ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

প্রথম পর্ব
একসময় রাজনীতি দেখতাম ।পর্যবেক্ষণ করে ভাবতাম আরো কিভাবে এই রাজনীতির উন্নয়ন করা যেতো ।১৯৯৭ সালে কলেজে ভর্তি হলাম । কলেজে যাওয়ার পর দেখতাম ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্য শহীদ মিনারে আড্ডা দিতো এবং প্রসঙ্গ থাকতো সামনের জাতীয় দিবসের কর্মসূচী নির্ধারণ করা । কয়েকজন আবার ইতিহাস চর্চায় ব্যস্ত থাকতো কারণ সেদিন কিছু কথা মানুষের সামনে বলতে হবে । সেই থেকে একটা ধারণা আমার মাথায় কাজ করলো অন্তত এই ছাত্র/ছাত্রী গুলো ইতিহাসে অনেক বিজ্ঞ । ঠিক সেই সময় দেখতাম খুব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী স্যার এর পেছনে দৌড়াচ্ছে । ইতিহাস তাদের নিকট থেকে অনেক দূরে । সেই থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি একটা দুর্বলতা মনে বাসা বেধেছিলো । আর কাছের বন্ধুবান্ধব সবাই সক্রিয় রাজনীতি করায় আগাগোড়া সবই নজড়ে থাকতো । উপজেলা কলেজগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলো সাধারনত ছাত্রদের ফরম পূরন,কলেজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন কর্মসূচী, মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন, নির্বাচনী কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা সহ বিভিন্ন কর্ম প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে । এই কাজগুলো করে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয় । যা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন স্তরের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করে ।

দ্বিতীয় পর্ব
এরপর এই ছাত্র সংগঠনের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় প্রবেশ করে । ছোট গন্ডি থেকে উঠে আসলেও তার অভিজ্ঞতা তাকে এই বড় পরিসরে চলতে সাহায্য করে । পড়াশুনার পাশাপাশি সে সংগঠনে যথেষ্ট সময় দিয়ে থাকে । এমনকি রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতিনির্ধারকের সাথে যোগসুত্র হয়ে বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করে থাকে যা দৃশ্যমান । সরকারে থেকেও দেখেছি এই ছাত্র গোষ্ঠী বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করতে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীতে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কিছুটা বাধাগ্রস্থ করতে এবং সেটি সংশোধিত হবার পর সেই উন্নয়ন কর্মসূচী সুফলও বয়ে এনেছে । আর এভাবেই এগিয়ে চলে আমাদের ছাত্র রাজনীতির ক্রিয়া ।

তবে প্রথম পর্বে সবাই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় আসতে পারেনা । তাড়া নিজ উপজেলা বা ইউনিয়নেই থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে । হয়তো সে দ্রুত পরবর্তীতে রাজনীতির যুব স্তরে প্রবেশ করে । তবে তার ভুমিকাও অনেক থাকে বিশেষ করে স্থানীয় সরকারে কর্মকাণ্ডের সাথে সে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে । বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার, সংগঠনের সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা বা নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করা, উপজেলা চেয়ারম্যানের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নের অংশীদার থাকা, সরকারের দারিদ্রদূরীকরনের বিভিন্ন কর্মসূচীর সদস্য থাকা, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সক্রিয় ভাবে থেকে দলীয় নেতাকে বাস্তব সমস্যাগুলো অবহিত করা সহ আরো অনেক কাজ । আমাদের আজকের স্থানীয় সরকারে যে উন্নতি দেখছি তাতে এই মানুষগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহন থাকার ফলেই সম্ভব হয়েছে ।

