখায় মনোযোগী। বিতর্ক থাকায় এ উপন্যাসটি মানুষ এখন চালের চেয়ে বেশি কিনবে। হুমায়ুন ও প্রকাশকের পকেট ভারি হইবে। হোক না উপন্যাসটি পড়িয়া পাঠক আনন্দ না পাক। তাতে কি আসে যায়, বিক্রি তো প্রচুর হবে। নইলে হুমায়ুন আহমেদ কেন লিখিবেন ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব’। আবার যখন রিমান্ডের যুগ তখন কেন লিখিবেন ‘হিমু রিমান্ডে’। বাজারী চরিত্রের একটা সীমা থাকা উচিত। যদিও লোকটিকে শ্রদ্ধা করি তার ভাল অনেক লেখার কারনে।

বিতর্ক তৈরি করে বিক্রি বাড়ানোর এ কৌশলটা পুরোনো। ইউরোপে হরহামেশাই এটা হয়। বাংলাদেশেও এটা হয়। ‘নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই কিনে ফেলুন’-এমন বিজ্ঞাপন হরহামেশাই দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল- হুমায়ুনের কেন এমন বিতর্ক তৈরি করতে হবে। তিনি তো ব্যপক জনপ্রিয় এমনিতেই। নাকি এখন আরও বেশি টাকার প্রয়োজন। নাকি বিতর্ক তৈরির পেছনে আরও বড় রাজনীতি আছে?

থাকতেও পারে। কারন এখন বঙ্গবন্ধুই আওয়ামী লীগের একমাত্র সম্পদ। তার কারনেই বহু মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ অন্য কিছু বাকি রাখেনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যা নিয়ে তরুণ প্রজš§ বিভ্রান্ত। তাদের কাছে দেবতা হুমায়ুনের মাধ্যমে যে তথ্য দেওয়া হবে তাই তরুণ সমাজ বিশ্বাস করবে।