ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের বেশীরভাগেরই কোনো দেশী বা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নেই। এদের জন্য সরকারের শিক্ষা ব্যয় খুবই সামান্য। এই অল্প শিক্ষিত মানুষগুলো বিদেশে গিয়ে পরিশ্রম করে বাংলাদেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে প্রতিনিয়ত। নিজের থাকা খাওয়ার খরচ ব্যতীত বিদেশে অর্জিত আয়ের সিংহভাগই পাঠিয়ে দেয় দেশে।

অপরদিকে আরও একটি গোষ্ঠি রয়েছে যারা লেখাপড়া করেছে সরকারী সুবিধাপ্রাপ্ত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ সরকারের যে ব্যয় তার সিংহভাগই খরচ হয় এদের পিছনে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত এই গোষ্ঠির অনেকেই নিজের জীবনকে আরো সুখী করে তুলতে পাড়ি জমায় দেশের বাইরে। যাওয়ার আগে দেশ থেকে নিয়ে যায় নিজেদের জমানো সব অর্থ। কারণ এরা বিদেশে যায় বসতি গড়তে। এদের এই চলে যাওয়ায় দেশের ক্ষতি অংকের হিসেবে অনেক। বিষয়টি এমন, সরকারি খরচে তৈরি মানব সম্পদ, দেশের ভবিষ্যত শক্তি চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে, সেই সাথে চলে যাচ্ছে বিপুল অংকের অর্থ।

পরবর্তিতে দেশত্যাগী এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠি দেশের অর্থনীতিতে কি অবদান রাখছে? আদৌ কী কোন অবদান রাখছে? অবশ্য এদের বেশীর ভাগই অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করে থাকেন। তাই তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু আশা করাও ঠিক নয়।

রেমিটেন্সের হিসাব যদি দেখি..বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।

বিদেশের মাটিতে সুখে-স্বাচ্ছন্দে থাকা বিদেশী নাগরিত্ব পাওয়া এই জনগোষ্ঠীর অনেকেরই দেশের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ ঘটে থাকে সাধারণত বিদেশে নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় লাউ, কুমড়া, ঝিংগার বাগান করে এবং তা থেকে ফল আহরণ করার ছবি ফেসবুকে উত্তোলন করে অথবা বিদেশের মাটিতে ক্রয়কৃত নিজের ঘরের ঝকঝকে মেঝেতে বসে পরম নিশ্চিন্তে পান্তা ভাতে চুমুক দিয়ে।

এদের কেউ কেউ আবার দেশে একটি ফ্ল্যাট কিনে বা বাড়ি তৈরী করে রাখে। বৃদ্ধ বয়সে যদি কোনো কারণে দেশে ফিরতে হয়!? উন্নত দেশ গুলোতে বৃদ্ধদের কদর কম। যতদিন গরু দুধ দেয় ততদিনই গরুর কদর থাকে। বুড়োরা গল্প করার জন্য একটা মানুষও খুঁজে পায় না এইসব দেশে। সেই হিসেবে বৃদ্ধদের জন্য বাংলাদেশ উত্তম জায়গা।

সরকারী খরচে সৃষ্ট মানব সম্পদ, দেশের শক্তি অন্য দেশে গিয়ে শক্তি ক্ষয় করে, শক্তিহীন হয়ে একসময় দেশে ফিরে আসে। দেশ তো মা, তাই সব দুঃখ ভুলে সেই শক্তিহীন’কে বুকে টেনে নেয় আবার।

বাংলাদেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠির লক্ষ্য থাকে সাধারণত, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর। আর অল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠির লক্ষ্য থাকে সাধারণত মিডল ইষ্টের দেশ গুলো।

নিজেকে ধিক্কার দেই, যখন দেখি অল্পশিক্ষিত এই মানুষগুলো যারা দেশের বাইরে থেকেও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছেন, তাঁরা বিমান বন্দর কর্মীদের কাছে নিগৃহীত হন।

তাঁরা ইংরেজী বা ভদ্রতা জানে না এই কারণ দেখিয়ে নাক সিটকানো হয়, কিন্তু তাদের পরিশ্রমের টাকায় বিলাসিতা করতে লজ্জা লাগেনা তথাকথিত নাঙ্গা কুকুরদের।