উল্লেখ্য এখানে বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন(ইউনিয়ন,উপজেলা,সংসদ সদস্য) সম্পর্কে কিছুই বলিনি । কারণ এই সংগঠনের উপর নির্ভর করেই কিন্তু আজকের এই উন্নয়ন সরকারের পথচলা সেটা কারো অজানা নয় । একসময় এই সদস্যগুলো উপরের স্তরের রাজনীতিতে প্রবেশ করে বা কেউ সুযোগ না পেয়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা করে যা রাজনীতির বাহিরে । এভাবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয় তারা আর অন্য কাজে উৎসাহিত বোধ করেনা তাই হয়তো চাকুরীতে আসা হয়ে উঠেনা । বিভিন্ন ভাবে রাজনীতির অংশ হিসেবে যে কর্মকাণ্ডগুলো চলতে থাকে তাতে কাজ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং পেয়ে গেলে সেই রাজনীতিবিদ মেধাবীগুলো কাজ করে থাকে । তবে সবাই কিন্তু রাজনীতিতে থাকতে পারেনা কারন একটা সময় সে সংসারে মনোনিবেশ করতে হয় । এই যে বিস্তারিত কর্মকাণ্ড আমি তুলে ধরলাম তাতে কিন্তু তার সম্মানীর কথা উঠে আসেনি । সে এত বছর তার সোনালী বয়সটা উন্নয়ন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো সেখানে কখনো অর্থের চিন্তা মাথায় আসেনি । তবে একটা সময় সে ভাবে কিভাবে পরের জীবনটা গুছিয়ে নিবে । এসব চিন্তার ফলশ্রুতিতে হয়তো অনেক মেধাবী ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ আর রাজনীতিতে থাকেনা । মন দেয় কিছু করে জীবনধারণের পর্বে ।

আর এভাবেই আমাদের তরুণ মানুষগুলোর অভিজ্ঞতাকে আমরা মেরে ফেলছি । অন্য দিকে আমাদের মত মানুষ উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ফাঁকা চিৎকার করে সুবিধা নেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকি । তাই আমি মনে করি অর্জিত এই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন যাত্রা আরো গতিশীল করতে এই অভিজ্ঞ তরুণদের কাজে লাগাতে পারি ।

এই উদ্দেশ্যেই আমার কিছু চিন্তা অনেক বছর আগে থেকেই মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে । হয়তো পেশাজীবী না হলে এই কথাগুলোই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলা হতো ।
১। প্রতিটি ইউনিয়নে চুক্তিভিত্তিক একটি ‘ইউনিয়ন সমন্বয়কারী” পদ সৃষ্টি করা । এতে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুসারে সরকারি কর্মচারীরা সেই সমন্বয়কারীর সহযোগিতা চাইবে । কিভাবে এই দাপ্তরিক কাজ দ্রুত হবে তা পরামর্শ সহ বিভিন্ন কাজে নজরদারী করবে ।ইউনিওনে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের যে কমিটি হবে তার সভাপতি থাকবে(যদি চেয়ারম্যান কমিটি প্রধান থাকে তাহলে সদস্য)।এই পদে যোগ্যতা হিসেবে অনার্স পাশ সহ ৫ বছরের রাজনীতিতে বাস্তব অভিজ্ঞতা ।প্রশাসনিক ভাবে এই পদই থাকবে মুখ্য । এই পদের নিয়োগদাতা হবে স্থানীয় সংসদ সদস্য বা উপজেলা চেয়ারম্যান এর পরামর্শক্রমে ‘উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ ।

২। প্রত্যেক উপজেলাতে চুক্তিভিত্তিক একজন ‘উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ পদ সৃষ্টি করা যাতে সকল কর্মচারী কে নিয়ন্ত্রন সহ উন্নয়ন সংক্রান্ত সকল কাজ বাস্তবায়নে উপজেলা চেয়ারম্যানকে রিপোর্ট করা । বর্তমান ফরমেটে যে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হয় তা ঠিক রেখে শুধু সেই কর্মকর্তাকে ‘অবহিত করা’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া । এতে সকল কর্মকর্তার সমন্বয়কারী হিসেবে এই পদ কাজ করবে । উপজেলাতে বিভিন্ন কর্মকর্তার অধিক কাজে অংশগ্রহন করার প্রবণতাও কমে যাবে । উপজেলায় স্থানীয় সরকারের কাজে ন্যাস্ত থাকা কর্মচারীরা উন্নয়ন কাজে শুধু দাপ্তরিক কাজ করবে । বর্তমানে দেখা যায় একজন ভূমি কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে বা বিদ্যালয়ের কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হয় যা অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে । যে যার কাজ করবে এই প্রবনতা একমাত্র এই ‘উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ পদের দ্বারাই সম্ভব । সম্প্রতি উপজেলাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিলে ইউএনও এঁর স্বাক্ষর নিয়ে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তাতে যদি সবার বিলে (উপজেলার সব কর্মচারী) ‘উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’-র স্বাক্ষর থাকতো তাহলে এই পরিস্থিতি আসার সুযোগ থাকতো না । এখানে মূলত একটি ক্যাডার অফিসারের স্স্ববাক্ষর থাকাতেই সমস্যা শুরু ।

