ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

বাংলা ১৪২৫ বর্ষবরণ ঘিরে ঢাকা সহ সারাদেশ ছিল উৎসবে মুখর। নানা আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করেছে দেশের আপামর জনতা। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পুরোটাই ছিল রঙে রঙিন। ঢাকায় রমনার বটমূল থেকে উৎসবের শুরু হয়ে শাহবাগে মঙ্গল শোভাযাত্রা, পাড়ায়-মহল্লায়, বাসা-বাড়িতে, পার্কে-রাস্তায় সবখানে যেন একই সুর; সবার গলায় একই আহবান- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’

পহেলা বৈশাখে অন্যান্য স্থানের মতো ধানমন্ডি পার্কেও ছিল হাজার মানুষের সমাগম। রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু করে পুরো পার্ক জুড়েই ছিল নানান আয়োজন। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের আকর্ষণের জন্য আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। উদ্দেশ্য, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার পণ্যকে সবার সামনে উপস্থাপন।

কিছুদূর হাঁটতেই একটা লেখা আমার চোখে পরল, ‘ভিন্নমতে একসাথে’। একটু অবাক হলাম। বৈশাখের এই প্রথম দিনে তারা আসলে কি বলতে চায়? আগ্রহী হয়ে এগিয়ে গেলাম তাদের প্যান্ডেলের দিকে। সেখানে অনেকগুলো ফেস্টুন লক্ষ্য করলাম এবং প্রায় সবগুলোতেই একই রকমের বার্তা। যেখানে আসলে বলতে চেয়েছে, অনেক মতের একসাথে থাকা। ভালো লাগলো দেখে। কারণ, দিন দিন তো আমরা ভিন্নমতের প্রতি সম্মান জানাতে ভুলে যাচ্ছি। আয়োজকদের দেখলাম নাম এন্ট্রি করে টি শার্ট বিতরণ করতে, যাদের দেয়া হচ্ছে তারা বেশিরভাগই ছাত্র। আমি ছাত্র না হয়েও আগ্রহ থেকে সামনে রাখা সাজানো চেয়ারে বসে পরলাম, দেখার জন্য যে আসলেই তারা কি বার্তা দিতে চায়!

একটা ছেলে মঞ্চে উঠে তার সাফল্য, তার সাফল্যর পেছনের সংগ্রাম বর্ণনা করলো। তার পরিশেষ বক্তব্য- কখনও হাল ছাড়া যাবে না, সব কিছু সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। এরপর একটা মঞ্চ নাটক, সুন্দর উপস্থাপনা, আমি সহ বাকি দর্শকরাও বেশ উপভোগ করলো। নাটকের মূল বার্তা যা বুঝলাম সেটা আসলে আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা। পরিবার সময় দেয় না, অনলাইনে এখনকার ছেলে-মেয়েরা বেশি সময় কাটায়, পা বাড়ায় বিপথে। আসলেই আমাদের পরিবারের সবার প্রতি আমাদের নজর দেয়া প্রয়োজন। ছেলে বা মেয়ে কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, ভুল কোন পথে যাচ্ছে কিনা সে খোঁজ-খবর রাখার দায়িত্ব তো আমাদেরই।

‘চলো মিলি ভিন্নমতে একসাথে’ স্লোগানে বৈশাখের প্রথম দিনের ব্যতিক্রমী এই আয়োজন নিশ্চিত একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বৈশাখ উদযাপনে। পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে আমরা কত রকমের মানুষ বসবাস করি। কত মত, কত পথ, কত ধর্ম, হাজারো বর্ণ, কত জাতি- সবাই মিলেই আমাদের এই দেশ। আমাদের সৌন্দর্যই হচ্ছে আমরা সবাই একসাথে বসবাস করি। একজন আরেক জনের বিপদে এগিয়ে আসি, সাহায্য করি, সহযোগিতা করি। আবহমান কাল জুড়ে আমাদের চরিত্রের একটা বড় বৈশিষ্ট্য এটা। কতশত বছর ধরে তিলে তিলে এই সব ভিন্নমতের মানুষেরাই একসাথে গড়ে তুলেছে এই সুন্দরতম জনপদ। অটুট থাকুক আমাদের এই একতা, এই বৈশিষ্ট্য। তবেই না আমরা পারব আরো সামনে এগিয়ে যেতে।