ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

পৃথিবীতে বহু ধর্মাবলম্বী এবং বিধর্মাবলম্বী লোক আছে যারা নিজ নিজ চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উক্ত ধর্ম কিংবা বিধর্মটি নির্ধারণ করে এবং সেই অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করে- এটাই ধর্মীয় স্বাধীনতা। আপন চিন্তাশক্তি দ্বারা নির্ধারিত ধর্ম কিংবা জীবন দর্শনের পক্ষে কথা বলার স্বাধীনতাটা হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। পাশাপাশি অন্যের জীবন দর্শনে কোন প্রকার ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে সেটি সম্পর্কে মন্তব্য করাও দোষের কিছু নয়- তবে অবশ্যই ত্রুটির স্থানটি নির্দিষ্ট করে এবং যুক্তি সহকারে উপস্থাপন করতে হবে। এটাই সভ্য মানুষের পরিচায়ক।

এই পৃথিবীতে বহু প্রকার ধর্ম ছিল এবং আছে। সব ধর্মেরই প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ‘বিশ্বাস’। কোন ব্যক্তি যদি মনে করে তাঁর ধর্মটিই শ্রেষ্ঠ এবং আধুনিক- তাঁকে দোষ দেয়ার কিছু নেই, এমনকি চিরাচরিত কোন ধর্ম না মানলেও জোর-জুলুম চলবে না।

তথ্য-প্রযুক্তি ও গনমাধ্যমে পরিপুর্ণ এই যুগে কোন ব্যক্তি যদি যুক্তিপূর্ণভাবে নিজ ধর্মের গুনগান করে এবং অপর কোন ধর্মের ত্রুটি সম্পর্কে কিছু বলতে চায় এবং প্রয়োজনীয় যুক্তি উপস্থাপন করে তবে তাঁকে বাধা দেয়া যায়না। বরং সম্ভব হলে যুক্তি-খন্ডন করাই শ্রেয় নতুবা মৌন। এ অবস্থায় অনেকে ধর্ম পরিবর্তনও করে থাকেন। রেডিও, টেলিভিশন কিংবা পত্র-পত্রিকায় এধরনের ঘটনা এখন হর-হামেশাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধর্মীয় টিভি চ্যানেল গুলোতে কিন্তু সংশ্লিষ্ট ধর্মের নিয়ম-কানুন এবং অন্যান্য ধর্মের পার্থক্যই তুলে ধরা হয়। এতে কোন সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি অন্যের সম্বন্ধে কোন প্রকার মিথ্যা প্রচার করে- সেক্ষেত্রে শাস্তি প্রাপ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ইসলামবিরোধী একটি চলচ্চিত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করা হয়েছে, এতে স্বাভাবিক নিয়মেই মুসলিম বিশ্ব খেপে উঠেছে এবং বিক্ষোভে জড়িয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যার ২৩% লোকই মুসলিম। এতগুলো মানুষের ক্ষোভের মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এর দেয়া বক্তব্যের সারাংশটা এইরকম- ‘এই ভিডিওচিত্রটি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বিরক্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড। একটি মহান ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। এখন ভিডিওচিত্র প্রকাশ বন্ধ করা অসম্ভব। তবে আমাদের সংবিধান ও আইনে কোনো নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাও হরণ করা যায় না।’

হিলারি ক্লিনটন এর দেয়া বক্তব্যটিও ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। আলোচ্য ভিডিওচিত্রটিকে বিরক্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড না বলে মিথ্যাচার বলা উচিৎ ছিল। ভিডিওচিত্রটি আমি দেখেছি- এতে বুদ্ধিমত্তা কিংবা সৃজনশীলতার কোন বালাই নেই বরং ইতিহাসকে বিকৃতকারী এবং কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা দ্বারা মিথ্যাচার করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসকে ছোট করার উদ্দেশ্যে অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা নির্মান করা হয়েছে। আপনাদের সংবিধান ও আইনে কোনো নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা যায় না মানলাম, কিন্তু মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান কী নেই?

আচ্ছা কাল যদি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে নিয়ে একটি পর্নো-ভিডিওচিত্র নির্মান করা হয়- তিনি কী একইভাবে নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে চুপ থাকতে পারবেন? অবশ্যই না। এক্ষেত্রে তিনি মানহানির মামলা করবেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তাহলে যে মানুষটির সম্মানরক্ষার্থে কোটি কোটি লোক জীবন দিতে প্রস্তুত তার ক্ষেত্রে মানহানির মামলা হবেনা কেন?

ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তাঁর স্বাক্ষী ইতিহাস। কোন প্রকার ইন্ধন না দিয়ে অতি সত্বর এই চলচ্চিত্রটির প্রচার বন্ধ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে আমি মনে করি। এতে বর্তমান পরিস্থিতি যেমন শান্ত হবে, তেমনি ভবিষ্যতেও কেউ এমন ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার মত বিরক্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কর্মকাণ্ডটি করার স্পর্ধা দেখাবে না।