ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

শহরের ইট পাথরের অট্টালিকায় বন্দি জীবন, অবিরাম চলতে থাকা যন্ত্রের চাকারসাথে তাল মিলাতে কিংবা যানবাহনের কান ফাটানো ভেঁপু আমাদের প্রত্যাহিকজীবনাচারকে অতিষ্ঠ করে তোলে । তবুও আমরা নিরুপায় কেননা জীবন ও জীবিকারতাগিদে মনের বিরুদ্ধে আবদ্ধ থাকতে হয় শহরের গন্ডিবদ্ধ জীবনে । একসময়যান্ত্রিক গতির সাথে তাল মিলাতে মানুষও রোবটিক আচরণ করতে শুরু করে । কিন্তুএভাবে কতক্ষণ ? মানুষের দ্বারাই যন্ত্রের আবিষ্কার তবুও যন্ত্রের প্রচন্ডগতির সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের চলার প্রাণশক্তি অবিরামভাবে কতক্ষণ অবশিষ্টথাকে ? সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শুধু খাদ্য গ্রহনই যথেষ্ট নয় । ক্রমস্থূলতায় ধাবমান দেহতে নতুন করে প্রাণশক্তি সঞ্চারের জন্য ভ্রমন কিংবা বায়ুপরিবর্তনের ভূমিকা অনস্বীকার্য । আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও চিকিৎসকরারোগীকে সুস্থতা ফিরে পেতে বায়ু পরিবর্তনের পরামর্শ দেন । তাছাড়া কিছু কিছুবিশেষ বিষয়ের জ্ঞান অর্জনে পুস্তিকা অধ্যয়ণের চেয়ে প্রাকৃতির সঙ্গ অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । শহরের গদবাধা জীবনকাঠামো যখন জীবনকেহাঁসফাঁস করে তোলে তখন কিছু সময় প্রাকৃতির সঙ্গ শুধু দেহের মধ্যে কাজ করারনতুন উদ্যমতা ফিরিয়ে দেয়না বরং মন-মেজাজকে সতেজ-ফুরফুরে করে তোলে ।প্রত্যেকটি শহর থেকে কিছু দূরত্বে মানুষ সৃষ্ঠ কিংবা প্রাকৃতির অপারলীলাভূমি আমাদেরকে আনন্দ দিতে সদা প্রস্তুত । আমাদের দায়িত্ব শুধু এগুলোখুঁজে বের করে সেখান থেকে উপকার লাভ করা । শহরের জীবনের অত্যাচার থেকেসামান্য সময় বিশ্রাম পেলে মানুষকে যে জায়গাগুলো সাধারণত আকর্ষণ করে তারমধ্যে অরণ্য, পাহাড়, সাগর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য । শহরের রুক্ষ বায়ুরপ্রাণহীন জীবন ছেড়ে কয়েক ঘন্টার জন্য শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেগিয়ে আজ যে প্রশান্তি পেলাম তা ভালোথাকার শুণ্য ভান্ডারটিকে ভালোলাগায়পূর্ণ করে দিয়েছে । আফসোস হয়েছে, অতীত সময়ের জন্য যখন খুঁজে পাইনি এমনআনন্দের মূহুর্ত । ছুটির দিনে, স্বল্প খরচে যে এত আনন্দ হৃদয়ে জাগিয়ে তোলাসম্ভব তা সত্যিই এতদিন অকল্পনীয়ের চাদরাবৃত ছিল । তবুও বাস্তবতায় যে পেয়েছিতাকে আর কল্পনার জগতে ঠাঁই দিতে চাই না ।
.
.
