ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সিলেটের রাজনের পর এবার খুলনার রাকিব… একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র ! মিষ্টি চাহনির রাকিবের মায়া ভরা মুখ পাষন্ডদের হৃদয়ে এতটুকু মায়ার জন্মদিতে সক্ষম হয়নি। পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিন লাগিয়ে পেটের ভিতর হাওয়া ঢুকিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই পৃথিবীর বৃন্ত থেকে ওরা ছিড়ে নিলো আরেকটি ফুল । রাজনের মৃত্যুর স্থিরচিত্র দেখে বুকে রক্তক্ষরণ হয়নি কিংবা চোখের পানি ঝড়েনি এমন মানুষ বাংলার বুকে একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ ! সিলেটে নরপিশাচদের হাতে রাজনের মৃত্যু এবং রাকিবকে হত্যার খবরে গোটা দেশ কম্পিত হয়েছে। মানবতা আবারও নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে, ডুকরে কেঁদেছে।

রাজন-রাকিবের পূর্বে এদেশের আর কোন শিশু এদের মত ভাগ্যবরণ করেনি সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়না । তবে রাজন এবং রাকিবের হত্যার খবর মিডিয়ায় আসার সূত্রে আমরা তাদের হত্যার প্রতিবাদ করেছি, বিচার চেয়েছি। তবে লক্ষ্যনীয় যে, নিয়ত আমাদের মানবতাবাদী শক্তি দূর্বল হয়ে যাচ্ছে, প্রতিরোধের স্বর নিচু এবং বিবেকবোধ ভোতা হচ্ছে । শিশু রাজনের হত্যায় সংবাদে প্রতিবাদমূখর হয়ে যেমন সমগ্র দেশ জেগেছিল তেমনভাবে সাড়া আসেনি রাকিবের হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে । ভবিষ্যতে অন্য কোন শিশু রাজন-রাকিবদের ভাগ্যবরণ করলে হয়ত আমরা সে খবর শুনেই কান ফিরিয়ে নেব; এটাই যে আমাদের অভ্যাস।

রাকিবের মা সন্তান হারিয়ে যেভাবে আহাজারি করছে সেটা গোটা দেশের মানুষের চিত্র হওয়া উচিত ছিল কিন্তু রাকিব-রাজনের দূর্ভাগ্য; আমরা যে আপন স্বার্থান্ধ । রাকিব হত্যার বিচার হবে কি হবে না সেটা সময় বলবে কিন্তু রাজনের হত্যাকারীদের বাঁচাতে যেমন সিলেটে কর্মরত জনকয়েক পুলিশ সদস্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেমন কোন পুলিশ সদস্য খুলনায় নাই এ কথা কে নিশ্চিত করে বলতে পারে ? আজ অপরাধকর্মে জড়িত এদেশের আসামীদে পাকড়াও করতে হয় সাধারণ মানুষের অথচ যারা আইনের প্রয়োগকারী তারা দর্শকের ভুমিকায়। ক্রসফায়ারে দু’চারজন নিরীহ মানুষ জীবন হারাতে পারে অথচ রাজন-রাকিবের হত্যাকারীদের দিকে কারো অস্ত্রের নল তাক হয়না ! আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা রাজনের বেলায় সরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, রাকিবের হত্যার খবর শুনে আহ ! শব্দ উচ্চারণ করেছি কিন্তু ভবিষ্যতে আহ! শব্দটিও উচ্চারণ করবো কি?

রাজন-রাকিবের জন্য কারো দোষ নাই ! দোষ ওদের কপালের ! কেন ওরা গরীব পিতা-মাতার অসহায় সন্তান হয়ে জন্মেছিল? মানবতার ধ্বনি আজ অস্তমিত এবং মানবাধিকার রক্ষাকারীদের আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ এখন হিমাগারে বিশ্রামরত । গরীবের আবার কিসের মানবাধিকার ? কারো কারো ভাব দেখে মনে হয় তারা বলতে চাচ্ছে, ওরা মানুষের স্বীকৃতি পাচ্ছে এটাই তো ওদের সৌভাগ্য ! গরীবের পক্ষে যে নজরুল ইসলাম উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ করেছিলেন সে কিংবা তার মত তো আর কোন সৎসাহসী আমাদের মধ্যে অবশিষ্ট নাই । কে আজ সাহস করে বলবে, ‘লেখা হয় যেন আমার রক্ত দিয়ে ওদের সর্বনাশ’ । রাজন কিংবা রকিব ওদের হত্যার বিচার হলেই কি বা না হলেই কি! …অপেক্ষা করুণ যেদিন আপনার সন্তান, ভাই রাজন-রাকিবের কাতারে শামিল হবে সেদিন প্রতিবাদ করবেন! রাজন হত্যার মাসাবধিকাল পরে রাজনের মা-বাবা মানবাধিকার কমিশনের কর্তাবাবুর মুখ দর্শন করতে পেরেছিল হয়ত রাকিবের বাবা-মাও এ সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে না!

 

রাজু আহমেদ। কলামিষ্ট।
facebook.com/raju69mathbaria/