ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

আজকের সকাল বেলা আম্মার গালাগালিতে ঘুম ভেঙে গেলো।একদিকে আম্মা ননস্টপ গালি দিয়ে যাচ্ছে আর আমি বালিশ দিয়ে কানচাপা দিয়ে আছি। যাহোক শেষমেশ আর সহ্য হলোনা শখের বিছানা ছেঁড়ে উঠতে হল। ইদানীং আম্মার অনেক অভিযোগ দেরী করে অফিসে যাস কেন? বিয়ে করবি কবে? ৩৫ বছর হয়ে গেলো। আমি কি বাবা নাতি নাতনির মুখ দেখতে পারবোনা অতি সব সাধারণ মেয়েলি কথাবার্তা। আমি বলি সবি হবে আম্মা তবে আস্তে আস্তে। আম্মা তখন দীর্ঘশ্বাস ছেঁড়ে বলে বাবা তখন আমি হয়তো বেঁচে থাকবোনা।

যাহোক ভাই ইদানীং দেরী করে অফিসের যাওয়ার কারন আমি জব ছেঁড়ে দিয়েছি এবং নিজে একটু ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আম্মাকে বলি নাই তাহলে আম্মা হার্টফেল করবে। এতগুলো টাকা নষ্ট করে অফিসে দিয়েছি আপাতত কাজের খুব অভাব, গিয়ে মাছি মারা আর কি কাজ।

যাহোক ঘুম থেকে উঠে প্রথম গোসল করলাম তারপর নাস্তা করে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলাম। বাসা থেকে নিচে নেমে যখন মেইন গেট পাড় হচ্ছি তখন এক অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়লো, বাসার সামনের রাস্তা তেলে তেলে সয়লাভ। আমিতো দারুন খুশী। দেশে আগে গ্যাস পাওয়া যেত এখন তেলের ও খনি আবিষ্কার হয়েছে। সামনের রাস্তা দিয়ে গল গলিয়ে তেল বের হচ্ছে।

আমি তো সাথে সাথে এই তেলের খনি দেখে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। এটাকে ব্যাক্তি মালিকানাতে নিতে হবে। সরকারকে কোনমতে এটা দেওয়া যাবেনা। ইশরে অবশেষে আমার স্বপ্ন সফল। ফেরারি কিনবো ,বাংলাদেশে ঘোড়ার রেস চালু করবো। শাহরুখ খানের মতো দুবাইতে গিয়ে বাড়ি কিনবো আর কতো কি?

মনে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করছে। যাহোক অবশেষে তাহলে কিছু হলো আমার দ্বারা। এই তেলের সাথে মধ্যপ্রাচ্যর তেলের কিছু পার্থক্য আছে এই তেল অনেকটা পানির মতন এবং এটা থেকে কিছুটা দুর্গন্ধ বের হয় এবং এটার সাথে আবার দলা দলা অনেক কিছু ভেসে উঠে। যতসম্ভব গোল্ড বার হতে পারে। আরে যাই হোক লোকাল তেলতো কোন সমস্যা নেই। কথায় আছে না স্বদেশী পণ্য ব্যাবহার করে হও ধন্য।

যাহোক বের হয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে মেইন রাস্তাতে বের হলাম ঐখানেও দেখি সেম অবস্থা। অফিসে যাওয়ার পথে মগবাজারে দেখলাম সেম অবস্থা রাস্তা ফেটে তেল বের হচ্ছে। অফিসে গেলাম দেখি ঐখানেও এই অবস্থা।

মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না বাংলাদেশ কি তেলের উপর ভাসছে নাকি। তাহলে আমাদের আর পায় কে। আমরা তো সব সউদি শেখ হয়ে যাবো।

এতো তেল দিয়ে আমরা কি করবো। ভাই আপনারা একটু বলেনতো।