বাংলার ভেনিসখ্যাত শহর বরিশাল । দেশের ভৌগলিক সীমারেখায় সর্ব দক্ষিণের এটি একটি বিভাগীয়শহর । কীর্ত্তনখোলা নদীর তীরে বিভাগীয় শহরের প্রাণ কেন্দ্রটি গড়ে উঠলেওঅসংখ্য বিখ্যাত ও বৃহৎ নদী-খাল জালের মত ছড়িয়ে আছে বরিশালের সর্বত্র ।প্রাকৃতির অপার লীলাভূমি তথা সাগরকণ্যা খ্যাত কুয়াকাটার সুনাম শুধু দেশেরগন্ডীতে নয় বরং গোটা বিশ্বজুড়ে । এছাড়াও এ বিভাগে আরও হাজারও দর্শণীয় স্থানরয়েছে যেখানে প্রত্যহ হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণা ঘটে এবং তারাতৃপ্তিভরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হয় । বিভিন্ন দিকবিবেচনায় সমগ্র বিভাগটিকেই প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সৌন্দর্যেরতীর্থভূমি বলা চলে তবুও কিছু কিছু স্থানের বিশেষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যেইসেগুলোকে আলাদাভাবে সুন্দরের দাবীদার বানিয়েছে । আজ বরিশাল সদর থেকে মাত্রকয়েক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তিনটি বিখ্যাত ও নান্দনিক স্থানেরসৌন্দর্য তুলে ধরবো যে স্থানগুলোকে আমি মাত্র কয়েকঘন্টা পূর্বে পরখ করেএসেছি । যদিও উপভোগ করা প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করেবোঝানোর ব্যাপার নয় তবুও সাধ্যমত চেষ্টা থাকবে । তবে আমার কথার সত্যতাযাচাই করার জন্য হলেও একবার নিম্নে উল্লিখিত স্থান তিনটি ভ্রমন করুন ।নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনার মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র প্রেম, প্রকৃতির প্রতি টানথাকে তবে ভালো না লেগে কোন উপায় নাই ।
.
.

এক. চাখারে শেরে বাংলা জাদুঘর-

.
.
বরিশাল শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল তথা নথুল্লাবাদ বাস স্টপেজ থেকে বাস কিংবা মাহিন্দ্রাসহ সকল প্রকার যা্ন্ত্রিকবাহনেবরিশাল-বানারীপাড়ারুটে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে চাখারে পৌঁছা যায় । এজন্য যানবাহনে চরেগুয়াচিত্রা নামক স্থানে নেমে রিকশা কিংবা ভ্যান যোগে শেরে বাংলা জাদুঘরেযেতে হবে । যদিও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এ জাদুঘরটির স্বীকৃতি মেলেনি কিংবাআনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনও হয়নি তবুও খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ জাদুঘরটিনিয়ন্ত্রন করছে । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শেরে বাংলা একে ফজলুল হকেরবাসভূমি অবলোকন করতে এবং চাখার কলেজ উদ্ভোধন করতে এসে বাংলার বাঘ খ্যাতফজলুল হকের স্মৃতি চির অম্লান রাখার মানসে এ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। বাংলার ভূমিতে জন্মগ্রহনকারী মাত্র ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ওনেতারও যদি তালিকা করা হয় তাতেও যে ব্যক্তির নামটি তালিকার শীর্ষের দিকেস্থান পাবে তিনি দক্ষিণ বাংলার গর্ব শেরে বাংলা একে ফজলুল হক । তাকে বাদদিয়ে বাংলার ও বাঙালির ইতিহাস লেখার সাধ্য আছে এমনটা কেউ কোন কালেই দাবীকরতে পারবে না । বিপুল দেহাকৃতির কারণে নয় বরং জ্ঞান-গরীমা, অনলবর্ষী ভাষণতাকে বাংলার বাঘ খেতাবে ভূষিত করেছে । বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতিবঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু শেরে বাংলার আবাসভূমি দেখা শুধু সৌন্দের্যদর্শনের দাবীতে নয় বরং এখানে আমাদের ইতিহাসেরও দায় রয়েছে । বৃটিশশাসানামলের শেষাংশ, পাকিস্তানের শাসনামল জানতে হলে শেরে বাংলার ইতিহাসেরওপর অবশ্যই নির্ভরশীল হতে হবে । যদিও মহান ব্যক্তির স্মৃতি