ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের এক ধরনের অধিকার যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। মানুষ এ অধিকার ভোগ করবে এবং চর্চা করবে। তবে এ চর্চা অন্যের তিসাধন ও প্রশান্তি বিনষ্টের কারণ হতে পারবে না। মানবাধিকার সব জায়গায় এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এ অধিকার একই সাথে সহজাত ও আইনগত অধিকার। স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম দায়িত্ব হল এসব অধিকার রণাবেণ করা।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মানবাধিকার আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেও মানবাধিকার বিষয়ে তেমন কোন জ্ঞান লাভ করতে পারিনি তবে এটুকু বুজতে সক্ষম হয়েছি যে, মানবাধিকার বলতে শুধু সকল মানবাধিকার লঙ্গন প্রতিহত করা বুঝায় না। মানবাধিকারের ধর্ম নিজের মধ্যে লালন করে এর চর্চা করা, আমার দ্বারা যেন অন্যের ক্ষতি না হয় সেভাবে কাজের মনোভাব তৈরী করা। আমার সাধ্যমত অন্য কোন অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আন্তর্জাতিকভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে কি করলো এটা মুখ্য বিষয় নয়। আমি কি করতে পরেিেছ এটাই মুখ্য বিষয়। শীতের আয়োজনে আমার সাধ্যমত অন্তত একজন অসহায় শীতার্তকে সামান্য অর্থ দিয়ে একটি শীতের পোষাক দিতে পেরেছি কিনা, একজন অসহায় রোগীকে সামান্য সহযোগিতা করতে পেরেছি কিনা, একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছি কিনা। আমার সাধ্যমত কোন ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক রীতিনীতি, রাষ্টীয় আইনের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি কিনা, ঈদে আমার আশেপাশে সুবিধা বঞ্চিত কাউকে নতুন পোষাক দিয়েছি কিনা।

পৃথিবীতে সকল নিয়মের মাঝেই অনিয়ম লুকিয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম, আইন, মানবাধিকার, সমাজ সেবা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বলে কি এগুলোর দরকার নেই? সব ক্ষেত্রে হয়তোবা এরা সফল নয় কিন্তু এরা না থাকলে আমরা চলতে পারতামনা। একদিন রাস্তায় ট্রাফিক বন্ধ করা হোকনা, দেখুন কি অবস্থা হয়। কয়েকদিন গণমাধ্যম বন্ধ থাকুক, দেখুন কি অবস্থা হয়। কেউ আইন ও মানবাধিকারের বানী উচ্চারণ না করুক, দেখুন কি অবস্থা হয়।

হ্যা এ কথা সত্যি যে, কিছু মানুষ দামী খাবার দিয়ে নাস্তা করে, দামী চায়ের কাপে চা পান করে, দামী সিগারেটে সুখটান দিয়ে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের র‌্যালিতে যায় তেমনি কিছু মানুষ নিজের কষ্টার্জিত সৎ উপার্জনের টাকায় রিক্সা ভাড়া দিয়ে র‌্যালীতে অংশগ্রহন করে মানবাধিকারের চেতনায় জাগ্রত হয়ে মানবাধিকারের ধর্ম লালন ও পালন করে, যারা বিদেশী ডোনারদের টাকা আর নাটকের ধার ধরেনা। মানবাধিকার কর্মীদের কাজ শুধু মানবাধিকার লঙ্গন প্রতিহত করাই না, নিজের ও অন্যর অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিজের দ্বারা অন্যের অধিকার খর্ব করা থেকে বিরত থাকা।

এখন প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক যে, এসব অনুষ্ঠানের কি প্রয়োজন। অনেকদিন আগে একজন আমাকে বলেছিল যে, “ ওয়াজ-মাহফিলেতো সব সময় একই কথাই বলে যা আমি জানি। তাহলে যাওয়ার দরকার কি?” আমি তাকে বলেছিলাম “ তুমি একটা বিষয় লক্ষ্য করো, মাহফিলে যাওয়া অনেক ব্যক্তি যারা ঠিকমত নামাজ পড়তো না। মাহফিল থেকে আসার পর কয়েকদিন ভালভাবে নামাজ পড়া শুরু করে কারণ তার মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত হয়েছে”।

এখন প্রশ্ন জাগে, দামী দামী লিফলেট ছবি তুলে সাধারন মানুষরকে কেন দেখানো ( যাহা অনেকে কাছে নাটক) ? এ বিষয়ে একটু অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার জন্য দুঃখিত। আমি ছোট বেলা থেকে কিছু কাজ করতাম যার জন্য আমি অনেকে আমার কাজকে পাগলামীর খেতাব দিত, কেউ কেউ প্রশংসাও করতো যার সংখ্যা নিতান্তই কম। পাগলামীর খেতাব যতই পাইনা কেন আমি এই পাগলামী করে যেতাম আর সবার কাছে প্রচার করতাম। প্রচার করতাম এই ভেবে আমার মত কোন পাগল আমার আইডিয়াটা দেখে তার মধ্যে পাগলামীর চেতনা জাগ্রত হোক এবং এই কাজটি করুক। আমিও কিন্তু কোন পাগলের পাগলামী দেখেই শুরু করেছিলাম। আমার পাগলামীটা বেশী ছিল সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কার্য্যক্রম, বিভিন্ন প্রকারের বৃক্ষ রোপন, মাছ চাষ, পাখি পালন নিয়ে । আমি তেমন কিছু না করতে পারলেও আমার দেখানো নাটক অনুসরন করে কেউ কিছু করেছে এবং এখন আমার পাগলামীগুলোও আবার অনেকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

আসল কথা হলো, কোথাও অন্যায় দেখে আমি শ্রুতিমধুর একখানা বানী, বড় বড় উপদেশ দিয়ে দূরে দাড়িয়ে থাকলে এর সমাধান হবে না। এই অনিয়মের দেয়াল ভেঙ্গে ন্যায়ের প্রাচীরের বন্ধনে আবদ্ধ করে সাধ্যমত সত্যিকারের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা বা করার চেষ্টাই হচ্ছে মানব অধিকার সংগঠন, মানব অধিকার কর্মী তথা আপনার আমার মানবিক দায়িত্ব। যদিও অধিকার বলতে প্রকৃতপে কি বোঝানো হয় তা এখন পর্যন্ত একটি দর্শনগত বিতর্কের বিষয়।