ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাস্থ্য

 

দিনটি ছিল বারে শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ। সকাল ৭টা ঢাকা থেকে বসের সঙ্গে প্রাইভেট গাড়িযোগে হইলাম বাহির জেলা নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে। নোয়াখালীর কল্যানদী নামক স্থানে পৌঁছে দুপুরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে রওনা দিলাম চৌমুহনী বাজারের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে জমিদারহাট নামক বাজারের প্রায় ২০-২৫ গজ পূর্ব দিকে প্রধান রাস্তার পাশে গাড়ী থেকে নেমে পড়লাম একটি ফ্যাক্টরী ভিজিট করবো বলে। যেখানে পুরাতন প্লাষ্টিকের বোতলকে মেশিনের দ্বারা কেটে টুকরো-টুকরো করা হয়, ফ্যাক্টরীর ভাষায় যাকে বলে চিপস্। এসব চিপস্ অতঃপর বস্তাভর্তি করে ঢাকা বা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা দ্বারা পুনরায় বোতল প্রস্তুত করা হয় বলে জানা গেছে।

আজ আমার লেখনির বিষয়বস্তু কিন্তু ফ্যাক্টরীর কর্ম পরিক্রমা নিয়ে নয়। যুব সমাজ যে কিভাবে ধ্বংস হচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে এভাবে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস করতামনা!!

যুব সমাজ ধ্বংসের নেপথ্যে ১
যুব সমাজ ধ্বংসের নেপথ্যে ২যুব সমাজ ধ্বংসের নেপথ্যে ৩

আমার সংযুক্ত করা ছবিগুলো দেখে সম্মানিত পাঠক আপনিও নিশ্চয়ই এতক্ষণে বিস্মিত হয়েছেন এবং আমার লেখার বিষয়বস্তুও অনুধাবন করতে পেরেছেন। আমি ও আমার বস দুজনেই স্তূপ করে রাখা এনার্জি ড্রিংকস্ নামে পরিচিত এসব খালি মোড়কের ছবি তুলছিলাম আর বসের ক্যামেরার টিপাটিপি দেখে ভাবছিলাম, বসও নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন এরুপ চিত্র দেখে। সম্মানিত পাঠক আপনারাই বলুন, বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে আছে কোন উপায়!!

এসব পানীয়তে বিরাট স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পন্ন বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকা স্বত্ত্বেও আমাদের যুব সমাজ দিন দিন তাতে আসক্ত হচ্ছেন; যার জন্য ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাত করণ ও বিজ্ঞাপন প্রচার বহুলাংশে দায়ি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলেছেন, বাজারে ৪২ ধরনের ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংকস্ রয়েছে, যাহার অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং যৌন-উত্তেজক উপাদান ভোক্তাদের গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রকাশক।

আমাদের যুব সমাজকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা জরুরীভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।