সংরক্ষনেরকেন্দ্র হিসেবে এ জাদুঘরটি ততোটা সম্মৃদ্ধ নয় তবুও শেরে বাংলার নিজভূমিতেতার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, হাতের লেখা ও পারিবারিক পরিচিতি দেখতে ও জানতেচাখারে ছুটে আসতে হবে । এখানে এলে একজন মহান শাসক ও নেতার কৃতীর সাথেসরাসরি পরিচয় ঘটবে । এদেশের প্রেক্ষাপটে উত্তরসূরী ছাড়া পূর্বসূরীরর অবদানস্থায়ীকরণ সম্ভব নয় । জাদুঘরের অসম্মৃদ্ধতা প্রমাণ করে, শেরে বাংলারবংশগতির সূত্রের উত্তরাধীকারীরা তার স্মৃতি টিকিয়ে রাখতে যত্নবান ছিলো না ।অন্যদিকে রাষ্ট্রও শেরে বাংলা জাদুঘরকে সম্মৃদ্ধ করণে ততোটা গুরুত্বারোপযে করেনি তা প্রায় স্পষ্ট । কেননা জাদুঘরে তথ্য ও চিত্রের স্বল্পতা, কাঠামোগত সংকীর্নতা ও এটাকে পর্যটন কেন্দ্রের স্বীকৃতি না দেওয়া, আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন না করা এবং দেশময় এর গুরুত্ব প্রচার না করাটাসত্যিই দূর্ভাগ্যের । সবকিছুর পরেও শেরে বাংলার কীর্তিকে জানতে হবে আমাদেরনিজস্ব প্রয়োজনের তাগিদেই । কেননা স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবেপ্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছনে তার অবদানকে খাটো করে দেখারমত কোন সামান্যতম সুযোগআমাদের নাই ।
.
.
দুই. শৈল্পিক কারুকার্যের ছোঁয়ায় সম্মৃদ্ধ নান্দনিক গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স-
.
.
বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত গুঠিয়া বায়তুলআমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স । যা এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষত সৌন্দর্যপিপাসুদের নিকট গুঠিয়া মসজিদ নামে সমধিক খ্যাত । দক্ষিণাঞ্চলের স্বণামধন্যশিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ২০০৩ সালের ১৬ডিসেম্বর এ মসজিদের নির্মানকাজ শুরু করেন । ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের দীর্ঘতিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০০৬ সালের ২০ আগষ্ট এ মসজিদটি উদ্ভোধন করা হয়। তখন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্নশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাএখানে ভ্রমনে আসে । শিকাসফরের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে এটির গ্রহনযোগ্যতাদিন দিন বাড়ছে । ১৯৩ ফুট সুউচ্চ মিনারটি যেন প্রতি মুহুর্তেদর্শনার্থীদেরকেসৌন্দর্যআস্বাদনের নিমন্ত্রন জানিয়ে চলছে । নারী-পুরুষের আলাদা নামায আদায়েরস্থানসহ এখানে ৮ হাজার লোক একত্রে নামায আদায় করতে পারে । নিঁখুত শিল্পেরছোঁয়া ও নির্মান শৈলীর অনবদ্যতা এ মসজিদটিকে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠদর্শণীয় মসজিদের মর্যাদায় আসীন করেছে । প্রতি বছর বিশেষ দিনগুলোতে এখানেহাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এ স্থানটি মুখরিত হয়ে ওঠে । বিশ্বেরবিভিন্ন দেশের পবিত্র স্থানের মাটি দিয়ে এ মসজিদটি নির্মান করা হলেও এস্থাপণায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি । মসজিদকমপ্লেক্সটি উদ্ভোধনের সময় বিশ্বের বিখ্যাত মসজিদগুলোর ঈমামদেরকে আমন্ত্রনকরে উপস্থিত করা হয়েছিল । শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরংসামগ্রিক বিবেচনায় গুঠিয়া মসজিদটি স্থাপত্য শিল্পের এক অনুপম দৃষ্টান্তধারণের দাবীদার । যদিও এখনো এ স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকস্বীকৃতি পায়নি তবুও প্রত্যহ দূর-দূরান্তের সহস্র দর্শনার্থীর পদধ্বণি এস্থানের প্রতি মানুষের আকর্ষণমূলক আবেদনের স্বাক্ষী বহন করছে ।
.
