ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জনতার রায়ে নির্বাচিত নতুন তিন নগরপিতাকে উষ্ণ অভিনন্দন ! ধন্যবাদ নির্বাচন কমিশন এবং কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার প্রতি ! প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সম্ভবত কর্মজীবনের শেষ সিটি নির্বাচনের আয়োজক কাজী রকিব আহমেদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা ! মানুষের স্মৃতিশক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভুলে যাওয়া কিন্তু ২৮ এপ্রিলের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্মৃতি ভূলে যাওয়া বস্তুত সম্ভব হবে না । দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতাকালীন সময়ে সিটি নির্বাচন সাধারণ মানুষের দ্বারে স্বপ্নের মত উপস্থিত হয়েছিল । এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রধান দু’টো দলের মধ্যে বিবাদমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দুরীভূত হয়ে আবার শান্তির পরশ লাগবে সর্বত্র-এমন আশায় মানুষ বুক বেঁধেছিল । নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী জয়ী হবে তা সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি । সাধারণ মানুষ শুধু চেয়েছিল একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন । অবশেষে গণমানুষের সে আশা গুঁড়ে বালিতে রূপ নিয়েছে । স্বপ্নের সম্ভাবনা ধরা দিল দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায় হয়ে । দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ভাষ্যমতে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সকল বিতর্কিত নির্বাচনকে পেছনে ফেলে ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে । সে ইতিহাস আলোর বিপরীতে অন্ধকারের ধারক হবে । যারা ৫ জানুয়ারীরর নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এতদিন নাক সিঁটকিয়েছেন তারাও মূলত বাকরুদ্ধ ।

সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে যে নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল তাতে সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বেশি রাজনীতিকরণ হয়েছে । দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানব্যক্তিদের কেউ আইনত তার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর বৈধতা পেয়েছিলেন আবার কেউ আইনত প্রচার চালাতে না পারায় নিয়েছেন কৌশলের আশ্রয় । তাতেও আপত্তি নেই, কিন্তু নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হলো না কেন ? দেশের শান্তিকামী মানুষের থেকে কেড়ে নেওয়া শান্তি ফিরে পেতে যে স্বপ্ন এঁকেছিল তা কেন হরণ করা হল ? কে নেবে এর দায়ভার ? স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা কি এ ভূমির মানুষ কোনদিন ফিরে পাবে না ? আর কত প্রহসন ? সরকারি দলের বক্তব্যনুযায়ী বিএনপির প্রতি মানুষ বিরক্ত । বিএনপিকে মানুষ বর্জন করেছে । শান্তিকামী মানুষ হিসেবে সরকারের সাথে ঐক্যমত হতে বাধা ছিল না কিন্তু বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সাথে এমন আচরণ কেন ? মানুষ যদি বিএনপিকে বর্জন করেই থাকে তবে নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহন শেষে তো সেটা স্বাভাবিকভাবেই প্রমাণ হয়ে যেত । অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হলো কেন ? বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন বুথে প্রবেশ করতে বাধা কিংবা থেকে বের করে দেয়া হল, জাল ভোটের মচ্ছবের আয়োজন কেন, কেন বিবিসি বাংলার প্রতিনিধি ফারহানা পারভীন পুলিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সামনেই অবিরাম জাল ভোট দিতে দেখবেন, ভোট গ্রহন আরম্ভ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই কেন ভোটাদেরকে ভোট কেন্দ্রে এসে শুনতে হবে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, নির্বাচন পর‌্যবেক্ষকরা কেন নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন ? বিএনপি না হয় রাজনৈতিক ইস্যূ তৈরি করার জন্য ভোট বর্জনের নাটক করেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক, সাবেক আওয়ামীলীগের আলোচিত সাংসদ গোলাম মাওলা রণি কেন ভোট বর্জন করলেন ? কেন তিনি লিখলেন, ‘ইয়েস ! বঙ্গ দেশে সকল রঙ্গ সম্ভব’ । সিপিডি কেন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ? বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাদের মুখে কেন নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে গুঞ্জন ? দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচারর‌্য্য, দেশবরেণ্য শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ । হোক তিনি একটি রাজনৈতিক দলের উপদেষ্টা তবুও তিনি কেন তার নাগরিক অধিকার প্রদান করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হবেন ? যারা এমন একজন গুনী মানুষের ছাত্র হওয়ার যোগ্যতা রাখে না তেমন সরকারী দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা বয়োঃবৃদ্ধ মানুষটাকে লাঞ্ছিত করা বোধহয় বড় বেশি গৌরবের নয়; বরং আমাদের সমাজের শৃঙ্খলা যে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে তার সুস্পষ্ট আলামত । উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব বেশি কঠিন নয় কিন্তু সৎ সাহস নিয়ে বুকে হাতদিয়ে সত্যের পূজারী হিসেবে কে এর যথার্থ উত্তর দিবে ? প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার যে ক্যামেরাগুলো ভাঙ্গা হয়েছে এবং যে সকল সাংবাদিকদেরকে আহত করা হয়েছে তাদের কাছে সম্ভবত আরও ভয়াবহ কিছু প্রমাণ ছিল কিন্তু ক্যামেরার কৃত্রিম স্মৃতির ভগ্নাংশ এবং আহত সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি হয়ত প্রাকৃতিক স্মৃতিকে মুছে দিতে না পারলেও চেপে রাখতে বাধ্য করবে দীর্ঘদিন । এতকিছুর পরেও নির্বাচনের যে স্মৃতি অবশিষ্ট থেকে গেছে তা অনেক উত্তর দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম ।

 

দেশে যে রাজনীতির ধারা ও ক্ষমতার চর্চা শুরু হয়েছে তাতে তিন সিটির নির্বাচিত মেয়দের দোষারোপ করা অনুচিত । তারা তাদের ছায়া প্রদানকারী রাজনৈতিক ব্যানারের নীতির সাথে তালা মিলিয়েছে মাত্র । সুতরাং তাদের সাথে সামিল হয়ে জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে তাদেরকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহন করে কিভাবে নগরের উন্নয়ণ করা সম্ভব তার পরিকল্পনা সাজানো যেতে পারে ! নতুন নগরপিতা হিসেবে যারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছেন তারা আগামী পাঁচ বছরের (সময়টা বেশিও হতে পারে) জন্য নগরের অভিভাবক । তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সম্পূর্ণ অংশ না হোক অন্তত কিয়দাংশ হলেও তারা যেন বাস্তবায়ণ করতে পারে তার নিশ্চয়তা তাদেরকে দিতে হবে । তাদের কাছেই নগরের মানুষের সুখ-দুঃখের একাংশ নির্ভর করছে । ভোটারদের মনজয় করতে নির্বাচনের পূর্বে মিডিয়ার সামনে যেভাবে ঝাড়ু হাতে ময়লা আবর্জনা ঠেলেছেন সেভাবে না হোক অন্তত সিটি করপোরেশনে যে সকল ঝাড়ুদার রয়েছে তাদের দ্বারা যেন নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ গ্রহন করেন তার নিশ্চয়তা দাবী করা যেতে পারে । বিশ্বের বাস অযোগ্য মেগাসিটিগুলোর মধ্যে আমাদের রাজধানী ঢাকা যেন দ্বিতীয় স্থান থেকে প্রথম স্থানে উন্নীত না হয়ে ওঠে সে দিকে একটু খেয়াল রাখা সময়ের দাবী । প্রার্থীরা নগরপিতায় আসীন হওয়ার মানসে সাধ্যের চেয়ে সাধের মাত্রা কয়েকগুন বেশি প্রকাশ করলেও নগরবাসী যেন নগরপিতার নৈতিক সাধ্যের যথার্থ সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাটুকু পায় । ক্ষমতাশীন দলকেও নির্বাচনের ব্যাপারে দোষারোপ করা যায়না কেননা তারা তাদের ক্ষমতা কাঠামোকে ধারাবাহিক করেছে মাত্র এবং এক্ষেত্রে তারা সুনিপূনভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে ! ভোটগ্রহনকালীন সময়ে এবং ভোটগ্রহন শেষে ক্ষমতাশীনদের অনেক নেতা ও সমন্বয়ক নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে যে সকল কথা বলেছেন তাতে নতুন করে অবাক হওয়ার মত কোন রসদ ছিল না বরং পুরানো বিস্মিত স্মৃতিকে পূনর্জীবিত করেছ মাত্র ।

 

