ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

একটি ব্যাঙ্গাত্মক সাইট “প্রথম আলু ”। যেটার শ্লোগান হচ্ছে, “ সত্য যেখানে অনিশ্চিত, সেখানেই প্রথম আলু !” গত ১৪ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে ঐ সাইটে “১০ই জুন থেকে সূর্য উঠবেনা টানা আটদিন !” শিরোনামে একটা লেখা প্রকাশ হয়। লেখাটি ছিল,

“ আগামী ১০ই জুন থেকে ১৭ই জুন পর্যন্ত আকাশে উঠবে না সূর্য। গোটা দুনিয়া থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এমনটাই নিশ্চিত করেছে নাসা ! সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সাইন্টিস্ট প্রেস কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে নাসা থেকে এই ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে।

নাসার এখবরটি বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন নিউজে প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় সারাবিশ্বে। ১০ ল বছরের মধ্যে এই প্রথমবার এমন বিরল ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে নাসা। ২০১৬ সালের ১০ই জুন থেকে ১৭ই জুন পর্যন্ত টানা ৮দিনের জন্য পৃথিবী সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে থাকবে। তারমানে, ১০ই জুন থেকে সূর্য উঠবেনা টানা আটদিন !

এব্যাপারে নাসার একটি বিশেষ গবেষণা শেষে হোয়াইট হাউজে প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে আরো উল্লেখ করে বলা হয়, ১০ই জুন থেকে সেই অন্ধকারে নিমজ্জিত আটটা দিনে কেমন হবে দুনিয়ার হাল !

প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, প্রথম দুই তিন রাতের পর অন্ধকার মানুষের কাছে বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়াাবে। তারপর শুরু হবে নানারকম ব্যাধির প্রকোপ। সারাবিশ্বে একনাগাড়ে বিদ্যুতের সঙ্কট দেখা দিবে। বিভিন্ন ধরনের লাইট বিক্রি বেড়ে যাবে। চতুর্থ দিন থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে বাড়বে আত্মহত্যার ঘটনা। একটানা রাত দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে মানুষ একসময় আত্মহত্যা করা শুরু করবে।

এই খবরটি এতদিন কেনো চেপে রাখা হয়েছিলো, তা জানতে চেয়ে নাসার মুখপাত্র চার্লস ফ্রাঙ্ক বোল্ডেন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এবিষয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তারা। তাদের জন্য এটা তেমন কোনো ব্যাপারই না মনে করে বিষয়টিকে তারা উড়িয়ে দিয়েছেন।”

এখানে মজার বিষয় হলো এই খবরটি দেখে অনেকেই হুজুগে একে সত্য বলে ধরে নেয় এবং কিছু অনলাইন পত্রিকাও এটা প্রকাশ করতে থাকে। আর এতেই জনমনে তৈরী হয় বিভ্রান্তি আর আতঙ্ক। ফেসবুকেও পড়তে থাকে অসংখ্য শেয়ার।

ভেবে দেখবেন, কোথাও কোন কিছু প্রকাশের আগে আমাদেরকে একটু সত্যতা যাচাই করে একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত নয় কি ? আর এটাই বলতে চাই সূর্য ওঠুক বা না ওঠুক, “১০ই জুন থেকে সূর্য উঠবেনা টানা আটদিন !” শিরোনামের খবরটি কিন্তু সত্যি নয় শুধুই গুজব নয় কি ?

slide