ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

মফস্বল শহর ছেড়ে ঢাকায় এসেছি খুব বেশি দিন নয় এইতো চার মাস মত হল আর কি, তবে শহুরে পরিবেশে থাকা বলতে জেলা শহুরে পড়াশুনা করেছি , তা ছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে(অসুস্থতা) দেশের বাইরেও (ইন্ডিয়া) ছিলাম বেশ কিছুদিন (৫ মাস)। এ থেকে যা জেনেছি বা বুঝেছি তাতে মফস্বল শহর থেকে বড় বড় শহরে চলতে হলে একটু কৌশলী হতে হয়। সেটা বিভিন্ন লোকের জন্য কৌশলী এর সংজ্ঞা বিভিন্ন। অনেকের ধারনা মতে আমি নাকি এ শহুরে(ঢাকা) বসবাসের জন্য তুলনামূলক বোকা। বোকার সংজ্ঞা টা এমন তা হল লোকের কথায় বিশ্বাস করা, মুখের কথা শুনে কাওকে ভাল মনে করা , লোকের মিষ্টি কথায় পটে যাওয়া।

Hanging-Meat
আসলে আজ কাল দেখি কথা গুলো সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে, আমার আব্বাও মাঝে মাঝে বলেন রায়হান একটু চালাক হও, না হলে লোকে তোমাকে ভাঙ্গিয়ে খাবে। আসলে হচ্ছেও তাই!

ঢাকায় এসে একবার জামাকাপড় কিনলাম দোকানীর মিষ্টি কথা শুনে। তাতে চরম ঠকলাম। সিলিং ফ্যান কিনতে গিয়ে দোকানির কথা শুনে ঠকলাম। আজ আবার ঠকলাম গরুর গোশ কিনতে গিয়ে। আমার সামনে দোকানী গোশ কাটল বেশ ভালই মনে হল। হাড়ের অস্তিত্ব বেশি দেখলাম না অথচ বুয়া রান্না করার পর হাড় ছিল ৮৫ ভাগ (দোকানি যেখানে গোশ মেপেছিল সেখানে একটু আড়াল ছিল)। আমার তো দেখে চক্ষু চড়কগাছ আর তার থেকে বেশি অবাক হলাম, যখন বুয়া বলল, মামা এটা তো মহিষের গোশ। আমাকে অবশ্য অনেকেই বলেছিল এখানে গরুর  গোশ এর সাথে নাকি মহিষের গোশ মেশায়, কিন্তু দোকানীর চেহারা দেখে আমার মনেই হয়নি লোকটি এত খারাপ। আচ্ছা কতটা কৌশলী এই কসাইটি ? নামের সার্থকতাও ঠিক এ রেখেছে, আর কতটা কৌশলী হলে এই কৌশলি নামের প্রতারকদের সাথে এই শহরে থাকতে পারব আমি?