.
তিন. মাধবপাশার দূর্গা সাগর-
.
.
কোন বিশেষণে এ স্থানটিকে বিশেষায়িত করা চলে তা উদ্ধৃত করা মুশকিল । সর্বদাযাদের মন বিষন্ন থাকে তারাও যদি বিশাল দিঘীর ঘটলায় কিংবা জলাধারে এসেদু’দন্ড বসে তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি তার মন ভালো না হয়ে কোন উপায় থাকবেনা । পড়ন্ত বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের নিস্তেজ আলো যখন জলের বহির্ভাগেঝিকিমিক রূপচ্ছটা ছড়ায় তখন তার ফাঁক গলিয়ে নির্মল ঝিড়ঝিড়ে বাতাসের ছোঁয়াযেন স্বর্গীয় আনন্দের অনুভব দেয় । প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে সমবেত হওয়াঅগণন মানুষের নিরব ভাষা, সম্মুখ দৃষ্টি এবং শখের মৎস শিকারীদের ছিপের পানেনিশ্ছিদ্র চাহনি-সব কিছু মিলে সে এক অন্যরকম পরিবেশ যা বর্ণনার মাধুর্য্যেজ্ঞাত করা সম্ভব নয় বরং উপস্থিত হয়ে উপলব্ধি করার বিষয় । বরিশাল শহর থেকেমাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে ২৫০০ হেক্টর জায়গা জুড়ে এ মর্ত্যের স্বর্গটুকরাঅবস্থিত । ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা শিব নারায়নের প্রজাবাতসল্য স্ত্রী রানীদূর্গাদেবীর তত্ত্বাবধানে এ দীঘিটি খনন করা হয় বলে এটা দূর্গা সাগর নামেইপরিচিত । দীঘি হয়েও সাগর নামে নামকরণ হওয়ার পেছনে দীঘির বিশাল আকারকেইঙ্গিত করা হয়েছে । অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে যখন চন্দ্রদীপ রাজবংশের রাজাতার পরিবার ও রাজন্যবর্গসহ পটুয়াখালি ছেড়ে মাধবপাশায় বসতি স্থাপন করে তখনতাদের ও তাদের প্রজাদের খাবার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করে । খাবারপানির সংকট দূর করতেই মূলত এ দীঘিটি খনন করা হয় বলে বিধৃত হয়েছে । দূর্গাসাগরের সীমানায় প্রবেশ করলেই সামনে যে বৃহৎ বট গাছটি দেখা যায় সেটা যেনমৌনভাবে স্বাক্ষী দেয়, এখানে আগমন বৃথা যাবে না । স্থলভাবে অসংখ্য প্রজাতিরগাছ ও গাছের ছায়ায় নির্মিত বসার আসনগুলি যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যেরমিছিল দিয়ে প্রাকৃতির রহস্য ও প্রেম পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে বসতে বলছে ।চারদিকে ঘুরিয়ে নির্মিত পাকা রাস্তাটি যেন নিভৃতে বলেই যাচ্ছে, সামনেঅগ্রসর হও ! এখানে অবারিত প্রশান্তি তোমার অপেক্ষায় পেখম বিছিয়েছে ! বিশালদীঘির দু’পাশে দুটো পাকা ঘটলা ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে এখনও অক্ষত আছে ।দীঘির মধ্যখানের ছোট্ট দ্বীপটি সমগ্র দূর্গা সাগরের সৌন্দর্য্য নিযুত গুনবৃদ্ধি করেছে । পরিবার-পরিজন, সহৃদ-বন্ধুজন নিয়ে প্রকৃতির অকৃত্রিম ছোঁয়ানিতে যেন সমস্ত খাজানা সাজিয়ে রেখেছে এ স্থানটি। যদিও দূর্গা সাগরকে বিংশশতাব্দীর শেষ দিকে কিছুটা আধুনিক ধাঁচে সংস্কার করা হয়েছে তবুও প্রজাদেরপ্রতি রাণী দূর্গার ভালোবাসা যেন শত শত বছর পরেও আজও একটুও কমেনি !বর্তমানে দেশের এ অমূল্য স্থানটি বরিশাল জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ।
.
