ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

(আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার জানতে না চাইলে, প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন)

2008 সালে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে, যখন একেবারে মুখ থুবড়ে পরি । ঐসময় প্রথম আলোর পাত্র চাই বিভাগটার খুব ভক্ত হয়ে যাই । অফিসে পত্রিকাটি হাতে নেওয়ার পর পরই শিরোনাম দেখে চলে যেতাম পাত্র-পাত্রী চাই বিভাগে তারপর রাশিফল বিভাগটা দেখে, অন্যান্য সংবাদ পড়াতাম ।

আজকে এই পোস্টের হেতু হচ্ছে, অনেকদিন পর একটা সংবাদ খুজতে প্রথম আলোর অনলাইন ভার্সনটা দেখছিলাম । হটাত্‍ করে পাত্র চাই বিভাগটা সামনে পড়ল । সবগুলো বায়োগ্রাফি পড়লাম সেই সাথে মনের গহীনের অতীতও ঘুরে এলাম ।

পাত্র-পাত্রী চাই বিভাগের ভক্ত হওয়ার কারণ:

ছোট একটা অফিস ছিল 5-6 জন কাজ করতো । হটাৎ এক কাল ঝরে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল । সময়টা 2008 সালের ফেব্রুয়ারী অথবা মার্চ ছিল । তখন অফিসে বসে মুভি দেখা, পত্রিকা পড়া এবং অফিস বয়সের সাথে খোশগল্প করা ছাড়া আর কোনও কাজ ছিল না । আমার এই পরিস্থিতিতে যারা পড়েছেন, তারাই আমার অবস্থা অনুভব করতে পারবেন । সে যাই হোক, তো ঐ সময় পাত্র পাত্রী বিভাগের অফার গুলো আমার ভালই লাগতো । যেমন বলা থাকতো, পাত্রী আমেরিকায় সেটেল্ড, ডিভোর্সড; সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছে, বিয়ে করেই স্বামীকে নিয়ে আমেরিকায় চলে যাবে । 😆 অথবা, গ্রামের গরীব নমাজী পাত্র চাই, পাত্রীর বয়স 45, পাত্রীর নামে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি রয়েছে । 😆 আরও অনেক আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে অফার দেখা যেত । আমি শুধু বয়স ছাড়া সবদিক দিয়েই মোটামুটি যোগ্য থাকতাম । তবে, মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপনের সাথে পাওয়া নাম্বার গুলোতে মিস কল দিতাম । এইভাবে দশ-পনেরো দিন চলে যাওয়ার পর অফিস পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নতি হল । কাজে কর্মে মনোযোগ চলে এলে, মিস কলের দুষ্টুমি বন্ধ হয়ে গেলো । তার এক-দুই দিন পর সময়টা আনুমানিক বিকাল চারটা কী পাঁচটা হবে আমি অফিস থেকে বেরুব এমন সময় একটা কল এল । কথা বলার পর বুঝা গেলো, ইনি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন । উনার কণ্ঠস্বর 20-22 বছরের কোনও রমণীর মতই শোনাচ্ছিল । কথা বেশি বলিনি 2-3 মিনিটের মধ্যেই কথা শেষ করে রেখে দিলাম । কিন্তু একটা আবহ, মাদকতা, দুষ্টুমি মনের মধ্যে কাজ করছিল । 😛 রাত্রে বাসায় ফিরে রুমের এক সহযোগীর সাথে গল্প করার সময় এই প্রসঙ্গও আসল । মনের মধ্যে একটা দুষ্টুমি উকি দিল, ঐ মহিলার নাম্বারে ছোট করে একটা মিস কল দিলাম । ভাবলাম, কল ব্যাক আসবে । অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর কল ব্যাক আসেনি শেষে নিজেই কল দিলাম কিন্তু ওপার থেকে রিসিভ হচ্ছে না ।

ভাবলাম, ঐ মহিলা বিরক্ত বোধ করছে, তাই হয়তো কল রিসিভ করছেনা । তারপর, ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম । রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মোবাইলে রিংটোনের পাশাপাশি ঐ মহিলার নাম্বার ভেসে উঠল । আমি ঘুম ঘুম কন্ঠে কথা বলছিলাম । সেদিন, পরিচয় পর্ব সাড়ার পাশাপাশি আরো অনেক কথা হল । এরপর থেকে, প্রায় প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমাদের কথা হতো । আমার এভাবে তিন মাসের মত আগলাম । এবার, দুজনেই দেখা-দেখির পর্বে যেতে চাচ্ছিলাম । জায়গা নির্ধারিত হল জিয়া উদ্যান, এবং জিয়ার মাঝারের পাশেই আমরা মিলিত হব । সময়, পোশাকের বিবরণও জানানো হল । আমি নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগেই উপস্থিত হয়ে উনাকে কল দিলাম, আমাকে জানালো “এইতো চলে আসছি, আরেকটু” । এইভাবে করে একঘণ্টা সময় নিল । আমি হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করছিলাম, ঠিক সেই সময় মোবাইলে ভাইব্রেসন, পকেট থেকে ফোন বের করি দেখি, সে কল করেছে । কলটা রিসিভ করে কানের সাথে লাগতেই কল কেটে গেলো, এর 20 সেকেন্ডের মধ্যে আবার কল এল আমি কানের সামনে নিয়ে হ্যালো….হ্যালো….হ্যালো….হ্যালো… বলে প্রায় 2-3 মিনিট যাওয়ার পর কলটি কেটে গেলো । আমি নিজে ফোন দেয়ার চেষ্টা করে উনার ফোন বন্ধ পেলাম । কেমন জানি একটা ভয়, আমার সারা দেহকে পুড়িয়ে দিচ্ছিল । বুঝতে পারছিলাম না কী করা দরকার । আমি একের পর এক ফোন দিয়েই যাচ্ছিলাম আর পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিরক্ত উদ্রেক কারি কথা গুলো শুনতে হচ্ছিল, “এই মুহূর্তে আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটিতে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না ।” এইভাবে আরো 2-3 ঘণ্টা জিয়া উদ্যানে পায়চারি করে ভগ্ন মন নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম । 🙁 ভাবছিলাম রাতে ঘুমানোর আগে ওর সাথে কথা বলতে পারব । কিন্তু কোনও কল আসলো না ।

সকল বেলা ঘুম থেকে উঠে মোবাইল একটা বার্তা দেখলাম । বার্তার অর্থগুলো এইরূপ: [তুমি বয়েসে আমার ছেলেরও ছোট হবে । তোমার সাথে যা হয়েছে তার সব ভুলে যেও, আজকের পর থেকে আমাদের আর কোনদিন কথা হবেনা ।] উল্লেখ্য, উনার ছেলে একজন পিতাহীন, প্রতিবন্ধী ছিল ।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প । আজকের বিবিধ বিভাগে আমাদের একটা ছোট এডস ছিল । তার পাশেই, পাত্র-পাত্রী বিভাগ দেখে এই পোস্টের চিন্তা করলাম ।]

পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।