ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

এই প্রবন্ধের সবটাই আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে । আমার ব্যক্তিগত বিষয় যদি কেউ জানতে না চান তার জন্য না পরাই উত্তম ।
আমার জন্ম এক মুসলিম পরিবারে । সেই সুত্র ধরে ছোটবেলা থেকেই মসজিদে গিয়েছি, নামাজ পরা, কুরাআন পড়া শিখেছি । ধিরে ধিরে বড় হয়েছি, স্কুলে পরেছি । দিনের বেলা স্কুল, খেলাধুলা এবং রাতের বেলা পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম । ছোটবেলায় খুব একটা নামাজ পড়তাম না শুধুমাত্র শুক্রবারের জুম্মার নামাজ ছাড়া । আমি যখন নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন কিছু হাদিসের বই পড়তাম, বইগুলো আবশ্য আমার বাসায় ছিল । যেমনঃ মুকসুদুল মোমিন, ফাজায়েল আমল এই ধরনের । ছোটবেলায় বই পড়া এবং নতুন কিছু শিখার খুব ঝোক ছিল । তাই খুব মনযোগ দিয়ে বই গুলো পড়তাম । এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমি নামাজের প্রতি খুব আকৃষ্ট হলাম । নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করলাম আমাকে নামাজ পরতে হবে । তার কিছুদিন পর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুরু করি । এবং আমাদের বাড়ির সাথেই একটা মশজিদ ছিল সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বই নিতাম এবং পড়তাম । ইসলামিক ইতিহাশ এবং বিভিন্ন দুয়া, হাদিস এগুলো পড়তাম । আমাকে আমার পরিবারের কেউ উৎসাহিত করেনি এবং বারন ও করেনি । এটা ছিল সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা । আমি সম্ভবত একমাসের মধ্যেই নামাজের প্রতি সম্পূর্ণ মনযোগ দিলাম এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি আমি প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তাম(তাহাজ্জুদ নামাজ গভীর রাতে পড়তে হয়)। সেই দিনগুলো কতইনা শান্তিকর ও মধুর ছিল আমি বোঝাতে পারব না । আবার বলছি নামাজের প্রতি আমার আন্তরিকতা কিন্তু নবম শ্রেণী থেকে শুরু হয়েছিল । এই শুখকর দিন যাপিত করতে করতে আমি SSC পরীক্ষা দিলাম । SSC পরীক্ষার পর আমি একটা কওমি মাদ্রাশায় ভর্তি হলাম শুদ্ধভাবে কোরআন শিক্ষা করার জন্য । SSC এর পর তিন মাসের কোর্সে যা পারলাম শিখলাম । সেটা ছিল আমার মধ্যে ইসলামের স্বর্ণযুগ । আমি জানিনা আপনারা আমার কথা বিশ্বাস করবেন কিনা, আমি যখন হাঁটতাম, সাইকেল চালাতাম, বসে থাকতাম, শুয়ে থাকতাম, খেতাম, আসলে আমি যখন অবসর এক মিনিট সময় পেতাম আমি তখন জিকির করতাম । নামাজ, জিকির সব মিলিয়ে এত শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতাম যার জন্য এখনো লালশা হয় । আমি ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলাম । সব কিছু একই ধারায় চলতে লাগল ।

আমি ছিলাম বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র । তাই ইন্টারমিডিয়েটে পড়াশুনার প্রচণ্ড চাপ ছিল ।
আমার বাসা থেকে College টা বেশ দূরে ছিল তাই বন্ধুদের সাথে একটা রুম ভারা করে থাকতাম ।

আমার স্পষ্ট মনে আছে তখন ছিল রমজান মাস । আমি বাসা থেকে সাইকেলে করে আমার রুমের(রুম = ম্যাচ যেখানে বন্ধুদের সাথে থাকতাম।) দিকে যাচ্ছি । আর হ্যা সাইকেলে উঠলে আমার জিকির করাতো চলতোই । আমি যখন আমার আমার রুমের কাছাকাছি সেই মুহূর্তে একটা রিক্সা এর সাথে আমার সাইকেলের সংঘর্ষ হয় । সাইকেলের গতি ভালই ছিল এবং ব্রেক টাও খারাপ ছিল না । তাই আমি সাইকেলটি ব্রেক কষে থামিয়ে ফেলি । আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাইকেলের সাথে রিক্সার সংঘর্ষ টা খুব জোরে হয়নি । কিন্তু আমার সাইকেলের সামনের চাকাটি অর্ধ চন্দ্রাকৃতির হয়ে যায় ।
আমি সাইকেলের চাকার জন্য চিন্তিত ছিলাম না । কিন্তু এর একটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে প্রতিফলিত হয় । আমার মাঝে একটা চিন্তা জাগ্রত হয় ।
আমি ভাবতে থাকি, আমি সাইকেলে বসে সেই আল্লাহর জিকির করেছি, যিনি সর্ব শক্তিমান । আমি সেই আল্লাহর আরাধনা করি যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারি । সেই আল্লাহ কেন আমাকে রক্ষা করলেন না?

তিনি আমাকে রক্ষা করেন নাই নাকি রক্ষা করতে পারেননি?
আমি ভাবতে থাকি । যিনি আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন নাই তিনি কি করে আমার প্রভু হতে পারে?
আর আমি যেহেতু রক্ষা পাই নাই তার মানে কি আল্লাহ বলতে কেউ নাই?

আর আমি সাথে সাথেই একটা সিদ্ধান্ত নেই । আল্লাহ বলতে কিছু নেই । আমি নিজেই আমার নিজেকে রক্ষা করতে পারি । আমি ভাল না পড়লে আমার পরীক্ষায় ভাল ফল আসবেনা । আল্লাহ আমার খাতায় এসে লিখে দিয়ে যাবেন না ।
আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি আমি নিজেই আমার নিজের আল্লাহ । প্রাকৃতিক নিয়মেই এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড এবং আমার সৃষ্টি হয়েছিল । আমার রক্ষাকর্তা আমি, আমার প্রভু আমি, আমি নিজেই আমার নিজের রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারি ।
সেটা ছিল একটা ছোট্ট ঘটনা যার ক্ষত এখনো শুকায়নি ।

কেউ আমাকে প্রভুভক্তি শেখায়নি এবং কেউ নাস্তিকতা শেখায়নি । আমার জ্ঞান, আমার বুদ্ধি, আমার বিবেক থেকে আমি শিখেছি । আমার জ্ঞান, আমার শিক্ষা থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।
আমার সমগ্র জীবনে যা চেয়েছি, তাই করেছি । যেটাই করেছি বিশ্বাস এবং নির্ভরতার ভিত্তিতেই করেছি । এবং আমার জীবনে প্রতিটা কাজেই আমি সফল হয়েছি । যেটা চেয়েছি, সেটাই পেয়েছি কারন সবগুলোই ছিল বাস্তবতা এবং সাধ্যের ভিক্তিতে ।

একদিন একটা লাইব্রেরি এর সামনে দাড়িয়ে আছি একটা বই চোখে পড়ল । বইটার নাম হচ্ছে “You Can Win” বাংলায় “তুমিও জিতবে” । বইটা আমাকে প্রচণ্ড ভাবে আকৃষ্ট করল এবং সাথে সাথেই কিনে ফেললাম । বাসায় এসে যতক্ষণ বইটা পড়া শেষ না হল পড়তে থাকলাম । যতটা আগ্রহের সাথে বইটা কিনেছি পরেও ততটা ভাল লাগলো । তখন আমার মাঝে একটা চেতনার জন্ম নিল । সেটা হল, আমার চিন্তা = আমার কর্ম = আমার সফলতা ।
বইটা আমি মাঝে মাঝেই পড়তাম এবং বিশেষ বাক্য গুলোকে মার্ক করে রাখতাম এবং শেগুলো মাঝে মাঝে পড়তাম ।
এই বইটা আমার জীবনে একটা যুগান্তকারী ভূমিকার অবতারণা করেছিল । আমি যেভাবে বিশ্বাস করতাম এই বইটা আমাকে তাই শিখিয়েছিল । আমার বিশ্বাসগুলোও আরো কঠিন এবং মজবুত হয়েছিল । আমি সম্ভবত তখনো জানতাম না আল্লাহকে অবিশ্বাসকে নাস্তিকতা বলে ।

তবে আমার এই মানসিক পরিবর্তন আমি কাউকে জানাইনি । এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এবং আমার ব্যক্তিগতই ছিল । কিন্তু আমার কথা এবং আচরণে অনেক বন্ধু সেটা বুঝতে পেরেছিল এবং আমাকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিত । আমি কখনও কারো কথা কখনোই কানে নেইনি ।
এগুলো ঘটেছিল ইন্টারমিডিয়েট লাইফে । তারপর ইসলাম এবং নাস্তিকতা এই নিয়েই শেষ করলাম HSC.
তবে একটা জিনিস আমাকে প্রায়ই ভাবাত এবং এখনো ভাবায়, সেটা হচ্ছে আসলেই কি আল্লাহ নেই?
তাহলে এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড সব কিছু কিভাবে এলো? প্রাকৃতিক সবকিছু যেই নিয়মে চলে সেই নিয়মের কি কোন সৃষ্টিকর্তা নেই?

আর আমি যখন গভীরভাবে ভাবি তখন আমার কাছে একটা উত্তর আসে তা হল, আল্লাহ এবং সৃষ্টিকর্তা আছেন । এবং আমি প্রবলভাবে কোরআনকে আসমানি কিতাব বলে বিশ্বাস করি । কারন একজন মুহাম্মদের পক্ষে এই রকম একটা গ্রন্থ লিখা কোন ক্রমেই সম্ভব ছিল না ।
সুরা আল ইনশিরাহ পরে আমার মাথায় ফু দিলে আমার মাথা ব্যাথা ভাল হয় । আমি এটা কোন একটা হাদিসে পড়েছিলাম কিন্তু এটা সবসময় কাজ করে । (ইসলাম বিদ্বেষী দের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে)

তবে কোন ইসলামিক অনুষ্ঠান বা কোনও ইসলামিক আলোচনায় যোগ দেইনা । তবে কেউ ইসলামের বিপরীতে কথা বললে হয় তার সাথে চরম তর্কে জড়িয়ে পরি অথবা ১০০% নিরব থাকি । এটা সম্পূর্ণ মানসিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল । তবে মিথ্যাকে অথবা ধর্মের অশ্লীল আক্রমণকে প্রশয় দিই না ।

এই ব্লগে নিয়মিত লেখার ইচ্ছা পোষন করছি তাই নিজের ব্যপারে একটা প্রাথমিক ধারনা দিলাম ।

সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে
বিদায় ।