ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আসলে এই লেখাটি লেখার ইচ্ছা ছিলোনা তারপরও কিছু কারনবশত লিখতে হল। আমার বাবা ২০০৬ সালে প্রথম হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয় এবং ঢাকার একটি ভালমানের সরকারী হাঁসপাতালে ভর্তি হয়। প্রথমে কন্ডিশন খারাপ ছিল, ডাক্তাররা বললেন বড় ধরনের অ্যাটাক। যাহোক ভর্তি প্রথম দিন আব্বাকে আই,সি,সি,ইউ তে রাখলাম। দ্বিতীয়দিন অবস্থা ভালো হওয়ার পর নর্মাল ওয়ার্ডে নিয়ে আসলাম এবং চেষ্টা করছিলাম একটা ক্যাবিনের ব্যাবস্থা করার জন্য।

তৃতীয় দিন যাহোক আব্বা এখন কিছুটা হলেও সুস্থ। আমি আব্বার পাশে বসে আছি। এমন সময় আমাদের এক আত্মীয় বাসা থেকে আব্বার জন্য জাউ জাতীয় কিছু খাবার আনল। আমি আব্বাকে বললাম আব্বা তুমি কিছু খাবা। আব্বা বললো এখন ইচ্ছে হচ্ছেনা। যাহোক এর মধ্যে আব্বার জানি কি একটা সমস্যা হল, ডাক্তার বললো ভাই সামনের ঔষধের দোকান থেকে এই ঔষধ নিয়ে আসেন। আমি এক দৌড়ে গেলাম এবং নিয়ে আসলাম। ডাক্তার আব্বার বডিতে ঔষধটা পুশ করলো। আব্বা মোটামুটি ঠিক। সাথে আবার এক কাজিন ছিল ও আবার ডাক্তারদের নেতা। ও অন্য হাঁসপাতালে আছে ও তখন ওর ডিউটিতে চলে গেলো।

সব কিছু ঠিক বিকালে আব্বাকে ক্যাবিন এ ভর্তি করাবো। আমার মন তখন কিছুটা শান্ত ক্যাবিন এ ভর্তি হোক আব্বা তারপর অপেরাশন করা যাবে। হঠাৎ আব্বাকে দেখলাম ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না। আমি তাড়াতাড়ি ওয়ার্ডে এক ডাক্তারের কাছে গেলাম এবং আব্বার তাৎক্ষণিক অবস্থা বললাম। উনি বললেন উনার ডিউটি শেষ। আমি কি করি কি করি আমার হাঁসপাতালের অভিজ্ঞতা অনেক কম। আমি কাজিন কে ফোন দিলাম ও তখনও ওর হাঁসপাতালে , ও সাথে সাথে আসলো আব্বার জন্য একটা ভালো ট্রিটমেন্ট এর ব্যাবস্থা করলো। কারন ও নেতা ছিল।

কিন্তু বাবাকে বাচানো গেলো না। খুব কষ্ট আর দুঃখে মনটা কুড়ে কুড়ে খাছিল্লো। সারাজীবন দেখেছি বাবাকে মানুষ সেবা করতে। পেশায় ছিল জগন্নাথ কলেজের গনিত বিভাগের প্রধান এবং অগণিত ম্যাথ বইয়ের লেখক। গনিত নিয়ে যারা পরাশুনা করেছেন বা এখনো করছেন অনেকেই তাকে চিনবেন।হাজারে হাজারে ছাত্র তার। আর আজ তার এই করুন পরিণতি।

কিন্তু এভাবে তার যে মৃত্যু এটা ভাবলে অনেক সময় মেনে নিতে কষ্ট হয়। কিন্তু ভাই আমি কি করবো, আমিতো বড় কোন অফিসার না বা বড় কোন নেতা না। যে এর প্রতিবাদ করবো।

যে লোক আগে তার প্রিয় জগন্নাথে ঢুকলে সালামের পর সালাম পড়তো। তার অবস্থান এখন আজিমপুরের কবরস্থানের শেষ কোনায় একটু জায়গাতে।

পরিশেষে যেখানে থাকো ভালো থাকো বাবা।