ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

অনেক দিন আগে একটি মত প্রকাশ করেছিলাম। শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সবসময় ক্যাডার সার্ভিসের সদস্য থাকবে। এই বিষয়টিই অনেকেই এবং সুশীলগণ সহজ করে নিতে পারছেন না। শিক্ষা ক্যাডার অফিসার যারা আছেন তাদের ধরন ও প্রকৃতি অন্যান্য শিক্ষক সমাজের চেয়ে ভিন্নতর (ইতিবাচক অর্থ)। সরকারের শিক্ষা প্ল্যান বাস্তবায়নে তারা কাজ করে থাকেন। এই বিষয়টি সবার মনে ধারণ করা জরুরি।

আমাদের দেশে ক্ষুদ্র শিক্ষা অস্থিরতা শুরু হতে যাচ্ছিলো (যাই হোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটা দূর করেছেন)। সেটা হলো বেসরকারি শিক্ষকগণ ক্যাডার হবে কিনা? আসলে বিসিএস পরীক্ষা না দিয়ে ক্যাডার হওয়া যায় না। একসময় ২০০০ বিধিতে স্বল্প শিক্ষক ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন তা শোনা যায়। আসলে কোন বিধিতে এসব হওয়া যায়না । হয়তো ক্যাডার ফিটলিস্টে প্রবেশ করে সিনিয়র হয়েছেন বা আমাদের সাথে মিশেছেন । তবে তার নিয়োগের ধরণ কিন্তু আত্তীকৃত এবং তা লিখা থাকে ।

আবার অনেক আত্তীকৃত শিক্ষক ২০০০ বিধিতে প্রবেশ করে মামলা করেছেন ১৯৮১ বিধিতে সুবিধা নেয়ার জন্যে এবং তাই নিয়েছেন। সুতরাং বিধি বা চাকুরির ধরন নিয়েই সবার ভাবনা এটা বলতে পারি । শিক্ষার উন্নয়নে কী করতে  হবে তা বিসিএস পরীক্ষা না দিয়ে ক্যাডার না হয়ে সরকারি হওয়া শিক্ষকগণ কখনোই ভাবেননি। ভাবার কথাও নয়। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তাশক্তি তার নেই। কারণ সেই চর্চার সুযোগ দেয়া হয়নি। থাকলেও সেটা ক্ষুদ্রতর । যেটা ক্যাডার সার্ভিস সদস্যদের আছে। এবং সেখানেই পার্থক্য ।

বেসরকারি শিক্ষকগণ বলেছেন একসাথে দুই ধরনের থেকে কিভাবে চাকুরি করবো? এটা সহজ করেই নিতে হবে। আমাদের শিক্ষা ক্যাডারে অনেক শিক্ষক আছেন জুনিয়রদের নিকট ট্রেনিং নিচ্ছেন। সেটা সহজেই । কিন্তু আমরা প্রশ্ন করিনা কেন জুনিয়র থেকেই? । আমি মনে করি ক্যাডার বহির্ভূত থেকেও শিক্ষা দেওয়া যায়। নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন সেভাবেই চলতে হবে।

আসি লেখার প্রথম লাইনের ব্যাখ্যায় । শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কঠিনতর একটি বিষয় । এখানে কারিকুলাম, দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা বা নৈতিক বোধ শিক্ষার কনসেপ্ট মাথায় রেখেই শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনা করতে হয়। এখানে সরকারের শিক্ষা উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকে । তাই বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিস সদস্যদের লম্বা সময়ের শিক্ষা দিয়েই প্রস্তুত করা হয়। এভাবেই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ ট্রেনিং নিয়ে থাকেন। সবাই হয়তো দেখে থাকেন কলেজে ক্যাডার অফিসাররা পড়িয়েই থাকেন অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষকগণও পড়ান। কাজ তো একই রকম! আসলেই কি একই রকম?

শিক্ষা ক্যাডার – শিক্ষা বোর্ড, জেলাতে শিক্ষা ভবন, শিক্ষা প্রজেক্ট, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ব্যানবেইজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক প্রশিক্ষন কেন্দ্র, নেপ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নায়েম, বিভিন্ন সচিবালয়সহ অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করে থাকেন । অন্যান্য ক্যাডারের মত প্রতিবছর উপসচিব পদেও পদোন্নতি পেয়ে সচিব হতে পারেন । তাই এখানে ক্যাডার শিক্ষক ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষক ভিন্নতা রয়েছে ।

আমি মনে করি, দেশের প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালনা করা উচিৎ। সরকারি হতে যাওয়া কলেজগুলোর ব্যক্তি মালিকানা বেসরকারি কলেজগুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব ক্যাডার অফিসারদের দেয়া যেতে পারে। এতে সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুবিধাসহ শিক্ষার গুণগত মান আসবে। এতে বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া শিক্ষকগণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত পরিপূর্ণ ধারনা পেতে আরো সহজ হবে বলে আমি মনে করি । এখানে বৃহৎ ভাবে ভাবতে হবে । তাহলেই দেশের শিক্ষা উন্নয়ণ হবে । সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে ।

প্রতিটি উপজেলাতে একটি করে কলেজ সরকারি করতে যাচ্ছে সরকার । অনেকদিন পর শিক্ষাতে এত সাফল্য আসছে । আবার ক্যাডার – নন ক্যাডার ঝামেলা দূর করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে (বেসরকারি শিক্ষকগণ ক্যাডার হবেন না) । ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ।