ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

পৃথিবীর বুক হইতে কৃষ্ণাঙ্গ ও শেত্বাঙ্গের ব্যবধান কাগজে কলমে আনুষ্ঠানিকভাবে দূর হইয়াছে। এ আন্দোলনের অগ্রভাবে যাহারা ভূমিকা পালন করিয়াছেন তাহাদের মধ্যে আব্রাহাম লিঙ্কন, নেলসন ম্যান্ডেলাদের নাম শ্রদ্ধার সাথে চিরকাল উচ্চারিত হইতে থাকিবে। ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করিয়া আমাদের দেশে সাদা-কালোর ব্যবধান লইয়া তেমন কোন বিবাদ দেখা যায়নি কিন্তু বর্ণবাদের যে মূল বৈষম্য তা থেকে কি আমরা আদৌ বের হইতে পারিয়াছি? অলিখিত ঘোষণার মাধ্যমে প্রচলিত রহিয়াছে, নাটক-সিনেমা কিংবা উপন্যাসের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের শরীরের চামড়া কালো হইতে পারিবে না! অভিনয়ে স্বকীয় গুনের মাধ্যমে কালো চামড়ার কোন শিল্পী যদি কোনক্রমে জনপ্রিয় হইয়াও বসে তবুও সে জনপ্রিয়তা স্থায়ী হয়না। কালোবর্ণের একটি ছেলে বা মেয়ে তার জন্মদাতা বাবার কাছেও মাঝে মাঝে বিরক্তির ঠেকেন বলিয়া ভূরি ভূরি প্রমান রহিয়াছে । পরিবার এবং সমাজসৃষ্ট কুপ্রথার কারণে কালো মেয়েটি নিজেকে লুকাইয়া রাখিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়া চলিতেছে । একজন কালো মা তাহার সন্তানের জন্য একটি কালো মেয়েকে বউ হিসেবে মানিয়া লইতে একেবারেই নারাজ। কালো বোন তার ভাইয়ের জন্য কালো ভাবী বাছাইয়ে বিরোধিতা করিতেছে। বন্ধুত্ব কিংবা সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও শ্বেত ও কৃষ্ণ বর্ণের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য পরিলক্ষিত হইতেছে। মানুষের মানসিকতা এমন হইয়াছে যে, কার মন কি রকম সেটা বিবেচনার পূর্বেই বিবেচনা করা হইতেছে শরীরের সফেদ ত্বক।

সময় এসেছে বোধহয় মানসিকতা বদলানোর। একটি কথা বলা উচিত হইতেছে না জানি তবুও বলতেছি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুসারে, সাদা গাত্রের চেয়ে গৌড় বর্ণধারীরা বেশি গুনের অধিকারী। মানবতাবোধেও তারাই এগিয়ে। তবে কথা হইতেছে, প্রত্যেক মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়। মানুষ বিবেচনায় ধনী-গরীবে যেমন বৈষম্য রাখা উচিত নহে তেমনি গাত্রবর্ণের বৈষ্যেকেও সমাজ থেকে লাথি-ঝাঁটা মারিয়া বের করিয়া দেওয়া একান্ত আবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে। আফ্রিকা মহাদেশের কোন নিকষ কালো মানুষ যখন আমাদের দেশে বেড়াইতে বা ঘুরিতে আসেন তখন তাহাদের দেখিয়া আমরা নাক সিঁটকাই অথচ ঐ মানুষগুলোই তাহাদের পরিবেশের শ্রেষ্ঠ-সুন্দর মানুষ। ত্বকের সাদা-কালোর মাধ্যমে স্মার্টনেস নির্ধারন করা যায়না বরং মূল স্মার্টনেস বিবেচনা হয় উত্তম মানবিক বৈশিষ্ঠ্য ও সুন্দর একটি মনের সমন্বয়ে । এক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো ছাড়া কোন বিকল্প আছে বলিয়া অনুভব হইতেছে না । প্রকৃত মানুষ দাবীদার কেহই শরীরের চামড়ার সাদা-কালোর বিবেচনায় মানুষের মধ্যে বিভাজন করিতে পারেনা কিংবা পারা উচিতও নহে।
.
.facebook.com/raju69mathbaria/