ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

সর্ববিষয়ে নিজেদেরকে নির্দোষ ভাবিবার বা প্রমান করিবার এক সহজাত প্রবৃত্তি বিরাজ করে আমাদিগের মাঝে। নির্দোষ থাকিয়া নিজেদেরকে নির্দোষ ভাবিবার মাঝে দোষের কিছুই নাই।

একদিকে নিজ-ঘটিত বা অপর-ঘটিত ইতিবাচক ঘটনাবলীর কৃতিত্ব বা অংশীদারিত্ব গ্রহনে আমরা যেমন উদগ্রীব হইয়া থাকি… অপরদিকে নিজ-ঘটিত বা অপর-ঘটিত নেতিবাচক ঘটনাবলী হইতে নিজেকে দ্রুতগতিতে বর্জন বা আড়াল করিবার চেষ্টায়ও রত হই।

নেতিবাচক ঘটনাবলীর সহিত কারণবশতঃ যদি সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকিয়া থাকে, তাহা হইলে নিজেকে আড়াল করিবার গতি বাড়িয়া যায় দ্বিগুণ বা এর চাইতেও বেশী… সবার দৌড়াইবার ক্ষমতা তো আর সমান নহে… আড়াল করিবার দ্রুততার সহিত দৌড়াইবার ক্ষমতার একটি সমানুপাতিক সম্পর্ক বিরাজমান…

নিজেকে আড়াল করিবার কার্যটি সফলতার সহিত সম্পন্ন করিবার পরই শুরু হইয়া যায় অপরকে দোষারোপ করিবার পর্বটি। নিজ সম্মান রক্ষার্থে “পরনিন্দায়” আরও ভালো অর্থে “কুৎসা রটনায়” মত্ত হইয়া উঠি।

পরনিন্দা পদ্ধতিটি প্রয়োগের মাধ্যমে এক ধরনের আত্মতুষ্টি লাভের চেষ্টায় রত হই। ভাবিয়া অবাক হই অপরের নিন্দা করিয়াই যদি নিজের সম্মান রক্ষা হয় তাহা হইলে তো সম্মানের সংগায়নে পরিবর্তন আনা আবশ্যক!

পরনিন্দা পৃথিবীতে একটি পুরাতন ধারনা হিসেবে বহুকাল ধরিয়া প্রচলিত রহিয়াছে… তাই ইহার বিরুদ্ধে লিখিতে গিয়া বোধ হইতেছে… এই বুঝি আমার নামেও শুরু হইয়া গেল আর কি…!

বিভিন্ন গবেষণায় ইহাই প্রতীয়মান হইয়াছে যে… অপরকে দোষারোপ করিবার মানসিকতা বেশী গড়িয়া ওঠে সাধারণত… অপরাধী, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দুর্বলচিত্ত মানুষগুলোর মাঝে।

দুর্বলচিত্ত মানসিকতার মানুষগুলো নিজেদের দোষ স্বীকার করিবার অক্ষমতা আড়াল করিতে গিয়া পরনিন্দার আশ্রয় লইয়া থাকে।

সমাজে এই নেতিবাচক হাতিয়ারটি ব্যবহার করা খুবই সহজসাধ্য… ইহা সময় এবং ব্যয় সাশ্রয়ীও বটে।

আমরা বাঙ্গালীরা হইতেছি একটি আবেগপ্রবণ জাতি। আমাদিগকে খুশী করিবার জন্য যেমন খুব বেশী কাঠ খড় পোড়াইতে হয় না। ঠিক তেমনি কোন কিছু আমাদিগকে বিশ্বাস করাইতে হইলেও খুব বেশী সময়ের প্রয়োজন হয় না…

আমরা নগদে যাহা শুনি অনেকে তাহাই বিশ্বাস করিয়া থাকি।

অনেকে আবার এক কাঠি সরেস… ঠিক-বেঠিক যাহাই শুনি না কেন… শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজ উদ্যোগে তাহা অন্যের কান পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিবার গুরু দায়িত্বটিও কাঁধে তুলিয়া লই।

একান হইতে ওকান… চক্রে আবর্তিত হইতে হইতে উহা বিকৃত আকারে ছড়াইয়া পরে চারিদিকে ভাইরাসের মত। ইহা এমন একটি ভাইরাস যাহা দ্বারা আক্রান্ত হইতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না।

ভাইরাসটি ছড়াইতে “সন্দেহযুক্ত বিশ্বাস” নামক দুই শব্দের একটি বায়বীয় বস্তু প্রভাবক হিসেবে কাজ করিয়া থাকে।

এই পদ্ধতির আরও একটি সুবিধা হইলো ভাইরাস ছড়ানোর মূল হোতা পর্দার আড়ালে থাকিয়া খুব সহজেই সফলতার সহিত ভাইরাসটি ছড়াইয়া দিতে পারে।

পরনিন্দা করিয়া নিজের সম্মান রক্ষা করিবার এই মানসিকতা কি আদৌ কোন সুফল বহিয়া আনিতে পারে… নিন্দাকারীর জীবনে?

অন্যদিকে নিন্দিত মানুষটির কি ক্ষতি হইতেছে তাহা একবার ভাবিয়া দেখুন তো…!

তবে ইহাও সত্য এই নেতিবাচক হাতিয়ারটি ব্যবহার করা খুবই সহজসাধ্য হইলেও এই পদ্ধতিটি নিরাপদ নয়… এই পদ্ধতি ব্যবহারে ক্ষতির পরিমান পরিমাপ করাও দুঃসাধ্য… লাভের চাইতে অলাভই বেশী হইয়া থাকে…

এই ভাইরাসটি কখন কাহাকে আক্রমন করিবে তাহা বোঝা দুষ্কর…

মাহফুজুর রহমান সাহেবের প্রেমিক হৃদয় এই পরনিন্দা পদ্ধতিটির কুফল অনুধাবনে ব্যর্থ হইয়াছেন। হয়তো বাচালতাই ইহার মূল কারণ। শুনিয়াছি উনি ডক্টরেট ডিগ্রীধারীদের একজন।

গত ৩০ মে এটিএন চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান লন্ডনে গিয়া পরনিন্দার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হইয়া কিছু আউলা-ঝাউলা কথা বলিয়া ফেলিয়াছেন…

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকান্ডকে তিনি ‘পরকীয়ার বলি’ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন… কান্ডটি উদ্ভট… কিন্তু বিষয়টি সরেস।

নিজের অপরাধ আড়াল করিতে লন্ডনে ভিন্ন আরেকটি অনুষ্ঠানে মাহফুজ বলিয়াছিলেন,

‘আরে, প্রাইম মিনিস্টার কতো না কথা বলেন। প্রাইম মিনিস্টারের বক্তৃতা শুনছেন না, ওইটাও বলছে, আমরা কি ড্রয়িংরুমে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব নিছি? এইটা হচ্ছে, বেশি কথা বলতে বলতে বাচালের ফট করে একটা মিসটেক হয়ে যায় না, এ রকম একটা মিসটেক হয়ে গেছে।”

উনার কথাগুলো শুনিয়া বোধ হইতেছে উনি একজন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী গবেট…!

এই গবেট কে নিয়া দেশে তোলপাড় শুরু হইয়াছে…

অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছি…

কি হয়… কি হয়… কি জানি কি হয়…!