ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশ, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী, যে দেশ বন্যা কবলিত,  যে দেশকে এই সেদিনও দাতা দেশগুলোর সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য, যে দেশের প্রতিটি খাতই ছিল অনুন্নত, হাসতে হাসতে যে দেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে ফেলা যেত, সে দেশটাই কিনা কি দারুণভাবে ঘুরে দাড়িয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে । সেই বাংলাদেশটাই অর্জন করেছে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি! বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।

সাবাস, বাংলাদেশ,
এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

বাংলাদেশ নিজেকে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক পরিচয়ের নিজেদের চেনাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোয়ালবদ্ধ সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে চলেছে সামনে থাকা যতো বন্ধুর পথ। সেই পথে চলতে চলতে নিজেকে সাবলম্বি করতে শিখেছে, কথায় কথায় দাতা দেশগুলোর নানান খবরদারি, বিশ্ব মোড়লদের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে নিজেদের ভালো মন্দের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়া শিখেছে বাংলাদেশ। এক পদ্মা সেতুই যেন বলে চলেছে আমাদের সক্ষমতার কথা, আমাদের সংকল্পের কথা, আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা, আমাদের অহংকারের কথা, আরও কত কিছু। এভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা থেকে শুরু করে নিজেদের তৈরি পোশাক রফতানি, জাহাজ থেকে নিয়ে সবজি রফতানি, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বাল্য বিবাহ রোধে কার্যকর আইন প্রনয়ন, শিশু মৃত্যু, মাতৃ মৃত্যু হার কমিয়ে আনা সহ আরও অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিটি ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে নানান কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কৃত্তিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

আর এই সব কিছু মিলিয়েই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপি ঘোষণা করেছে – স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। সিডিপি জানিয়েছে, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এই তিনটি সূচকের যেকোনো দুটি অর্জিত হলেই এলডিসি  ক্যাটাগরি থেকে উত্তরনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেদিক থেকে বাংলাদেশ তিনটি শর্তই পুরন করেছে। বাংলাদেশ টানা ছয় বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশের উপরে রাখতে পেরেছে। এই ধরনের দ্রুত প্রবৃদ্ধি কম দেশেরই রয়েছে যা কিনা খুবই আশাব্যাঞ্জক একটি ব্যাপার।

বাংলাদেশের জন্য এই  স্বীকৃতি অবশ্যই অনেক সম্মানের এবং আনন্দের। এই অর্জনের স্বীকৃতিও বাংলাদেশ কাকতালীয় ভাবে পেল স্বাধীন বাংলাদেশের রুপকার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে। জাতির পিতা এবং ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্ন পুরনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিশ্ব মানচিত্রে নিজেদের অনন্য মাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সে দিনের প্রত্যাশায় গোটা জাতি।