ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে আসছি। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যে কত করুণ ও হাস্যকর তার পর্যালোচনা অতীতে বহু হয়েছে, আর বর্তমানে তার তো প্রতিনিয়িত পোস্টমর্টেম হচ্ছে!

একটা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতা কতটা জরুরী, জনগণের শিক্ষিত হয়ে দেশের কার্যকরী উন্নয়নে ভূমিকা রাখা কতটা দরকার তা উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে বুঝা যাবে। আমাদের দেশের শিক্ষিতের হার কত? হয়ত তথ্য-উপাত্তে বুঝা যাবে আমরা এতটাই শিক্ষিত যে বলে শেষ করা যাবেনা! আসলেই কি তাই? স্বাক্ষরতা আর সুশিক্ষিত যদি এক হতো তাহলে তো এ দেশে সবাই বুদ্ধিজীবি হতো!

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই করুণ আর পুরোটাই যে বাণিজ্যিক তা তো আজকালকার স্কুলের বইয়ের তালিকা, নোটবই ও  কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্মেই প্রমাণিত। পাচঁ বছরের একটা ছোট শিশু যখন বিশাল বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায় তখন আমরা সচেতন সমাজ টের পাইনা আসলে আমরা কি করছি।

দেশের পাঠ্য পদ্ধতি বদলাতে গিয়ে আমরা গত কয়েক বছর যাবত সৃজনশীল নামক যে তামাশা চালু করেছি তাতে ক’দিন পর ছেলে-মেয়েরা হয় পড়া বাদ দেবে, না হয় প্রশ্নপত্র টাকা দিয়ে আগের রাতে কিনে পড়ে পরের দিন পরীক্ষা দিতে যাবে। ড. জাফর ইকবালের মত অতি মহা বুদ্ধিমান মানুষগুলোর সখ হয়েছিল এদেশের শিক্ষা পদ্ধতি বদলাবেন! তা হয়েছে তো? না আরও কোন পরীক্ষা করবেন? অন্তত ২০০০ সালের আগে ও পরে যে শিক্ষাপদ্ধতি ছিল তার থেকে কয়েকশগুণ খারাপ হয়েছে শিক্ষার মান- একথা বলতে তো এখন মুখ আটকাবেনা। আর তা হবার কথাও নয়।

গত কয়েকবছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন মজার একটা বিষয় হয়ে গিয়েছে এদেশে। তো শিক্ষা পদ্ধতি এত ভালো হলে কি আর এসব করা লাগে? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর মত একজন শিক্ষিত ব্যক্তিকে খালি নাকানি-চুবানি খেতে হচ্ছেনা বরং সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হবার দায়ও বহন করতে হচ্ছে! হলেও কি হবে শিক্ষামন্ত্রীর পদটা এত মধুর যে তিনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগ তো করছেনই না বরং ঘোষণা দিয়েছেন প্রশ্নপত্র ফাসঁকারকীকে ধরিয়ে দিলে পুরষ্কার দেবেন! আসলে ক্ষমতার লোভ এদেশে এত বেশি যে ব্যর্থতা বলতে কোন শব্দ নেই বললেই চলে। থাকলে তো এ দেশের সবচেয়ে জরুরী শিক্ষাক্ষেত্রের করুণ দশায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করতেন।

প্রশ্নপত্র ফাসেঁর সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, এক প্রশ্নে সারাদেশে পরীক্ষা হোক আর যাই হোক সেটা ফাঁস হবেই। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, কিন্তু সবাইকে দিয়ে মন্ত্রীত্ব হয়না এটাও একটা বিষয়। আপনার আশপাশের অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্থ, আর তা তো প্রকাশিত হয়েছেই। স্বয়ং আপনার স্ত্রীও এর বাইরে নন।

দেশের শিক্ষিত সচেতন নাগরিকরা এখন প্রশ্নপত্রের এ তামাশা সহ্য করতে পারছেন না। তাই সবচেয়ে জরুরী বিষয় হল দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। সময় হয়েছে সৃজনশীলতা নামক তামাশা সরানোর। আর প্রশ্নপত্র ফাঁস যে অতীতে হয়নি তা নয়, কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে হচ্ছে অতিরিক্ত, যা দেশের জন্য লজ্জার। বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে আর কি করবে, পরীক্ষার আগের রাতে তো সব প্রশ্ন পেয়েই যাচ্ছে। এতে মেধার মূল্যায়ন তো হচ্ছেনা বরং শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর লাগামহীন বক্তব্য আর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যর্থতা তার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে। আমরা সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। তাহলে কি আমাদের এ নতুন জেনারেশনকে ধ্বংস করার পদক্ষেপ নিয়েছে এ দেশের শিক্ষামন্ত্রণালয়। মনে হচ্ছে তাই। আর বাস্তবতাও হয়তো তাই। সময় হয়েছে এ দেশের আধুনিক মানুষগুলো জেগে ওঠার।