ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

কথায় বলে- স্বাধীনতার মর্ম সেই বুঝে যার বন্দীত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বোধের কোন যৌক্তিক বোধ থাকে না বলে স্বাধীনতা তার কাছে কেবলই অর্থহীন একটা শব্দ মাত্র। কিন্তু সৃজনশীল ব্যক্তি মাত্রেই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কেননা তাঁরা জানেন সৃজনশীলতা মানেই মুক্ত স্বাধীন যেমন ইচ্ছে সৃষ্টির বহমান উচ্ছ্বাস ! একান্তই নিজের মতো গড়ে নেয়ার অহঙ্কারী গর্বিত স্রষ্টা এরা। তাঁদের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই সভ্যতা এগিয়ে যায়। তাই সবাই স্রষ্টা হতে চায়, কেউ পারে কেউ পারে না।

আমি হয়তো অক্ষর দিয়ে কাব্য করার নামে কিছু গড়তে চাই। কিন্তু এইসব মুক্ত স্বাধীন অক্ষরকেও কেউ না কেউ আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে আমি আমার স্বাধীন অধিকারে এসব অক্ষরকে নিজের মতো করে সাজানোর মধ্যে দিয়ে সৃষ্টির আনন্দে মেতে ওঠার চেষ্টা করি। যাঁরা প্রযুক্তির কবি, তাঁরাও প্রযুক্তিকে নিজের মতো সাজিয়ে গড়ে তুলেন নতুন নতুন প্রাযুক্তিক ভুবন। কিন্তু তাদের জন্যেও প্রয়োজন হয় প্রযুক্তির অক্ষর, যাকে সমকালীন আধুনিক সংজ্ঞায় আমরা বলি সফটওয়্যার। আমার ভাষা এবং আমার অক্ষরকে যেমন আমার মতো করে ব্যবহারের স্বাধীন অধিকার রয়েছে, তেমনি সেই সৃজনোন্মুখ প্রযুক্তি-কবিদেরও রয়েছে প্রযুক্তির ভাষা ও অক্ষর তথা সফটওয়্যারগুলো নিজের মতো করে ব্যবহারের অধিকার। এ অধিকারকে স্বীকার না-করার অর্থই হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতাকেও অস্বীকার করা। মানুষ কোন যন্ত্র নয়, জন্মগতভাবেই মানুষ স্বাধীন সত্তাকে ধারণ করেই এগিয়ে যায়। এটাই সভ্যতার ইতিহাস। এ ইতিহাস মানবতারই ইতিহাস। প্রযুক্তির ভুবনেও রয়েছে মানুষের এমন গর্বিত ইতিহাস, যার সাথে যুক্ত হয়ে ‘মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন’ নামটিও আজ প্রাযুক্তিক উৎকর্ষে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে আলোকিত করে দিয়েছে মানুষের সৃজনশীল বিকাশের আনন্দধারাকে। তাই আপনি যদি নিজেকে সৃজনশীল ভাবতে পছন্দ করেন, কিংবা মানুষের সৃষ্টির স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হন, তাহলে নিচের ঘোষণাটিকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না ! কারণ এটা সেই দর্শন যা মানুষকে কোন বন্দী যন্ত্র বা রোবট নয়, সৃজনশীল মানুষ হিসেবেই ভাবতে চায়, এবং ভাবেও ! কেন ভাবে ?

তা নিজেই পরখ করে দেখুন নিচের অফিসিয়াল ঘোষণাটিতে, যা আমি হুবহু তুলে দিলাম সবার অবগতির জন্য।-

“সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১” তে বাংলাদেশে উৎসব আয়োজন
মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন, মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে। আশির দশকের শুরুর দিকে রিচার্ড স্টলম্যান এই দর্শনকে বাস্তবায়নের জন্য গ্নু(GNU) প্রকল্প শুরু করেন। এজন্যেই তাঁকে এই আন্দোলনের প্রবক্তা হিসাবে গণ্য করা হয়। এই আন্দোলন কে তরাণ্বিত করতে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবারে পালন করা হচ্ছে “সফটওয়্যার মুক্তি দিবস”। ২০১১ সালে এই দিনটি হলো ১৭ই সেপ্টেম্বর। আরো বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন – http://wiki.softwarefreedomday.org থেকে। সারা পৃথিবীতে কারা কারা এই দিনটি উদযাপন করছে তা দেখতে হলে এখানে ঘুরে আসুন http://wiki.softwarefreedomday.org/CategoryTeam2011

ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ এ বছর সকল উন্মুক্ত সফটওয়্যারপ্রেমীকে সাথে নিয়ে পালন করতে যাচ্ছে “সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১”। আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের বনানী ক্যাম্পাসে।
.
আয়োজনের তারিখ ও সময়: ১৭ই শে সেপ্টেম্বর ২০১১ইং, শনিবার। সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে আয়োজন।
আয়োজন স্থল: প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী ক্যাম্পাস।
আয়োজনের বিস্তারিত সূচী (৮ঘন্টা ৩০মিনিটের দিনব্যাপী এ আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত):

.
১। সকাল ১০টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষনা করা হবে এবং সাথে কিছু স্বাগত বক্তব্য দেবেন আয়োজক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
২। সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার ও লিনাক্স ডিস্ট্রোর ইতিহাস আর চিত্রসহ ডঙ্গল, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে প্রদর্শনী চলবে।
৩। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আরো থাকছে ”সফটওয়্যার মুক্তি আন্দোলন” নিয়ে তথ্যভিত্তিক ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী।
৪। এছাড়াও আয়োজনস্থলে থাকবে বিভিন্ন জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রোগুলোর পেনড্রাইভে, পছন্দের মিডিয়াতে এবং সিডি/ডিভিডিতে বিতরনের ব্যবস্থা।
.
বিশেষ আকর্ষন:
প্রথমবারের মতন এবার থাকছে ‍‍”লিনাক্স ইন্সটলেশন বুথ”। যেখানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণ আয়োজনে অংশগ্রহনকারীর পছন্দ অনুসারে তাঁদের ল্যাপটপ কিংবা নেটবুকে লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ডিস্ট্রো ইন্সটল এবং ইন্সটল পরবর্তী নিত্য প্রয়োজনীয় সেটিংসগুলো করে দেবেন। (অনলাইনে ফর্মপূরনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।)
.
আয়োজনস্থ্যলের লেআউট


মো: আশিকুর রহমান (আশিকুর_নূর)
সহকারী সমন্বয়ক, আন্তর্জালিক প্রকাশনা, “সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১১, বাংলাদেশ” উদযাপন পরিষদ
ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ।

আয়োজনে আপনার যোগদান নিশ্চিত করতে এই ফর্মে আপনার তথ্য যুক্ত করে দিন