ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

পৃথিবিটা লাটিমের মতন ঘুরছে, একবার ঘুরলেই একদিন। লাটিম যেমন ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়- তেমনি পৃথিবীও সূর্যের চারপাশটা ঘুরে আসে। এতে লাগে এক বছর। অতএব সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে আসতে লাটিমের মত ঘুর্ণায়মান পৃথিবীটা তিনশত পয়ষট্রি(৩৬৫)বার ঘোরে। অর্থাৎ তিনশত পয়ষট্রি দিনে এক বছর।
পৃথিবীটা কিন্তু সূ্র্যের চারপাশে একেবারে ঠিক ঠিক বৃত্তাকারে ঘুরে আসেনা। পথটা ডিমের মত ট্যামা ধরনের বৃত্ত। এর ফলে পৃথিবীটা কখনও জ্বলজ্বলে সূর্যটার কাছে চলে যায় আবার কখনও দূরে। এভাবেই কখনও গরম কখনও শীত- কখনও আবার গরম ঠান্ডা দুটোই। কখনও বেশি গরম কখনও কম, কখনও প্রচন্ড শীত কখনও অল্প। এগুলোই হচ্ছে একেকটা ঋতু। গ্রীস্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। তারমানে এক বছরে ছয়টি ঋতু।
শীতের সাথে আমাদের বছরে একবার দেখা হয়। কী ঠান্ডা! প্রথম দিকে সোয়েটারে কাজ হয়ে যায়, কিন্তু পরে এমন ঠান্ডা পড়ে যে মোটা জ্যাকেট দরকার হয়। এই ঋতুটা প্রায় আটান্ন(৫৮) দিন থাকে। হিসাবের সুবিধার জন্য এই দিনগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম উনত্রিশ(২৯) দিনকে পৌষ ও পরের ঊনত্রিশ দিনকে মাঘ নামে ডাকা হয়। কী সুন্দর নাম! পৌষ-মাঘ। একইভাবে গ্রীস্মকে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য, বর্ষাকে আষাঢ়-শ্রাবন, শরৎকে ভাদ্র-আশ্বিন ইত্যাদি নামে ডাকা হয়, এগুলো একেকটি মাস। তাহলে কী দাড়ালো- এক বছরে ছয় ঋতু আর ছয় ঋতুতে বারমাস, কেননা প্রতিটি ঋতু দুই মাস করে। কোন কোন মাস ২৯ দিনে, কোন কোনটি আবার ৩০, ৩১ বা ৩২ দিনে- তবে সব মিলিয়ে সেই তিনশত পয়ষট্রি কিংবা ছিষট্রি দিন। এই তারতম্যের বিষয়টি আরেকদিন আলোচনা করব।
আমাদের কাজকর্ম-স্কুল-খেলাধুলা এগুলোকে চক্রাকা্রে করার জন্য দিনগুলোকে সাতদিন-সাতদিন করে ভাগ করে নেয়া হয়। এর মধ্যে ছয়দিন কাজকর্ম-পড়াশোনা আর একদিন ছুটি, এই সাতদিন মিলে এক সপ্তাহ। সাতদিনের আবার ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে- শনি, রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র। সাধারণত শুক্রবার আমাদের ছুটি থাকে, পাশের দেশ ভারতে কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিন নয়। অতএব, সাতদিনে এক সপ্তাহ আর স্থানভেদে ছুটির দিনটি ভিন্ন হতে পারে।
বছর-ঋতু-মাস এবং দিন সম্পর্কিত একটি ছক নিচে দেয়া হলঃ ১৪১৯ সন
এক বছর(৩৬৬ দিন)
গ্রীস্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত বসন্ত
বৈশাখ জৈষ্ঠ্য আষাঢ় শ্রাবন ভাদ্র আশ্বিন কার্তিক অগ্রাহায়ন পৌষ মাঘ ফাল্গুন চৈত্র
৩১ ৩২ ৩১ ৩২ ৩১ ৩০ ৩০ ৩০ ২৯ ২৯ ৩০ ৩১