নির্বাচন কমিশন তথা নির্বাচক মন্ডলীকে রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ বলা হয় । এ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা সুষ্ঠু গণতন্ত্র বিকাশের মূখ্য উপাদান । কোন ভয় কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভীত বা প্রভাবিত না হয়ে নির্বাচন কমিশনারদেরকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করা সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব । এ দায়িত্বপালনে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য সকল কমিশনারগণ কতটুকু নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছেন তা ইতোমধ্যে সর্বাংশে প্রমাণ হয়ে গেছে । নগরপিতাদের পিতার বয়সী প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয় ভোট গ্রহন শেষে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে যা বললেন তা অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন, তর্ক-বিতর্কের দাবী রাখে । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ সরকারের কাছে দায়বদ্ধ । এ সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে জবাবদিহী করতে বাধ্য এবং সকল মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৈফিয়ত দিতে বাধ্য কিন্তু নির্বাচন কমিশন কার কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য ? মানুষের যৌবনে একধরণের অদম্য শক্তি থাকে যার কারণে তখন কর্মের ক্ষেত্রে নৈতিকতা-অনৈতিকতা গৌণ ভূমিকা পালন করে কিন্তু মানুষ বৃদ্ধ হলে কি তার মধ্যে মৃত্যু পরবর্তী জিজ্ঞাসা বিষয়ক কোন ভীতি কাজ করা উচিত নয় ?

 

গত কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন, সিটি নির্বাচনের হাল-হকিকত দেখে সম্মানিত দায়িত্বশীলদের কাছে একটি প্রস্তাবনা রাখতে চাই । প্রতিটি নির্বাচনে রাষ্ট্রের অর্থ্যাৎ সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা খরচ হয় । আমরা চাই দেশের উন্নতি । উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক বিশ্বে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত লাভ করুক-এটা আমাদের স্বপ্ন-প্রত্যাশা । সুতরাং এত সংখ্যক (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশ) নির্বাচনের কোন দরকার নাই বলে মনে করছি । সে সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়না সে ধরণের নির্বাচন আয়োজন করে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা খরচ করার কোন অর্থ আছে বলে মনে হয়না । কাজেই যখন যে দল ক্ষমতা থাকবে তখন তারা তাদের পছন্দানুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে শুরু করে সিটির মেয়র পর‌্যন্ত মনোনীত করে নিলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় হবে অন্যদিকে তেমনি দেশের মানুষকে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বাক্ষীও হতে হবে না । ক্ষমতাসীনদল থেকে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বাছাই করা হলে উন্নয়নমূলক কাজও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কেননা অনেক সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক সম্পর্ক বিরোধপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকতে দেখা যায় । যদি প্রশ্ন তোলা হয়, সংসদ নির্বাচন ছাড়া অন্য সকল নির্বাচন তুলে নিলে জনগণ তার মৌলিক ভোটাধিকার প্রদানের সুযোগ বঞ্চিত হবে । এর উত্তরে প্রথমত বলতে হবে, জনগণ যখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি রায় দেবে তখন স্থানীয় প্রতিনিধি বাছাইয়ের কথা চিন্তায় রেখেই রায় দিতে পারে এবং দ্বিতীয়তঃ বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জনগণ কতটুকু তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে ?

 

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থির ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথটি বোধহয় দীর্ঘদিনের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই রুদ্ধ করে দেয়া হল । অতীতের সিটি মেয়রদের ভূমিকা, প্রয়োজনীতা এবং গুরুত্ব সবারই জানা । সিটি নির্বাচন কিংবা সমজাতীয় স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জনমতের যাচাই ছাড়া অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে প্রতীয়মান নয় । সিটি নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অতীতের মত হয়ত আবারও দেশবাসীকে চরমভাবে পিষ্ট হতে হবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের নামে দেশ ধ্বংসের মিছিলে । আন্দোলন আহ্বাবানের কারণে অতীতে যেভাবে কেবল বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছিল ভবিষ্যতে হয়ত তেমনি এককভাবে তাদেরকে দায়ী করার যৌক্তিতা থাকল না । সিটি নির্বাচনে অনিরপেক্ষতা ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় শান্তির কফিনে শেষ পেরেক বিদ্ধ করা হল । রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূরীকরণের সর্বশেষ সম্ভাবনুটুকুও আর জিইয়ে রাখা হলনা । মূল কথা, আমরাই আমাদের দেশের উন্নয়ণের জন্য প্রতিবন্ধক ।

 

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।

raju69mathbaria@gamil.com