এবং এই পদগুলোতে মাস্টার্স পাশ করা এবং রাজনীতিতে ৮ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নেয়া যেতে পারে ।সরকারের এরুপ পদক্ষেপে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সুবিধাই হবে । আমালাতান্ত্রিক জতিলতা অনেকখানিই কমে যাবে কারন সকল কাজের বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা উল্লেখিত পদের নিকট হস্তান্তরিত হবে । আর সবচেয়ে বড় সুবিধা প্রাপ্তি যা হবে তা হলো সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে । বর্তমানে অমুক সিনিয়র বা অমুক জুনিয়র এই মানসিকতায় অনেক উন্নয়ন কাজ ব্যহত হয় । যা অসত্য নয় ।

বর্তমান স্থানীয় সরকার পদ্ধতিতে দেখা যায় উপজেলা চেয়ারম্যান কে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে । আসলে বাস্তবে কতটুকু তা আমার স্পষ্ট জানা নেই । তবে উল্লেখিত পদের নিকট কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় প্রকল্পগুলোর দেখাশুনার অর্পিত দায়িত্ব প্রদান করলে উন্নয়নে আরো গতিশীলতা আসবে । অর্থাৎ সকল প্রকল্পের কমিটি প্রধান থাকবে উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা । এভাবেই সরকারের এজেন্ট হিসেবে উপজেলাতে কাজ করে যাবে । আর বর্তমান ইউএনও পদ কে বিলুপ্ত করে ‘উপজেলা জনপ্রশাসন কর্মকর্তা’ রাখা যেতে পারে । প্রশাসনিক আইন কানুনের ব্যাখ্যাই হবে তার মূল কাজ । এই প্রস্তাবিত উপজেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগদাতা হবে স্থানীয় সংসদ সদস্য দ্বারা বা উপজেলা চেয়ারম্যানও দিতে পারে ।

৩। ইউনিয়ন ও উপজেলার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে জেলাতেও এমন পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে । এখানে ‘জেলা প্রশাসক’ নামটি ‘জেলা গণসেবক’ রেখে ইউনিয়ন ও উপজেলাতে প্রস্তাবিত পদে কাজ করার অভিজ্ঞ সম্পন্ন ব্যাক্তিদের নিয়োগ দেয়া যাবে । এতে বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারদের মাঝে সমন্বয় আরো বেশী হবে । সরকারে সাথে যোগাযোগ এবং সরকারের অনুভূতি সহজে আয়ত্ত করে জনসেবা বৃদ্ধি করতে পারবে । জনকল্যাণের ছোঁয়া সর্বস্তরে পৌঁছে যাবে । আর মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কাজ পরিচালনা হচ্ছে কি না তা এই পদে নিযুক্ত ব্যক্তির নিকট ‘অবহিত’ করনসহ প্রত্যেক দপ্তরের কাজ পর্যবেক্ষণ সহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধির নিকট বাস্তবায়ন অগ্রগতি কতটুকু তা রিপোর্ট করা । বর্তমান পদটিকে কি করা হবে তা আলোচনা সাপেক্ষে নাম দেয়া যেতে পারে । তবে প্রস্তাবিত ‘জেলা গণসেবক’ এই পদের নিয়োগদাতা হবে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ।

