ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

ছোটবেলায় মা-বাবা এবং আত্মীয়-স্বজন আদর করে চকলেট জাতীয় দ্রব্য কিনে খাওয়ার জন্য অনেক পয়সা দিত । কম পরিমানে চকলেট কিনে অবশিষ্ট পয়সা জমাতাম । এক সময় অনেকগুলো খুচরো পয়সার মালিক হয়েছিলাম । সারাদিন সে পয়সাগুলো শব্দ করে গুনতাম এবং সমবয়সীদের মধ্যে কিছুটা বাহাদুরী দেখাতাম । পয়সার জ্বালাতনে অতিষ্ট হয়ে একজন অগ্রজ বুদ্ধি দিলেন, পয়সাগুলো এমনি এমনি ফেলে রাখলে তো বাড়বে না বরং যদি এগুলো মাটির তলায় পুঁতে রাখো তবে পয়সা বহুগুনে বেড়ে যাবে । অগ্রজের পরামর্শকে উত্তম ভেবে আমিও সেই মতে পয়সার চাষ করলাম ! পয়সা বুঁনেছিলাম ঠিক কিন্তু লাভ তো দূরের কথা আসলগুলোও ফিরে পাইনি । বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও আমার পয়সার চাষের গল্পের মত । দিনে দিনে তার‌ল্যের পরিমান বাড়তে বাড়তে অলস টাকার পাহাড় হয়েছে । রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে । ব্যাংকে তারল্যের মজুদ থাকা ভালো কিন্তু সেটা যখন প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুন বেশি হয় তখন অতিরিক্ত অর্থ অনুৎপাদনশীল অর্থে পরিণত হয় । তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়শীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যাংকে অলস পড়ে থাকায় ইতিবাচক কোন ফল আসবে না বরং সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারীর মত নতুন কোন কেলেংকারীর জন্ম দিতে পারে ।

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের রিজার্ভ বহুগুন বেড়ে যাওয়ার অন্তরালে রাজনৈতিক অস্থিরতা দায়ী । গত তিন বছর ধরে ক্রমান্বয়ে ব্যাংকের তারল্য বেড়ে চলছে । এর প্রধান কারণ, দেশের মানুষ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৃহৎ অঙ্কের ঋণের আবেদন করছে না । শুধু সরকার ছাড়া উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঋণ কেউ নিচ্ছে না । ব্যাংকগুলোর যে পরিমান সুদের হার তাতে কেউ ঋণ নিয়ে টাকা অলস রাখলে রাতের আঁধারে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া তার জন্য অন্য কোন রাস্তা থাকবে না । ঋণ না গ্রহনের কারণ হিসেবে শুধু রাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশের মানুষ বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না । ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমাণ যেমন কমেছে তেমনি বিনিয়োগ বোর্ডে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন গত চারবছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে । একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বেসরকারী বিনিয়োগ অপরিহার‌্য । অথচ বিনিয়োগের হার যেভাবে কমতে শুরু করেছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা বারবার সতর্ক করছেন । ২০১২ সাল থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরিতায় দিনের পর দিন বিনিয়োগ নিম্নগতি সাধন করছে । ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সাথে কমছে যৌথ ও বিদেশী বিনিয়োগ । রাজনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে নিত্য গোলক ধাঁধাঁর সৃষ্টি হচ্ছে তাতে যে কোন সময় আবারও নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয় । গত কয়েকমাসের সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর তুলনামূলকভাবে দেশে একটি শান্তিময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনৈতিকতা ও ক্ষমতাশীনদের উগ্রতায় যে সম্ভাবনা উঁবে গেছে । কাজেই আপাতত কিছুটা স্থিতিশীলতা চললেও সেটা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না । অন্যদিকে যেটুকু রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেমন বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না তেমনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরও আস্থার সংকটও কাটেনি ।

 

বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোন দেশে বিনিয়োগের পূর্বে সে দেশের স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন । এরপর তারা যৌথভাবে অথবা সম্পূর্ণ এককভাবে বিনিয়োগ করেন । কিন্তু দেশের যা অবস্থা তাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাই যেভাবে বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছে না সেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাবে কিভাবে ? বিগত তিন বছরে অর্থ্যাৎ ২০১২ সাল থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ ব্যবস্থা ক্রমাগত নিম্নমুখী । পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সালে ব্যক্তিগত খাতের বিনিয়োগ ছিল ২২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা কমে ২০১৩ সালে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশে । এখান থেকে কমে ২০১৪ সালে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে । ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস যেভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দেশ অতিক্রম করেছে তাতে চলতি বছরে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমান যে বহুলাংশে কমে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । পত্রিকার মাধ্যমে দেশের ও বহিবির্শ্বের বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছে, রাজনৈতিক দলাদলি ও হানাহানীতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেকে ব্যবসার প্রতিকূল অবস্থা দেখে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন । রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যেও আংশিক বেড়েছে সরকারি বিনিয়োগের পরিমান । ২০১২ সালে সরকারিভাবে বিনিয়োগ হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ । সরকারী বিনিয়োগের পরিমান বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এতই অপ্রতুল যে যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হৃাসের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব । অর্থনীতিবিদরা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছে, ২০১৫ সালে সরকার বিনিয়োগ না বাড়ালে সামগ্রিক বিনিয়োগ শঙ্কার মধ্যে পড়বে । চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেশের অর্থনেতিক ব্যবস্থাকে যে পঙ্গু করে দিতে চলেছে তার প্রমাণ মেলে বিনিয়োগ বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন দেখে । বিওআই এর তথ্যমতে, ২০১১ সালে বিনিয়োগ বোর্ডে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছিল । ’’১২, ’১৩ সালে এটা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮৮ ও ৬৭ হাজার কোটি টাকায় । আশঙ্কাজনক অবনতির ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার কোটি টাকা । চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুঃ-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশী বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ । আর ২০১৪ সালের সালের শেষ ৩ মাসের (অক্টোঃ-ডিসেঃ) তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে বিদেশী বিনিয়োগের নিবন্ধন হৃাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ । বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশসমূহের তুলনায় এটা খুব কম পরিমানের বিনিয়োগ । অতীতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ না করলেও অন্তত বিনিয়োগ বোর্ডে তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম নিবন্ধন করে রাখত যাতে বিনিয়োগ করা মাত্রই বিদ্যুত-গ্যাস সংযোগসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাওয়া যায় । কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে এ উৎসাহও হারিয়ে যেতে বসেছে ।

 

বিনিয়োগ পরিস্থিতির এ ক্রমাগত অধপতনের ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাষ্ট্র । নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ার কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে । রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগ্রহ হারাচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের পর‌্যাপ্ত সরবারেরর অভাবে । এছাড়াও শিল্পবান্ধব অবকাঠামোর অভাব এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদেরকে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে । বিনিয়োগকারীদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের যথার্থ সরবরাহ না পেলে ভিন্ন পন্থায় উৎপাদন করতে হলে উৎপাদন খরচ বহুগুনে বেড়ে যায় । যাতে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে লাভ তো দূরের কথা মূলধন ফিরে পাওয়াই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় । সুতরাং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানো অযৌক্তিক নয় । বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও আর্থিক খাত মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল । তবে এ স্থিতিশীলতায় ভাটির টান শুরু হয়েছে । কেননা রাজনীতির সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক খুব গভীর । বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্মরণকালের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করছে । অতীতের সময়গুলো বোধহয় ভালোই কেটেছে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমত সহিষ্ণুতার অভাব ও নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড যেভাবে শুরু হয়েছে তাতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা প্রশ্নবিদ্ধ । রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিবেশের আলামত প্রকাশিত হচ্ছে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে । ব্যবসায় লোকসানের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমান ক্রমাগত বেড়ে চলছে । অন্যদিকে ব্যাংকিংখাতে তৈরি হচ্ছে নৈরাজ্য । এ নৈরাজ্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঋণগ্রহীতারা সুযোগ নিচ্ছেন । ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণের পরিমান ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ । মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে । অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি তথা তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া অন্য কোন খাতে প্রভূত কোন উন্নয়ণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না । তৈরি পোশাক শিল্পও নানামূখী জটিলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে । সর্বশেষ জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নতুন ধাক্কা । টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, কনসট্রাকশন এবং স্টিল শিল্প ছাড়া অন্যকোন শিল্পে তেমনভাবে বিনিয়োগ না হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারী দেশীয় শিল্প বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে । অন্যদিকে অতীতের তুলনায় প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত রেমিটেন্সের পরিমাণ কমেছে ১০ ভাগ । সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে যে মন্থরগতি চলছে তা প্রমাণিত । রাষ্ট্রের উন্নয়ণের অন্যতম ভরসা বিনিয়োগ খাতের দৈন্যদশার জন্য সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিরুদ্ধাচারণ দায়ী । বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের বেসরকারী বিনিয়োগ ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা দূরুহ হবে ।

 

সরকারের প্রতিশ্রুত ভিশন রয়েছে, বাংলাদেশকে উন্নয়ণশীল থেকে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার । অথচ তার জন্য যে পথ অনুসরণ করা দরকার তা পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বললে অত্যুক্তি করা হবে না । বিদ্যুতের স্বনির্ভরতা না হলে কোন দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ণ সম্ভব নয় । কেননা শিল্প-কারখানার চাকা ঘোরাতে বিদ্যুত অত্যাবশ্যক । বিদ্যুত উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জণের জন্য সরকার কাজ করলেও তাতে প্রকাশ পেয়েছে ‘ভানুমতির খেল’ । কুইক রেন্টালের মাধ্যমে সরকারের তোষামোদকারী এমন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুত উৎপাদনের দায়িত্ব দেওয়া হেয়েছে যারা সরকারের আকাঙ্খার হিতে-বিপরীত ঘটিয়েছে । গত বছরে সারাদেশে সৃষ্ট একদিনের বিদ্যুতবিহীন অবস্থাই প্রমাণ করে, আমরা আজও বিদ্যুতের জন্য পরনির্ভরশীল । তবুও আমাদের সকল দৈণ্যতা আমাদেরকেই ঘোচাতে হবে । স্বপ্নে অঙ্কিত সোনার বাংলাদেশের চিত্রকে বাস্তবায়িত করতে হলে সর্বাগ্রে রাজনৈতিক স্থিরতা আনয়ণে উদ্যোগী হতে হবে । রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা । একমাত্র গণতন্ত্রই সকল প্রকার দলাদলি ‍মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নিশ্চয়তা দিতে বদ্ধপরিকর । এজন্য প্রথমেই দরকার সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতার পূর্ণ বাস্তবায়ণ । দেশের চলমান অবস্থায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেখানে আস্থাহীনতায় ভূগছে সেখানে বিদেশীদের আস্থার সংকট দ্রুত করতে দেশকে অনেক ধরণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে । সুতরাং দায়িত্বশীল ও বিরোধীপক্ষ যদি আন্তরিক হয় তবে সকল প্রকার বিভেদ ঘুচিয়ে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মনযোগ আকর্ষণ করা অসম্ভব নয় । নিম্ন পারিশ্রমিকের কারণে চীন তার অভ্যন্তরে বিদেশী বিনিয়োগ গ্রহনের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে । বাংলাদেশের জন্য এটা সুবর্ণ সুযোগ । এজন্য সকলের সহযোগীতা ও আন্তরিকতা একান্ত কাম্য । এক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা ভালো এবং বিদেশীদেরও বাংলাদেশের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে । সুতরাং এ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত । গ্যাস-বিদ্যুত, অবকাঠামো, ব্যাংকের তারল্য, খেলাপি ঋণের পরিমান ও সুদের হারের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ণ সম্ভব ।

 

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।

মঠবাড়ীয়, পিরোজপুর ।

০১৭২৮৪৬৫৪৫৫

raju69alive@gmail.com