ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

রাষ্ট্র বিমূর্ত একটি ধারণা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর সদস্য হিসেবে পুলিশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই বিমূর্ত রাষ্ট্রের প্রতিকী উপস্থিতি এবং পুলিশের আচরণে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব দেখে। উর্দি বিহীন পুলিশ দেশের যেকোনো বিচ্ছিন্ন একজন নাগরিক কিন্তু পুলিশের উর্দি তাকে বিশিষ্টতা দিয়েছে, রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যর্থতা দায় বহন করে টহল পুলিশ, সাধারণ নাগরিক তাদেরই সবচেয়ে কাছে থেকে দেখে, আশ্বস্ত হতে চায়, নিরাপত্তা চায়। মানুষের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বোধটুকু কখনই পুলিশ প্রকৃতার্থে প্রদান করতে পারে না জনগণকে। সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়, প্রতিবাদী হয়, আক্রান্ত হলে প্রতিরোধ করে এবং এর সবটুকু ঝাঁঝ লাগে পুলিশের গায়ে।

রাষ্ট্র জনকল্যাণমুখী না হলে রাষ্ট্র জনরোষ নিয়ন্ত্রন করতে চায়, সে জনরোষ নিয়ন্ত্রনে সশস্ত্র সহায়তা দেয় পুলিশ। মরিয়া মানুষ পুলিশ পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কখনও কখনও। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ একইভাবে রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ততার দলিল হিসেবেই সাধারণ মানুষের কাছে যায়, তারা ঘুষের বখরা চায়, মাদক ব্যবসার পুঁজি এবং নিরাপত্তা দেয় পুলিশ, জনগণের বন্ধু না হয়ে পুলিশ নির্যাতনের যন্ত্র হয়ে উঠবার পর থেকে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে আগ্রহী নয় বরং তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে চায়।

কাহারোল বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষও এমনটাই চায়। তারা প্রতিবাদী হয়েছিলো ডাকাতির ঘটনায়। সে ডাকাতি করেছে পুলিশ সদস্যগণ। যদিও তারা উর্দির সম্মান রেখেছে, উর্দি বিহীন সাদা পোশাকে তারা ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে, গ্রামবাসী তাদের আটক করেছে, অন্তরীন করে রেখেছে এবং চেয়েছে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল আচরন করুক, পুলিশের বড় কর্মকর্তাগণ জবাবদিহিতায় আগ্রহী নন তারা পুলিশ দিয়ে জনরোষ দমনের চেষ্টা করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে তারা ডাকাত দলের সদস্য পুলিশদের উদ্ধার করতে আসা অন্যান্য পুলিশদের আটক করে রেখেছে।

সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ পুলিশ যখন সাধারণ জনগণকে আরও নিরাপত্তাহীন করে, যখন তারা সাধারণ গ্রামবাসী সর্বস্ব হরণ করতে চায় তারা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করবে এটাই স্বাভাবিক। নির্যাতন প্রবন পুলিশের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, উপেক্ষা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ এক সাথে উগড়ে দিয়েছে কাহারোলের মানুষ।

তারা পুলিশের ভ্যান অগ্নিদদ্ধ করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে টহল পুলিশের গাড়ী, তাদের উপরে গুলি চালানো হলে তারা পালটা প্রতিক্রিয়ায় থানায় হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এসবই ঘটিয়েছে তারা কারণ পুলিশের কর্মকর্তাগণ স্বাভাবিক জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত নন বিধায়। তারা যদি সংঘাতের বদলে সংলাপে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তাহলে এমন অঘটন ঘটতো না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী এবং এই মন্ত্রনালয়ের অন্যান্য ব্যক্তিরা এইসব দায় দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী, লিমনের গুলিবিদ্ধ পায়ে সাথে তারাও তাদের জবাবদিহিতার আগ্রহ ছেঁটে ফেলেছেন, লিমন আহত অবস্থায় নিরপরাধ হয়েও জেলে অন্তরীণ, আর কাহারোলের ডাকাত পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত সাধারণ মরিয়া মানুষ এখন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের আসামী।

সাহারা খাতুন কখনও এইসব দায়িত্ব গ্রহন করতে চান নি, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের বিবৃতি দিয়েছেন, প্রমাণ করতে চেয়েছেন রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র অবনতি হয় নি, আর পত্রিকায় সব সময়ই সরকারবিরোধী সংবাদ ছাপা হয়, সে কারণে দেশজুড়ে ছাত্রলীগের এবং যুবলীগের নেতা কর্মীদের ভেতরে টেন্ডারের বখরা নিয়ে যুদ্ধ, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং খুনের বিষয়গুলো তার চোখে পড়ে না, তার চোখে পড়ে না নির্বাচিত সাংসদ সরকারী কর্মচারী লাঞ্ছনা করছেন, আমাদের সকল নিরাপত্তা বলয় ধ্বসে পচে গলে পড়লেও সরকারী খাতায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে জানান দেয় দেশের সবাই নিরাপদে এবং আনন্দে আছে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে বলে দেশের প্রান্তিক দারিদ্র কমেছে, মানুষ ভালোমন্দ খাচ্ছে এবং তারা সুখে আছে।

কাহারোলের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত দল রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র খুঁজে পেয়েছে, কিভাবে এত স্বল্প সময়ে এতগুলো এলাকা গভীর রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছে তদন্ত দল। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ইচ্ছা করেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে, আমরা অতীতের প্রেসনোটগুলোর মতো এবারও হয়তো এমনই ভাষ্য পাবো

একটি চিহ্নিত মহল ইচ্ছাকৃত ভাবেই শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিলো, দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনী তাদের এই চক্রান্তে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন চালানো হয়। এভাবেই দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে এই চিহ্নিত মহল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

কাহারোলের সাধারণ মানুষ জানে কোনটা সত্কার নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিতে অনিচ্ছুক সরকার আরও বেশী নির্যাতন প্রবণ হয়ে উঠবে এবং স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে থানায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করবে। এই মামলার আসামী হবে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার ব্যক্তি, তাদের হাতে থাকবে বিভিন্ন রকম ধারালো অস্ত্র, তারা অগ্নি সংযোগ করবেন, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিবেন, এবং অবধারিত ভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকবেন।

এইসব অজ্ঞাতনামাদের দলে ঢুকে পড়বে লিমন,আমাদের রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর অসভ্য সদস্যরা এ প্রয়োজনেই এইসব অজ্ঞাতনামা মামলার দলিলগুলো সংরক্ষণ করেন। যখনই পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ নির্যাতিত হয় এবং এর বিরুদ্ধে জনরোষ গর্জে উঠে তখন এমন অজ্ঞাতসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামীদের একজন হিসেবে নির্যাতিতিকে চিহ্নিত করে দেখানো হয় তার বিরুদ্ধে থানায় অনেক আগে থেকেই অনেকগুলো মামলা ছিলো, নির্যাতিত ব্যক্তি আসলে একজন ভয়ংকর সমাজবিরোধী এবং সাংঘাতিক বড় অপরাধী।

অসংখ্য নির্যাতিত নিরপরাধ মানুষের ক্ষোভ মিশে ছিলো কাহারোল বীরগঞ্জের ঘটনায়, এর আগেও সেখানে ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশ ধরা পড়েছে, সেসব কারণকে নির্মূল করতে হবে , অহেতুক নিজের পিঠ বাঁচানো তদন্ত প্রতিবেদন নয় এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এর বাইরে নির্যাতন প্রবন রাষ্ট্রের কাছে অন্য কিছুই চাওয়া নেই।