ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঘুরে ফিরে যেদিকেই তাকাই তোকেই সামনে পাই। কখনো ফেসবুকের পাতায়, কখনো টিভি স্ক্রীনে, কখনো পত্রিকার পাতায়, কখনো অনলাইনে এমনকি কোথায় একটু বসলেই তুই এসে সামনে দাড়াস কারো আলোচনায়। কি চাস, তুই ? বিশ্বাস কর যখনই তোকে দেখি আমার প্রতিটি রক্ত কনিকা, প্রতিটি শিরা উপশিরা এক নিমিষে কি এক অসহ্য যন্ত্রনায় কেপেঁ ওঠে তা তুই কি কবে বুঝবি, বোন। আমি অস্থির হয়ে যাই, অসহ্য যন্ত্রনার কুকড়ে যাই, বুকের ভিতর জমে থাকা কষ্টের দাবানল নেভাতে সাতরে বেড়াই সীমাহীন বেদনার অথৈ সমুদ্রে। আমি হতাশায় ভাসি, চোখ বুঝে কাদিঁ। আমি চিৎকার করে বলি, “আমি ধর্ষিতার ভাই, ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই”।

আমার আর্ত চিৎকারে হয়তো কাপেঁ প্রতিটি গ্রহ নক্ষত্র, বেদনায় সুর তোলে পশু-পক্ষিকুলও কিন্তু আমার চিৎকার আটকে যায় ভুল গ্রহের ভুল দ্বীপে, লুটোপুটি খেতে থাকে তদন্ত আর উপযুক্ত প্রমাণের বেড়াজালে অপরাধীদের কালো শক্তির দাপটে।

পোশাকটাতো ভালোই পরেছিলি, হিজাবটাও পরেছিলি। কিন্তু তুই কি জানিস, কিছুতেই থামবে না ওদের হিংস্র থাবা। তুই কি ভুলে গেছিস তুমা চিং মারমার কথা, ছোট্ট মেয়েটি গরু আনতে পাহাড়ে গেলে কি নির্মমভাবে দূর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। সে কথা মনে হলে রক্ত আমার আজও কাপেঁ। তোর জন্য কোথাও একটু নিরাপদ জায়গা নাই ! তা না হলে নিরাপদ বলয়ে ঘেরা কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায়ও তোর রক্ষা হলো না যে। এ দায় আমাদের, আমরা কাপুরুষ বলে। তোর নির্যাতিত আত্মা আমাদের সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাই আমাদের হৃদয় উন্মাতাল হয়ে ফুসেঁ উঠছে, ন্যায় বিচারের দাবিতে। তুইতো সম্ভ্রম ও জীবন বিসর্জন দিয়ে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলি এক চরম কলঙ্কময় ঋণপত্র। যার প্রতিটি শব্দে লেপ্টে আছে আমাদের নষ্ট সমাজের কলঙ্কের তিলক। এ ঋণের বোঝা আমি তোর ভাই হয়ে আর বইবো কতকাল ঐ বিচারের দরজায়! আমি গ্রীক পুরানের লিথী নদীতে ডুব দিতে চাই, ভুলে যেতে চাই তোর দুঃসহ স্মৃতি। তুই শান্তিতে ঘুমা আমিও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ঘুমিয়ে যাই নিশ্চিন্তে। আমায় ক্ষমা করিস, বোন। অভিশাপ দিস যেন এই ভুল গ্রহের ভুল মানুষের নষ্ট সমাজ ধ্বংস হয়ে যায় যাতে আর কোন তনু অবেলায় আছড়ে না পড়ে এই গ্রহ থেকে।

প্রতিবাদের তপ্ত নিঃশ্বাসে দ্রোহের আগুনে ফুলকি ছড়াক চারিদিকে, বিবেক জাগ্রত হোক ন্যায় বিচারের কাঠগোড়ায়। কান্ত বিপর্যস্ত আমি তারপরেও হাত উচিয়ে বলি, “আমি ধর্ষিতার ভাই, ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই”। আমার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতেও বলবো, “আমি ধর্ষিতার ভাই, ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই”।
– জহিরুল ইসলাম রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার, রূপসী বাংলা টিভি ( অনলাইন)।