ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কিছু কথা আছে, মনের মাঝে গুমরে মরে, না বলে চুপ থাকা যন্ত্রণার। তাই বলছি।

সম্প্রতি একটা কথা খুব শুনি, সরকার নাকি ইংলিশ মিডিয়াম বন্ধ করে দিবে। বিষয়টিতে আমার আগ্রহ/আশঙ্কা দুটি কারণে। এক হল আমি ইংলিশ মিডিয়াম ও লেভেল, এ লেভেলের বাচ্চাদের পড়িয়ে সংসার চালাই, আর দ্বিতীয়ত আমি তিনটি কারণে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছি।

এক নম্বর কারণ হল পাঠ্যসূচীর অবিরাম ব্যবচ্ছেদ। আমরা ৯১-তে এসএসসি দিলাম, ৯২ থেকে এমসিকিউ চালু হলো- ভাল! ৯৬-এ এসে প্রশ্নব্যাংক উঠে গেল- আরও ভাল! ৯৮-তে বিজ্ঞান দুই পত্র ভেঙ্গে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান হল- খুবই ভাল! ২০০৩ থেকে গ্রেডিং সিস্টেম চালু হল (এবারে ফেসবুকে জিপিএ ফাইভ- অলাদের জ্ঞান-গম্মি দেখে মূর্ছা গিয়েছিলাম- ভিডিও লিঙ্ক দিলাম)- অবিরাম ভালো! এত শত ভালোর সিকোয়েন্সে সৃজনশীল, আরও কত কি এলো গেল তাল রাখতে না পেরে ক্ষেমা দিয়েছি। পদার্থ-রসায়ন-গণিতে দুর্দান্ত ছিলাম, এখন ভাতিজা-ভাগিনীদের বই দেখলে ভিমরি খাই।

দুই নম্বর কারণ হলো, কঠোর পরীক্ষা পদ্ধতি। দুইয়ের অধিক বছর আগে রেজিস্ট্রেশন করতেই হবে, আবশ্যিকভাবে ১০/১২টা বিষয় নিতেই হবে, খারাপ করলে সবগুলা রিপিট করতেই হবে- এই ‘করতেই হবে’ আর ‘নিতেই হবে’-র চক্করে দম আর মেধা দুটোই তলিয়ে যায়। ব্রিটিশ নিয়মে সুবিধা হলো তিন মাস আগে রেজিস্ট্রেশন করো, সাবজেক্ট যেকটা মন চায় নাও, খারাপ হলে একটা/দুটো যে কটা দরকার রিপিট দিয়ে গ্রেড তোলো। আমাদের বিজ্ঞানের ছেলেমেয়েরা হিসাববিজ্ঞান/অর্থনীতি পড়তে পারে না, ব্যাবসায় বিজ্ঞানের ছেলেমেয়েরা পদার্থবিজ্ঞান/রসায়ন পড়তে পারে না। আমার ছাত্রী আনিকা তাহসিন সানিডেল স্কুল থেকে হিসাব বিজ্ঞান, রসায়ন আর অংক তিনটাতেই ওয়ার্ল্ড হায়েস্ট মার্কস পেয়ে এখন সলিমুল্লাহ মেডিকেলে পড়ছে। আরেক ছাত্রী মন্দ্রিতা ও-লেভেলে পেল জীববিজ্ঞানে কান্ট্রি হায়েস্ট, পরে হিসাব বিজ্ঞান/অর্থনীতি নিয়ে এ-লেভেল করে আইবিএ-তে বিবিএ পড়ছে। আদনান ফয়সাল পড়ছে বুয়েটে, অথচ হিসাববিজ্ঞানে দুর্দান্ত ফল করেছে ও-লেভেলে। পারমিতা পড়বে ইঞ্জিনিয়ারিং, ও-লেভেলে হিসাববিজ্ঞান-অর্থনীতি দুটোতেই ওয়ার্ল্ড হায়েস্ট মার্কস পেয়েছে। ডাইভার্সিফিকেশানের এই সুযোগ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বিন্দুমাত্রও নেই।

আর সর্বশেষ এবং তিন নম্বর কারণ হলো, আমাদের নাহিদ স্যারের সময়ে (নো অফেন্স, এই মুহূর্তে উনি শিক্ষামন্ত্রী তাই বলা), প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। কখনও কখনও আবার পরীক্ষা নেয়া হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পায় সর্বোচ্চ ১% ছাত্রছাত্রী, বাকী ৯৯% হুদাই আবার পরীক্ষা দেয়। ক্যামব্রিজ অথরিটি পুরা দুনিয়ায় ৬টা জোন বানিয়ে নানান সিস্টেমে চেষ্টা করছে ইনস্ট্যান্ট যাতে কোশ্চেন লিক না হয়। আমাদের কোনরকম কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনার কোন সম্ভাবনা দেখছি না।

যাই হোক, এবার একটু আলোকপাত করি বৃটিশ সিস্টেমের কিছু অসুবিধার কথা। প্রথম হচ্ছে দাম। অনেক দামী এ পড়াশুনা। ৭/৮টা সাবজেক্ট নিয়ে ও-লেভেল দিতে গেলে লাখ খানেক টাকা শুধু রেজিস্ট্রেশান ফি-ই গুনতে হবে। আরও কোচিং ফোচিং তো আছেই (আমি নিজেও পড়াই- সিস্টেমের সুবিধা নিচ্ছি আর কি)। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ঢুকতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। অনেকেই ঢোকে তবে মেধামানের তুলনায় খানিকটা নিচে জায়গা হয়।

মন্দ ভালো মিলিয়ে বলা যেতে পারে- একটা অলটারনেটিভ আছে, থাক না। আমরাও একটু খেয়ে পড়ে বাঁচি!