ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

স্কুলের ডিসপ্লেতে বানানো মানবসেতুতে ছাত্রদের পিঠের উপর দিয়ে হাঁটলেন একজন জনপ্রতিনিধি! দেশের সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত কয়েক দিনে ছড়িয়ে পরেছে খবর, সাথে ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে হাত তার উপরে শুয়ে থাকা ছাত্রদের দিয়ে বানানো “মানব পদ্মা সেতু” পায়ে হেটে পার হচ্ছেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী।

খবরটি খুবই অপ্রীতিকর এবং স্কুল পড়ুয়া সন্তানদের সামনে লজ্জায় মাথা নত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। চেয়ারম্যান সাহেবের রাজকীয় কায়দায় মানব সাঁকো পার হওয়া দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন গাঁধা-ঘোড়ার পিঠের উপর সওয়ার হয়ে নর্তন-কুর্দনে ব্যস্ত। শিক্ষার্থীরা হয়তো তার কাছে গাঁধা-ঘোড়ার মত কোন প্রাণী বিশেষই হবে।

কোন সন্দেহ ছাড়াই বলে দেয়া যায় এমন অভিনব ভাবনা শুধুমাত্র আমাদের দ্বারা, দিয়া, কর্তৃকই সম্ভব। অভিনব কায়দার তেলবাজিতে আমরা তামাম দুনিয়ার বুকে এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ভেবে দেখা দরকার এই কাজটার জন্য কি শুধুমাত্র উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী দায়ী? তার সাথে সাথে স্কুল কমিটি, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অনুষ্ঠান আয়োজকদের দায়ও কোন অংশে কম নয়।

অদ্ভুত দেশ আমাদের; কোন একটা ঘটনা ঘটলে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকে, সে আগুন লাগাই হোক, বিল্ডিং ভেঙ্গে পরাই হোক আর গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণই হোক না কেন। এ ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে জামালপুরের মেলানন্দ উপজেলায় একটি স্কুলে ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়।

অনেক চেষ্টা করার পর কিছুটা কমলেও এখনো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে দাঁড় করিয়ে, হাতে নানান রকমের জিনিস ধরিয়ে দিয়ে ভিআইপিদের স্বাগত জানানোর ঘটনা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাচ্ছে। যে ছেলে মেয়েগুলো স্কুলে পড়তে আসে, আসে জ্ঞান আহরণ করতে, যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিখবে সভ্যতা, ভব্যতা, মানবতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, তারা কিনা পিঠের উপর বহন করে অমানবিকতা আর অপমানের পর্বত প্রমাণ বোঝা! যে শিশুর বুকের ভেতর বেড়ে উঠবে বিশাল নীল আকাশ, সেই বুকের ভেতর কি কদর্যই না তাদের ধারণ করতে হয় কিছু অবিবেচক, তেলবাজ, কুলাঙ্গারদের কুরুচিপূর্ণ কাজের কারণে।

এই ভয়ংকর অপরাধীরা শাস্তি পাবে কিনা সেটা সময় বলে দেবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি সমাজের এইসব তথাকথিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ তাদের নিজেদের গুরুত্ব এবং সম্মান সম্পর্কে সচেতন হবেন। সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের এইভাবে ছোট ও হাস্যকর জীবে পরিণত করবেন না। স্কুলের কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকরা আপনাদের কাছে অনুরোধ, আলো জ্বালানোর যে গুরুদায়িত্ব আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছে দেশ, নিজেদের সেই মর্যাদার জায়গা ভুলে গিয়ে তেলবাজি, তরফদারিতে লিপ্ত হবেন না। আত্মশুদ্ধি হোক আপনাদের আর দয়া করে আমাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা আর বাড়াবেন না।