ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে নারী উন্নয়ন নীতি মালা ২০১১। দেশের ধর্মপ্রাণ আলেম গণ বলতেছেন এতে অনেক কুরআন হাদীস বিরোধী ধারা রয়েছে। আর সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে তাতে কুরআন হাদীস বিরোধী কোন ধারা নেই। ইতিমধ্যেই আলেম দের পক্ষ থেকে কি কি ধারা কুরআন বিরোধী তা বলা হয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্নে আলেমগণ যে ধারা গুলিকে কুরআন হাদীস বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন তার কিছুটা প্রকাশ করা হল।

*১৬.১ এ বলা হয়েছে। “বাংলাদেশে সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রীয় ও গণ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা।”

পর্যালোচনা:
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাতীয় জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেও সর্ব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। বরং সর্বক্ষেত্রে সমতা বিধান করলে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং আর্থিক দায়ভার নিজেই বহন করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হওয়ার কারণ হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে (ক) কিছু ক্ষেত্রে নারী, পুরুষের চেয়ে ক্ষমতার উর্ধ্বে (খ) কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ, নারীর সমতার উর্ধ্বে (গ) এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উভয়ে একই সমতায় অবস্থিত।

পবিত্র কোরআনে বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
ولهن مثل الذى عليهن بالمعروف وللرجال عليهن درجة والله عزيز حكيم অনুবাদ “ন্যায়সংগত ভঅবে নারীদের আছে পুরুষদের উপর তেমন অধিকার যেমনটি আছে তাদের উপর পুরুষদের অধিকার। তবে নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে এক ধাপ বেশি। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” সুরা:২ আয়াত:২২৮, আরো দ্র: সু:৪২ আ:২৭, সু:৪৩আ:৩২,

এমতাবস্থায় জাতীয় জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলেও সর্বক্ষেত্রে কখনো সম্ভব নয়। বিধায় এ ধারাটি উপরোক্ত আয়াত সমূহ সহ বহু আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক।
আলেমগণ এই ধারাটি সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছেন এই ভাবে। “ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
*ধারা ১৬.৮ এ বলা হয়েছে ” নারী পুরুষের বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করা”
পর্যালোচনা:
অনুচ্ছেদের বক্তব্য অস্পষ্ট। নারী-পুরুষের মাঝে প্রকৃতিগত, স্বভাবগত, সৃষ্টিগত, দৈহিক ও আইন গত এমন সব তারতম্য ও ভিন্নতা রয়েছে যা দূর করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। দেখুন (সু:৪২আ:২, সু:৪৩আ:৩২, সু:৪আ:৩২)
অতএব এ ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বৈষম্য দূর করতে হবে তা চিহ্নিত করা হয়নি। বিষয়টিকে এভাবে বিশ্লেষণ করা যায় যে, মহান আল্লাহ নারী-পুরুষকে কখনো সমান রূপে সৃষ্টি করেন নি। বরং সৃষ্টিগত ভাবেই তাদের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। যেমন নারী-পুরুষের গতিপ্রকৃতি, খাদ্যাভ্যাস, রুচি, শখ, শারিরীক গঠন এক নয়। যেহেতু নারী-পুরুষ সৃষ্টিগতভাবে সমান নয় তাই তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও কর্মক্ষেত্র এক নয়। যেমন পুরুষ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করবে এবং উপার্জন করবে। আর নারীগণ সংসার/ পরিবারের দায়িত্ব পালন করবে। সন্তান ধারণ, সন্তান প্রসব, ও লালন পালন করবে। তার বিপরীতে পুরুষের পক্ষে যেমন সন্তান ধারণ সম্ভব নয়, তেমনিভাবে নারীর পক্ষেও প্রতিরক্ষাসহ পুরুষের কঠিন কাজগুলো কর সহজসাধ্য নয়। দায়িত্ব অনুপাতে অধিকার লাভ হয়। অধিকার সমান করতে হলে দায়িত্ব ও সম বন্টন করতে হয়। সংগত কারণেই মুসলিম সমাজে, মানব সভ্যতায় মেয়ে অপেক্ষা ছেলের দায়দায়িত্ব বেশি। অতএব নারী-পুরুষের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করা অসম্ভব, অযৌক্তিক। এছাড়াও উপরোক্ত ধারাটি কুরআনে কারীমের সুরা বাকারা ২২৮, সুরায়ে নিসার ৩৪ নং আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখ্য উপরোক্ত ধারায় বিদ্যমান বৈষম্য বলতে যদি অন্য কিছু বুঝায় তা সুস্পষ্টভাবে নীতিমালায় উল্লেখ থাকা জরুরী।
আলেম গণ মনে করেন উপরোক্ত ধারাটির সংশোধন এভাবে করা যেতে পারে। নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কুরআন ও সুন্নাহ/ প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসনের আলোকে নিরসন করা।

(চলবে)