ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকার গতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের জীবন ব্যবস্থা। চুলায় আগুন নেই, হাঁড়িতে চল, ডাল নেই এমন কথা মাঝেমধ্যেই শোনা গেলেও তা সংখ্যায় অতি অল্প বৈকি! আরো সহজভাবে বলা যায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। রাস্তায় বের হয়ে মানুষের দিকে তাকালেই তার কিছুটা প্রমাণ মিলে। প্রায় সবারই গায়ে আধুনিক পোশাক। পাশাপাশি হাঁটলে পাশ্চাত্যের গন্ধ ও পাওয়া যায়। ভাষায় দক্ষ না হলেও আধা ইংরেজি আধা বাংলা খুব মন্দ না। কিছু ছেলে ও মেয়ের মাথার চুল দেখে পার্থক্য করা কঠিন। ওগুলো চুল না বাংলার সোনালি আঁশ। যাই হোক,  এটি তাদের ব্যাক্তিগত বিষয়। রুচির বিষয়ও বটে। আর তাছাড়া আধুনিক ছেলেমেয়ে তো!

এবার আসল কথায় আসি, সত্যই আমাদের জীবন যাপনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমাদের মন বা আত্মা যাই বলি তার কোন পরিবর্তন আসেনি। দিন দিন আমাদের বিবেক কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। যে কাজ করতে পশু ও ভয় পায়, আমরা মানুষ হয়ে তা করছি। এই বিশ্বায়নের যোগে কোন নারীকে জীবিত পুঁতে রাখার চিন্তা সেই প্রাচীন যোগের বর্বরতার সামিল। একটি দৈনিক খবরের কাগজের মাধ্যমে জানতে পারলাম, গত মঙ্গলবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর কৃষ্টপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন নামের এক যুবক তার স্ত্রীকে  অবচেতন করে গর্তে পুঁতে রাখার চেষ্টা করে। যৌতুক বা টাকা দিতে অস্বীকার করলে, ঠাণ্ডা মাথায় সাদ্দাম সাহেব এই নেক কাজটি করেন। সত্যই এই কাপুরুষের কথা ভেবে হতাশ হই।

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা আবশ্যক। নৈতিকতার ভিত্তিটা মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি। আর এ জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চচা করাটা আরো জরুরি।