ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হচ্ছে জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করে জাতির ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় যদিও এটা করা দরকার ছিল বহু পূর্বেই। জামায়াতের নির্বাসিত নেতারা যেদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পূনর্বাসিত হয়েছিল সেদিন থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিনাশী দূর্যোগের মুলত শুরু। এখন কথা হল জামায়াতে ইসলামী’ ইসলামী দল কিনা। এর উত্তর হল, জামায়াত যদি ইসলামী দলই হত তাহলে পরাজিত শক্তি নিয়ে (মূলত তারা হার মানেনি বলেই পুনরায় ‘জামায়াত’ নামেই জমায়েত হয়েছিল) মাঠে নামত না। কামাল পাশার তুরস্ক থেকে তুরস্কের নিষিদ্ধ ইসলামী দল অন্তত ২৯ বার বিভিন্ন নামে নিবন্ধন করে বর্তমানে বহাল তবিয়তে বিজয়ের ঝান্ডা উড়াচ্ছে।

বাংলাদেশে তা ঘটে নি। বাংলাদেশের তথাকথিত ইসলামিস্টদের কাছে ধর্মের চেয়ে দল বড় বলে তাদের রাজনীতি ইসলাম ধর্মের নয় বরং জামায়াত নামক রাষ্ট্রীক চেতনার প্রশ্নে পরাজিত এক রাজনৈতিক দলের।

জামায়াত যে ইসলামের চেয়ে বেশি জামায়াতী তার আরেক প্রমাণ হল তারা বাংলার মাটিতে ইসলামকে কলংকিত করার অপরাধে অপরাধী। কীভাবে? লিখিত ইতিহাস বাদ রেখেই যদি বলি তাহলে দেখি জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কেউই টেলিভিশন মিডিয়া’য়(যেখানে ভূলভাবে উদ্ধৃত্তের সুযোগ নেই) সাক্ষাতকারে তাদের সংশ্লিষ্টতাকে অস্বীকার করেননি। বরং তাদের আদর্শিক অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তার মানে হল তাদের অবস্থান পরাজিত হয়েছে এবং আকারে ইঙ্গিতে তারা তা স্বীকারও করেছেন।

তো পরাজিত পক্ষ যদি আবার তাদের পূর্ব অবস্থানে থেকে রাজনীতির মাঠে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় তাহলে সংঘর্ষ বাধবেই। আর এ সংঘর্ষের দায় ইসলামের নয়। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান জামায়াত ও তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থানের দায় নেয় নি এবং নেবেও না। কারণ তারা স্পষ্ট বলেই দিয়েছিলেন যে “এটা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের এখতিয়ার। পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটছে তা ধর্মযুদ্ধ নয় এবং এখানে এক ফ্রন্টে সবাইকে লড়া অবশ্যম্ভাবী নয়।”

এখন স্পষ্টতই জাতির বৃহৎ অংশ যারা রাষ্ট্রের গঠন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন তাদের চোখে অপরাধী মানুষদের সামনে রেখে যারা ইসলামী রাজনীতির চর্চা করছেন বলতেই হবে তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ইসলামের চরম ক্ষতি করেছেন। আজ রাজাকার বলে আমজনতা যেভাবে দাঁড়ি-টুপি-পাঞ্জাবীহীন কাউকে কল্পনা করতে পারে না সেই প্যারাডাইম তৈরির দায়ও জামায়াত এড়াতে পারবে না।

৯২ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈচিত্র থাকবেই। এবং বৈচিত্রের মাঝে সমতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্যও। গণতন্ত্রে জনগণই তাদের উত্তম নেতৃত্ব খুঁজে বের করবে। কিন্তু তার আগে ‘মাঠ সমান’ রাখতে হবে। “তুই রাজাকার” গায়ের পশম খাঁড়া করে দেওয়ার মত স্লোগান হলেও আমার সন্তানেরও এই স্লোগান মুখস্ত থাকবে তা মানা যায় না।

সর্বশক্তি দিয়ে জাতিকে তাই আজই কঠোরভাবে এই স্লোগান উচ্চারণ করতে হবে যাতে আগামী দিন আর গালি দেওয়ার মত কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায়।
এই আবেগ জিইয়ে রেখে স্বপ্নের সোনার বাংলা সম্ভব নয়।

কেবল আওয়ামী লীগের কাছে ‘সোনার বাংলা’ স্লোগান বন্ধকী রেখে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। শাহবাগ আন্দোলনের স্লোগান জামায়াতের নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনে রূপ নিতে হবে।