ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

দিয়াবাড়ি ঘাট। মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকার ঠিক পেছন ঘেষে ঢাকা মিউনিসিপাল থেকে সাভার থানাকে পৃথক করে বয়ে যাওয়া সরু নদী তুরাগের এই খেয়াঘাটের ওপারেই কাউন্দিয়া বাজার। প্রতিদিন বহু লোক এপার-ওপার করে। বেশ কয়েকটি ডিঙি নৌকা চোখে পড়ে। ঘাট ভাড়া জন প্রতি এক টাকা করে দিয়ে পাকা সিঁড়ি দিয়ে নেমে একটা ডিঙিতে চড়ে বসলাম। উদ্দেশ্য ক্যামেরা নিয়ে টো টো-গিরি করা। সর্বোচ্চ পাঁচজন একটি নৌকায় চড়া যায় এবং যে ক’জনই হোক, ভাড়া পাঁচ টাকা। ফেরার পথেই আরেক মাঝিকে দুষ্টুমির ছলে জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা, এমন মাঝি কি আছে যে সাঁতার জানে না ?

আছে তো একজন, সুজন মাঝি !

অল্প বয়েসি মাঝিটি বৈঠা চালাতে চালাতে আমার প্রশ্নবোধক দৃষ্টির অর্থ ঠিকই বুঝে নিয়েছে হয়তো। সে যে মিথ্যে বলছে না বা ঠাট্টা করছে না তা নিশ্চিত করতেই দিয়াবাড়ি ঘাটে নৌকা ভিড়িয়েই আয়ুল তোলে দেখিয়ে দিলো- ঐ যে সুজন মাঝি !

তার কথা শুনে সাথে সাথে অন্য মাঝিরাও চেঁচিয়ে ওঠলো- হ হ, হে সাঁতার জানে না !

সারাদিনে কত লোককে যে নিরাপদে এপার-ওপার করতে হয় কে জানে। অথচ নিজেই সাঁতার জানে না ! ক্যামেরাটা তাক করতেই বিব্রত মাঝি বৈঠার ধাক্কায় শূন্য নৌকাটা দুলে ওঠলো। আহা, কী করলাম ! আমাদের এই সরব কৌতুহল যে তাঁর খেয়া পাড়ানির পেশায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা খেয়াল ছিলো না। এই অসচেতনতার জন্যে হঠাৎ আফসোস হলো। কেন সে সাঁতার শিখলো না কিংবা কী এমন বাধ্য হয়ে এই অনিশ্চিত ঝুঁকির পেশাটাকে বেছে নিলো, তা জানার আগেই মাঝি তার খালি নৌকা নিয়ে ওপারের দিকে ছুটলো।

মাঝির চেহারাটা ক্যামেরায় ধরে ফেললাম ঠিকই। কিন্তু ওর বিষন্নতা কেন যেন বইতে পারছিল না হালকা ক্যামেরাটা !