শেষ পর্ব-
এতে যে লাভটুকু আমাদের হতে পারে…
1. তরুণ বয়সে ছাত্রছাত্রী তার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে পারবে আসলে সে কি হতে চায় ।রাজনীতির বাস্তব চিত্রে একজন শিক্ষার্থী সেই সাহস টা পাচ্ছেনা কারন তার ধারণা এখানে অর্থের ক্যারিয়ার বলে কিছু নেই । কারন সংগঠনটি পুরোপুরি দেশপ্রেম কে ভিত্তি করে চলতে থাকে । তাহলে সংসার চলবে কিভাবে ? এই পদ্ধতিতে হয়তো একটা মাসিক বেতন বা সম্মানী পাবে ।
2. মেধাবীরা এই রাজনীতিতে আসেনা । এটা প্রচলিত ধারণা । যদিও এটি ডাহা অসত্য । এরপরেও নামধারী মেধাবীরা একটা স্বপ্ন দেখে এখানে আসার উৎসাহিত বোধ করবে । কারন সরকারি এই চুক্তিভিত্তিক পদগুলো তাকে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা বিস্তরণের সুযোগ করে দিবে ।
3. মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা দায়িত্ব পেয়েই কাজে লাগাতে পারবে । যা সরকারি কর্মচারীর সম্ভব না ।
4. নির্বাচিত দল তার উন্নয়ন অনুভূতি খুব সহজে তৃনমূল পর্যায়ে পৌছাতে পারবে । যা সরকারি কর্মচারী দিয়ে অসম্ভব ।
5. একটি রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা মানেই সকল উপাদান তার কাছে থাকবে । সেক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিজ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে নিজ কর্মীর মাধ্যমে । এটাই স্বাভাবিক ।
6. আধুনিক গণতন্ত্রে অফিসার কেন্দ্রীক কোন উন্নয়ন দ্রুত গতিতে হয়না । এটা পরীক্ষিত । অফিসার রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করবে তা অফিসিয়াল আইনের পরামর্শক হিসেবে । বাস্তবায়নে অবশ্যই রাজনৈতিক ব্যাক্তি লাগবে ।
7. একজন বিসিএস কর্মকর্তা ৪ মাস ট্রেনিং দিয়ে যদি অফিস ব্যবস্থাপনা সহ সকল রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার আয়ত্তে আনতে পারে তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু অফিস ব্যবস্থাপনা ২ মাস ট্রেনিং করেই শিখতে পারবে । রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার তার আগে থেকেই জানা ।
8. ইউনিওন,উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এই পদগুলোতে যদি দলীয় মেধাবী ব্যাক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সুসম্পর্ক আরো বেশী বৃদ্ধি হবে ।
9. সুশাসনে মানেই সরকারের সাথে শাসিত জনগনের,শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্কে বুঝায় । এক্ষেত্রে এই পদগুলোই হতে পারে সরকার,শাসক ও শাসিতের যোগসুত্রকারী ।
10. একটি দেশের সুশাসন মানেই বিভিন্ন উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে একটি স্বচ্ছ,জবাবদিহিতামূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করে তোলে যা প্রচলিত পদগুলো দ্বারা সম্ভব হবে না ।
11. উন্নয়ন ভাবনার বাস্তবায়ন ও দাপ্তরিক কাজ দুটো ভিন্ন বিষয় । কর্মচারী দাপ্তরিক কাজ করবে আর এই পদগুলো সরকারের উদ্দেশ্য নিয়মতান্ত্রিক ভাবে(চেয়ারম্যান/সংসদ সদস্য/মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশ)বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে । এই পদগুলোই থাকবে বিভিন্ন পর্যায়ে মুখ্য পদ ।এই পদের অধীনেই রাষ্ট্রের সকল কর্মচারী তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে ।
12. কোন কর্মচারীর জনস্বার্থে বদলী এই পদধারীর মাধ্যমে হবে । এই পদই স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এই বিষয়ে সুপারিশ করবে ।
13. এই পদের সৃষ্টির ফলে সকল কর্মচারী নিজ বিভাগের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে । এই প্রস্তাবিত পদের বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে ক্যাডার বৈষম্য বিষয়ক যে অস্থিরতা আছে তা পুরোপুরি চলে যাবে । কারন একজন রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত মানুষের ব্যবস্থাপনা শক্তি অনেক বেশী থাকে । তখন সকল ক্যাডার নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকবে । সমন্বয় এই প্রস্তাবিত পদগুলোই করবে ।
14. স্থানীয় সরকার ও প্রসাশন উন্নয়নে এই রাজনৈতিক কর্মীগুলো সরকারের শক্তিশালী এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে ।
15. রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে । দেশ পরিচালনার সাথে খুব সহজেই সম্পৃক্ত হতে পারবে । এই মেধাবী জনসম্পদ একসময় মন্ত্রী পদে নিযুক্ত হবে তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বলে কিছু থাকবেনা । কারন সকল দাপ্তরিক কাজ তখন তার অজানা থাকবেনা ।
16. এভাবেই গণতান্ত্রিক হাওয়া আরো বিশুদ্ধ হবে । যা ২০০৯ থেকে অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ যুগে প্রবেশের সাথে সাথে শুরু হয়েছে । আর এভাবেই রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই তৃনমূল থেকেই প্রশাসনিক কাজে সক্রিয় থেকে স্থানীয় সরকার কে আরো বেশী সহযোগিতা করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস । তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা দেশসেবায় নতুন ভাবে সুযোগ পাবে ।