ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

ধারা ১৬.১২: রাজনীতি, প্রশাসন, ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে, আর্থ-সামাজিক কর্ম কান্ড, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং পারিবারিক জীবনের সর্বত্র নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্টা।
এ ধারাটিতে রাজনীতি, প্রশাসন, আর্থ সামাজিক কর্ম কান্ড, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং পারিবারিক জীবনের সর্বত্র নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্টা করা হয়েছে। এবং ধারা ১৭.১ এর ধ্বারা মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার সকল ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ যে, সমঅধিকারী তা স্বীকৃতি স্বরূপ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ করা হয়েছে। অথচ কুরআনের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মাঝে প্রকৃতিগত, স্বভাবগত, সৃষ্টিগত, দৈহিক ও আইনগত, দ্বায়িত্ব ও কর্তব্যগত ব্যবধান ও ভিন্নতার কথা ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। উক্ত ধারা দুটিতে নারীদেরকে যে সকল ক্ষেত্রে স্বাধীন করে দেয়া হয়েছে তা কুরআনের আয়াত وقرن فى بيوتكن و لا تبرجن تبرج ا لجاهلية ا لاولى অর্থাৎ তোমরা গৃহভ্যন্তরে অবস্থান করবে। বর্বর যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। এই আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া পারিবারিক জীবনে সমান অধিকার দেওয়া হলে ধ্বংস হবে পারিবারিক জীবন। বিরাজ করবে অশান্তি জ্বালাতন, বঞ্চিত হবে নারীরা তাদের অনেক নায্য অধিকার থেকে। বহন করতে হবে বাড়তি বুঝা, অসাধ্যকর দায়দায়িত্ব। যা নিম্নক্তো আলোচনা দ্বারা আরো স্পষ্ট হবে।
(ক)শরিয়তের আলোকে স্ত্রী (নারী) স্বামীর কাছে মোহর প্রপ্তি হচ্ছে নায্য অধিকার। সমতার বিধান করলে পুরুষের জন্যও নারীর কাছে যৌতুকের মত জিনিস দাবী করা সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যথায় যৌতুক প্রদানে যদি নারীপক্ষ অস্বীকৃতি জানায়, সংগত কারনে স্বামী দেন মোহর প্রদানে অস্বীকৃতি জানাবার অধিকার রাখবে। কারণ সকলের সমান অধিকার। যা কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের বিরুধি। واتوهن اجورهن فريضة অর্থাৎ স্ত্রী দেরকে তাদের দেন মোহর আদায় করে দাও। এই আয়াত দ্বারা স্ত্রী মোহর প্রাপ্ত হলেন এবং স্বামীর জন্য যৌতুক গ্রহন নিষিদ্ধ হয়ে অধিকারে ব্যবধান হয়ে গেল। সমান অধিকার আর থাকলনা। বরং নারীদের জন্য অতিরিক্ত অধিকারের ব্যবস্থা হল।

(খ)স্ত্রীর ভরন পোষণ ও তার যাবতীয় খরচ স্বামীর উপর অর্পন করেছে কুরআন। স্বামীকে একান্ত প্রয়োজনেও স্ত্রীর সম্পদে তার অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করতে দেয়া হয়নি। এরশাদ হচ্ছে। وعلى المولود له رزقهن و كسوتهن بالمعروف অর্থাৎ সন্তানের অধিকারী (পিতা) এর উপর স্ত্রীদের সম্পূর্ণ খোরপুষের দায়িত্ব ন্যায় সংগত অনুযায়ী। অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে لينفق ذو سعة من سعته ومن قدر عليه رزقه فلينفق مما أتاه الله অর্থাৎ বিত্তশালীরা সামর্থ অনুযায়ী স্ত্রী-সন্তানের উপর ব্যয় করবে। সীমিত উপার্জনকারীরা আল্লাহর দেয়া অর্থানুপাতে ব্যয় করবে।

নবী করীম (সা:) ইরশাদ করেন :و اطعمو هن مما تأكلون وأكسوهن مما تكسون অর্থাৎ নিজের যে মানের খাবার খাও তাদেরকেও সে মানের খাবার দাও, নিজেরা যে মানের পরিধান কর তাদেরকেও সে মানের পরতে দাও।

(গ) উক্ত ধারা(১৬.১২) “পারিবারিক জীবনে সর্বত্র সমান অধিকার” শব্দ গুলোর মধ্যে কুরআনের উত্তরাধিকার আইন গুলিও অন্তর্ভূক্ত। কারন “সর্বত্র” শব্দটি প্রমান করে পরিবারের কোন সদস্য মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ পরিত্যক্ত সম্পদ প্রাপ্যের বিষয়ে নারী পুরুষ ন্যায্যভাবে যা প্রাপ্ত হন সে ক্ষেত্রেও সমান অধিকার দেয়া হচ্ছে। সুতরাং এই অর্থে উপরোক্ত ধারা টি কুরআনের সুরা নিসা ১১,১৩,১৪ ও ১৭৬ নং আয়াতের সুস্পষ্ট বিরুধী। এসব আয়াতে নারী পুরুষের নায্য অধিকার এর কথা বলা হয়েছে সমান অধিকারের নয়।

আলেম গণ প্রস্তাব করেছেন ধারাটি নিম্নোক্ত ভাবে সংশোধিত হবে।
রাজনীতি, প্রশাসন ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে, আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং পারিবারিক জীবনের সর্বত্র কুরআন সুন্নাহর আলোকে নারী-পুরুষের নায্য অধিকার প্রতিষ্টা। (চলবে) আগের পোষ্ট

সূত্র www.peaceinislam.com

মূল লেখক: মুফতী মিজান