ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

জাতীয়করণ হচ্ছে কলেজ। প্রায় ৩০০ এর মত কলেজ। গত বছর থেকে একটি বিষয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। সেটা হলো নতুন সরকারি হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের মর্যাদা কী হবে? ক্যাডার না নন-ক্যাডার। ক্যাডার যারা আছেন আর যারা কলেজ সরকারিকরণের সাথে সাথে ক্যাডার হতে চান এবং দু পক্ষই অনড় তাদের অবস্থানের সাথে। একপক্ষের যুক্তি বিসিএস পরীক্ষা না দিয়ে ক্যাডার হয় কিভাবে!

যাই হোক, আমি বলি শিক্ষকের পরিচয় শুধু ‘শিক্ষক’ শব্দটিই যথেষ্ট। সরকারি হচ্ছে এমন কলেজের শিক্ষকগণ মনে করছেন ক্যাডার সার্ভিসে যারা আছেন তারা হয়তো খুবই ভালো অবস্থানে আছেন। আসলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অনেকেই ভালো নেই। এক যুগ ধরেই প্রভাষক পদেই কর্মরত। পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যায় জর্জরিত। আবার সহকারি অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে যারা আছেন তারাও একই সমস্যায়।

এখন নতুন যারা সরকারি শিক্ষক হতে যাচ্ছেন তারাও একই সমস্যায় পড়বেন। সেই শিক্ষকরা প্রভাষক পদেই নতুন চাকুরি জীবন শুরু করবেন। এখন যিনি অধ্যক্ষ সেই স্যারও প্রভাষক হয়ে যাবেন। আর সর্বশেষ বিসিএসে নিয়োগের পর থেকে সিনিয়রিটি ধরা হবে। তাও চাকুরি স্থায়ীকরণের পর থেকে। যতটুকু আমি জানি ঠিক ততটুকুই বললাম।

পোস্টটি দেয়ার কারণ হলো অনেকেই এই বিষয়টি জানে না যে সরকারি হচ্ছে এমন কলেজের শিক্ষকদের নন-ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ দিবে কি না! আমি বলবো শিক্ষক হিসেবেই নতুন যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। নতুন কলেজ সমূহকে আলাদা হিসেবে রেখে শিক্ষকদের জন্যে নতুন সার্ভিসমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। এতে নিজেদের পদ পদবী বা পদোন্নতিতে একটা গতি থাকবে। সম্মান কখনো নির্দিষ্ট শব্দ অর্জনের মাধ্যমে বেঁড়ে যায় না। আজ যারা বিসিএস অফিসার তারা অনেকেই এই বেসরকারি কলেজেরই ফসল। সুতরাং বেসরকারি শিক্ষকদের আর প্রমাণের দরকার নেই তারা যে মেধাবি। বরং তাদের গভীর ভাবে ভাবা উচিৎ সরকারি চাকুরি নিশ্চিত করে কিভাবে ভবিষ্যৎ পদোন্নতিতে গতি রাখা যায়। সেটা আলাদা সার্ভিস প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব।

আমার সকল স্যারই বেসরকারি শিক্ষক। এখনো শিক্ষা দেয়। সেভাবেই চলি। কিন্তু বুঝতে পারছি না না সরকারের উন্নয়নে আমাদের স্যারগণ কত সহযোগিতা করছেন? কিন্তু নিজেদের চাকুরির ধরণ ঠিক করতে কেন হিসেব মিলাতে পারছেন না। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সফলও হয়েছেন। নিশ্চয়ই সরকার তাদের কোন প্রস্তাব মেনে নিবেন।

আমাকে ভুল বুঝবেন না। ক্ষুদ্র জ্ঞানে কিছু আলোচনা করলাম। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন দুটোর ভিন্ন রঙ। এপার বলে ওপারে ভালো ওপার বলে এপার। এড়িয়ে যায় দৃশ্যমান সুখটাকে আশাকরি ভেবে দেখবেন।