.
চাখারের শেরে বাংলা জাদুঘর, গুঠিয়া মসজিদ এবং মাধবপাশারদূর্গা সাগর একই রোডে কিছু দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় দর্শনার্থীদের জন্যযথেষ্ট সুবিধা হয়েছে কেননা এক যাত্রায় ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক তিনটিস্বতন্ত্র স্থান ঘুরে দেখা যাচ্ছে । বরিশাল থেকে যাত্রাপথে প্রথমে দূর্গাসাগর, পরে গুঠিয়া মসজিদ এবং সর্বশেষ শেরে বাংলা জাদুঘর দেখে আবার গন্তব্যেফিরে আসা যায় কিংবা জাদুঘর থেকে শুরু করে গুঠিয়া মসজিদ হয়ে দূর্গা সাগরেরদর্শন নিয়েও ভ্রমন শেষ করা যায় । তবে যাত্রার শেষ প্রান্ত অর্থ্যাৎ জাদুঘরথেকে শুরু করে সর্বশেষ দূর্গা সাগরের কাছে ফিরলে সেটা সবেচেয়ে উত্তম হয়কেননা পড়ন্ত বিকেলে দূর্গা সাগরের রূপ দর্শনের মত তৃপ্তি আর কোনটাতেই পাওয়াযাবে বলে মনে হয়না । যারা শুধু একটি স্থানে ঘুরতে চান তাদের অতি অবশ্যইদূর্গা সাগরকেই লক্ষ্য বানানো উচিত । তবে ব্যক্তিগত ভালোলাগা এক্ষেত্রেপ্রধান গুরুত্বের দাবীদার হতে পারে । ভ্রমনের যায়গা যেটাই হোক অন্তত আনন্দভ্রমন যেন হয় । শহর ছেড়ে কোথাও একটু দূরে-অরন্য, পাহাড় কিংবা জলের ধারে ।সু-স্বাস্থ্য নিয়ে মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাইলেপ্রকৃতির সাথে অবশ্যই গভীর যোগাযোগ রাখতে হবে।সবুজ প্রকৃতি আমাদেরপ্রাকৃতিক ভাবেই ভালোবাসে; যে মুক্ত দানে কৃত্রিমতার ছিটেফোঁটাও নাই ।শহরের শীসাযুক্ত বাতাস নাকের ছিদ্র প্রবেশ করতে করতে যেন আমাদের ভেতরটাওশীসার মত শক্ত হয়ে যেতে না পারে সেজন্য নিয়মিত প্রকৃতির কাছে আসতে হবে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে । নির্মল প্রকৃতির সাথে অকৃত্রিম সংস্পর্শ আমাদেরপূর্ব পুরুষদের দীর্ঘদিন সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকার রহস্য ছিল । আমরা সেসুযোগ থেকে বঞ্চিত হব কেন ? শরীরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যেমন রুটিণ করেখাদ্য ভক্ষন করছি তেমনি মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখার জন্য প্রাকৃতিকপরিবেশের কাছে ছুটে যাওয়ার জন্য রুটিণ তো নির্ধারিত থাকবেই । সাথে যেনসর্বদা সুযোগের সন্ধানে থাকি, কখন স্পর্শ পাবো সবুজের, খাঁটি মাটি আরবিশুদ্ধ জলের ।

.
.
রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
raju69alive@gmail.com