ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

আমাদের সমাজে নিত্যদিন ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার মাঝে একটি ঘটনা নিয়ে লিখছি। কারো জীবনের সাথে ঘটনাটি মিলে গেলে বা কেউ এই লেখাটি পড়ে কষ্ট পেলে আমি লেখার শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। হয়ত ভাববেন এই লেখার উদ্দেশ্য-বিধেয় কী? উদ্দেশ্য একটাই সবাইকে আলোড়িত করার চেষ্টা করা এবং বিধেয় হল এই ধরণের ঘটনা ঘটার পূর্বেই নিজকে সচেষ্ট করা এবং ভুক্তভোগীকে সহায়তা করা।

প্রেম করে বিয়ে করেছিল অমিত আর লাবণ্য। ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। দেখতে দেখতে কেটে গেল বেশ কয়েক বছর।

কিন্তু এরপরই শুরু হল সমস্যা।

কেন সমস্যা শুরু হল? কার দোষ বেশী আর কার দোষ কম? তৃতীয় কোন হাত রয়েছে কিনা?… আরো নানা প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অন্দরমহলের বিষয়ের ব্যবচ্ছেদ করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।

তাদের সম্পর্কের জটিলতা দিন দিন বাড়তেই লাগল। এরই মাঝে কেঁচো খুঁড়তে “সাপ” বেড়িয়ে এল। জানা গেল “মশা” নামক তৃতীয় এক চরিত্র সমস্ত বিষয়টির পিছনে কলকাঠি নাড়ছে। লাবণ্য’কে ফাঁদে ফেলে, ঐ তৃতীয় ব্যক্তিটি লাবণ্যর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার লাভের হিসেব কষছে। বিষয়টি বেশ কয়েকজন জেনে যাওয়ায় লাবণ্য নিজেকে আস্তে আস্তে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। সমাজ, আত্মীয় স্বজন, চাকুরী সব ছেড়ে একপর্যায়ে একাকী জীবন যাপন শুরু করে। কিন্তু এর পরেও রেহাই নেই, তৃতীয় ঐ ব্যক্তিটির ফাঁদ এতটাই বিস্তৃত যে, লাবণ্য ঐ ব্যক্তির কথা ছাড়া একটি পদক্ষেপ নিতেও ভয় পায়।

ইতিমধ্যে ঐ তৃতীয় ব্যক্তির চাপে লাবণ্য অমিত’কে তালাক দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করে। লাবণ্যর অবস্থা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারে অমিত। অমিত রাজী হয় না তালাক দিতে।কারণ অমিত জানে লাবণ্যর এই ঘোর একদিন কাটবেই।

ঐ লোকটির হুমকিতে লাবণ্য একসময় অমিতের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লাবণ্যর মাধ্যমে নিজের কাজ হাসিল করতে না পেরে সেই ব্যক্তি লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে নিজেই এক সুন্দরী মেয়ের ছবি দিয়ে ছদ্মনামে ফেসবুকে ফেক একাউন্ট খুলে লাবণ্যর দুর্বল মূহুর্তে নিজের সাথে তোলা ছবি গুলো অমিত’কে পাঠিয়ে উত্যক্ত করা শুরু করে। অমিতের কাছ থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে, একপর্যায়ে অমিতের ডাকনাম ব্যবহার করে ইমেইল একাউন্ট খুলে নানা ধরণের হুমকি প্রদান শুরু করে।

এই মানসিক রোগীটি এতটাই রোগাক্রান্ত যে সে মনে করে, দেশের আর্মি, র‍্যাব, পুলিশ সবাই তার এইসব কুকর্মে সাহায্য করার জন্য দু’হাত বাড়িয়ে রয়েছে। তাই সে কথায় কথায় অমিত’কে আর্মি, র‍্যাব আর পুলিশের ভয় দেখায়, যেন অমিত লাবণ্যর জীবন থেকে সড়ে যায়। এমনকি অমিতের বাবা মা ভাই বোন’কেও হয়রানির ভয় দেখায়। ল্যাটিন হরফে বাংলা উচ্চারণে লেখা হুমকির ভাষা এতটাই জঘণ্য ও নিম্নমানের যে, এগুলো পড়েই এই মানসিক রোগীটির নীচু মানসিকতা সহজে অনুমেয়।

অমিত’কে লাবণ্যর সামনে হেয় করার উদ্দেশ্য বিভিন্ন ধরনের নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিতে শুরু করে ঐ তৃতীয় ব্যক্তিটি। এই তৃতীয় ব্যক্তিটির মানসিকতা এতটাই নীচু যে ছেলে হয়েও মেয়ের নামে ফেসবুক একাউণ্ট খুলে অমিতকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে চরিত্রহীন প্রমান করতে চায়।

ঐ তৃতীয় ব্যক্তির এইসব কর্মকাণ্ডে কি লাবণ্যর ইন্ধন রয়েছে!?

সব মানুষের জীবনেই এমন কিছু দুর্বল মূহুর্ত আসে, যখন সে স্বপ্নের ঘোরে বা যে কোনো কারণেই হোক ভুল পথে পা বাড়ায়, আর এই সুযোগ নেয় ঐ তৃতীয় ব্যক্তিটির মত সমাজের কিছু ভালো মানুষের মুখোশ পড়া “মানসিক রোগী”।

নিজের ব্যক্তিগত লোভ লালসা আর অসম্পূর্ণ দৈহিক চাহিদাগুলো পূর্ণ করার জন্য বেছে নেয় লাবণ্যর মত নরম মনের মানুষদের, ভাংগন ডেকে আনে পরিবার গুলোতে। ঘোরে পড়া মানুষদের অজান্তেই রেখে দেয় সবকিছুর প্রমাণ। পরবর্তিতে এই প্রমানগুলোই হয়ে ওঠে লাবণ্যদেরকে কব্জা করার মূল চালিকাশক্তি। নিজের লালসা চরিতার্থ করতে না পেরে একসময় এই প্রমাণ গুলো ছড়িয়ে দেয় ইন্টারনেটে বা আত্মীয়দের মাঝে।

লেখাটি আর দীর্ঘায়িত করব না। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে। ঘটনাগুলো আড়ালে না রেখে পরিবার ভাংগনে ভূমিকা পালনকারী পর্দার আড়ালের মশা’র মত এই মানসিক রোগীগুলোকে সমাজের সবার সামনে তুলে ধরা উচিত। উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা উচিত। পরিবার ভাংগনে অনেক নিয়ামক রয়েছে, তবে এই ধরনের মশারা সবচেয়ে ভয়ংকর। এরা সমাজের কীট।

বৈবাহিক জীবনে দাম্পত্য কলহ হবেই। তবে এই কলহ বা পারিবারিক সমস্যা গুলোকে আমরা যেন পারষ্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করি। হয়ত সম্পর্কের অবনতির কারণে এক সাথে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে, এটা মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে নিজেদের ভুলের কারণে ভালো মানুষের মুখোশ পড়া তৃতীয় কোন মানসিক রোগী নিঃশব্দে যেন দাম্পত্য জীবনে ঢুকে না পড়ে। এই মশা নামক মানসিক রোগীগুলো এদের রোগ ভাইরাসের মত ছড়িয়ে দেয় সবার মাঝে। আর এই মানসিক রোগীগুলো ভাইরাসের মাধ্যমে প্রচার করে “মূল্যবোধের অবক্ষয়” আর “উন্মত্ত মানসিকতা”।

তাইতো আজ চারিদিকে পরিবারে ভাংগনের শব্দ শুনি।