ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটি বড় দিক হচ্ছে মানব অধিকার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাকালে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলেও ছিল মানব অধিকার প্রতিষ্ঠার এক বিরল ইতিহাস।

মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারকেই বলা হয় মানবাধিকার। মানবাধিকার সব জায়গায় এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার ভোগ করবে এবং অন্যের ক্ষতিসাধন ছাড়া এর চর্চা করবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে ১৯৪৫-এ জাতি সংঘের জন্ম এবং তার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানব অধিকার সংস্থার জন্ম হয়। মানব অধিকার আসলে, শিশুর দুধের অধিকার, মানুষের খাদ্যের অধিকার, বেকার যুবকের চাকরির অধিকার, সবার শিা, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং কথা বলার ও লেখার অধিকার। মানুষের এই অধিক্রের সুনির্দিষ্ট প্রাপ্তির প্রত্যাশায় পাস হয়েছে ভুরি ভুরি আইন। আর এ আইনের বিপরীতে কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে আমরা সোচ্চার হই মানব অধিকার লঙ্গনের প্রশ্নে, সচেতন করি ব্যক্তি সহ বিশ্ব বিবেককে। বিশ্ব জুড়ে মানুষ এখন সচেতন হচ্ছে। অতীতে মানব অধিকার লংঘনের ঘটনাগুলো সীমাবদ্ধ ছিল ব্যক্তি, পরিবার, জাতি ও ধর্মের গন্ডিতে। কিন্তু এখন তা নাকি গড়িয়েছে রাষ্ট্র কর্তৃক সাধারণ নাগরিক নির্যাতনে, যাহা মোটেই কাম্য নয়।

মানুষের কল্যানে তৈরী আইনগুলোর সুষ্ঠ ব্যবহার হলেই সম্ভব মানব অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ভালো জিনিস ভালোভাবে ভালো স্থানে উপস্থাপন বা স্থাপন করলেই ভালভাবে এর সুফল ভোগ বা উপভোগ করার প্রত্যাশা করা যায়। তেমনি মানুষের কল্যানে যে সমস্ত ভালো ভালো আইন তৈরী করা হয়েছে, যদি এগুলো যথাস্থানে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করা হয় তবে এর সত্যিকারের সুফল ভোগ বা উপভোগ করা যাবেনা। পৃথিবীতে সকল নিয়মের মাঝেই অনিয়ম লুকিয়ে থাকবে এটাও স্বাভাবিক কিন্তু এই অনিয়মের দেয়াল ভেঙ্গে ন্যায়ের প্রাচীরের বন্ধনে আবদ্ধ করে সত্যিকারের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে মানব অধিকার সংগঠন, মানব অধিকার কর্মী তথা সকল মানুষের মানবিক দায়িত্ব।

মানব অধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ধারা-৭-এ বলা হয়েছে , “আইনে কাছে সকলেই সমান এবং কোনো রকম বৈষম্য ছাড়া সকলেরই আইনের আশ্রয়ে সমানভাবে রা পাওয়ার অধিকার রয়েছে”। এ অবস্থায় আইন তার নিজস্ব নিয়মের গতিতে চলবে কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া। কিন্তু কথা হলো এই আইন যদি কখনো অন্য কোন ব্যক্তি, পরিবার, জাতি, ধর্ম ও রাষ্ট্র দ্বারা প্রভাবিত অথবা পরাভ’ত হয়ে তার নিয়মের গতি পরিবর্তন করে কোনরূপ বৈষম্যমূলক আচারণ করে তখনই তার গতিকে রোধ করে মানবাধিকার। অতএব বলা যায় যে, “আইন যেখানে তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারায়, বিবেকের তাড়নায় মানবাধিকার সেখানে গিয়ে দাড়ায়”। ব্যক্তি, পরিবার, জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্রের কল্যানে আইন, আইনের কল্যানে মানবাধিকার, মানবাধিকারের কল্যানে বিবেক।

তাই শান্তিময় একটি সমাজ, দেশ ও বিশ্ব তৈরীতে সর্বগ্রে প্রয়োজন আমার, আপনার তথা বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করে এবং সংঘবদ্ধ হয়ে সাহসী ভুমিকা নিয়ে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজস্ব গন্ডিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। তবেই ব্যাক্তি, আইন, মানবাধিকারও বিবেকের সম্মিলনে শান্তির আলোকে আলোকিত হবে মানব সভ্যতা, মানব মনে ধ্বনিত হবে মানবাধিকারের জয়গান।

slide