ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

চলতি বছরের ৪র্থ নম্বরের মুক্তমনা হিসেবে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর একটি বাসায় খুন হলো নিলয় নীল নামের একজন ব্লগার। অতি ক্ষুদ্র একজন ব্লগার হিসেবে হত্যার শিকার হওয়াদের প্রতি আমার সহানুভূতি অবশ্যই থাকা উচিত এবং সত্যি বলতে যতটুকু থাকা উচিত তার চেয়ে কোন অংশে কম নাই । তবে দ্বিধায় রয়েছি কেননা, তাদের প্রতি সহানুভূতির গভীরতা কতটুকু হওয়া উচিত তা কিভাবে নিরূপন করি ? দেশের অন্যান্য হত্যাকান্ডের তুলনায় আনুপাতিক হারে ব্লগার হত্যার সংখ্যা কি খুব বেশি? যেহেতু খুন হওয়া ব্লগাররা মুক্তমনা দাবিদার তাই তাদের প্রতি সবার দৃষ্টি একটু আলাদা কিন্তু দেশের অন্যান্য পেশাজীবিদের মধ্য থেকে যতগুলো মানুষ খুন হয়েছে তার তুলনায় এটা কি কোন সংখ্যার মধ্যে পড়ে? মানুষ হিসেবে প্রতিটি মানুষের প্রতি অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাকে নিভৃতে কাঁদায় । ব্লগার নিলয় নীলও যেহেতু মানুষ তাই তার জন্য সমবেদনা রইল কিন্তু যুক্তির বাইরে গিয়ে তার জন্য কাঁদতে পারছি না বলে দুঃখিত।

এখন পর্যন্ত যে কয়জন ব্লগার খুন হয়েছে তারা তাদের জীবদ্দশায় এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের প্রত্যেকের অনুসারিরা দাবি করেছে তারা ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে এ দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করি কিন্তু যে ব্লগাররা ইতোপূর্বে খুন হয়েছে তারা ধর্মের কতটুকু জানতেন? আর ধর্মের সমালোচনা বলতেই তাদের মস্তিষ্ক থেকে কেন শুধু ইসলামের মিথ্যা সমালোচনা বের হত?

পৃথিবীতে যতগুলো ধর্ম-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তার প্রত্যেকটির বিপুল পরিমান সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে । তাদের সবাই মানসিকতা একরুপ হবে এমনটা আশা/দাবী করা আর স্বর্গে বসে ঢেঁকিতে পাড় দেয়ার আশা করা সমজাতীয় । প্রত্যেকটি ধর্মের অনুসারীদের কাছে তাদের ধর্ম শুদ্ধ ও সঠিক । কাজেই যখন সে ধর্মের ব্যাপারে কেউ মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করে কিংবা যুক্তির নামে বিদ্বেষ ছড়ায় তখন তা ধর্মের বিরুদ্ধে গেলে কলম চর্চাকারীদের ওপর খড়গ আসবে সেটা তো জানা কথা তাই বুদ্ধিমানরা অনেক আগেই একটি ভিন্ন যুক্ত দিয়ে সব ব্যাপারে ঢালাওভাবে সমালোচনা করতে নিষেধ করেছেন ।

ব্লগার হত্যার পূর্বা-পর সরকারের এ বিষয়ে অবস্থান বেশ রহস্য জনক মনে হচ্ছে । তারা কি ব্লগারদের পক্ষে না হত্যাকারীদের পক্ষে তা স্পষ্ট নয় । তাদেরকে যে কোন একপক্ষে অবস্থান করতে হবে । হয় তারা ব্লগারদের মুক্ত চর্চার নামে আবোল-তাবোল বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন নতুবা যারা ব্লগারদের হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবেন । আপাতত সরকারকে এর কোন অবস্থানেই দেখা যাচ্ছে না ।

প্রত্যেকবার ব্লগার হত্যার পর উপমহাদেশের তালেবান-আলকায়েদা দাবীদাররা দাবী করছে তারাই হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে । তবে কি এদেশেও তালেবান-আলকায়োদা ঢুকে পড়েছে নাকি কোন ফায়েদা পার্টি এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তা গভীর ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত । কিন্তু কাজটা করবে কে ? ফেব্রুয়ারী মাসে হত্যার শিকার হওয়া অভিজিৎ রায়ের হত্যা তদন্তে এফবিআই এসে ঘুরে যাওয়ার পর যখন এদেশের পুলিশ দাবী করে তাদের কাছে হত্যাকারীদের কোন ক্ল্যু নাই তখন আর সাধারণ মানুষের কিছু বলার থাকে কি ! দর্শক মোরা দর্শক !! আর কি বলার আছে ?
রাজু আহমেদ। কলামিষ্ট।
facebook.com/raju69mathbaria/