ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
building3

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি ২০১৩ সালে, এরপর অসুস্থতার দরুন দীর্ঘদিন ইন্ডিয়া ছিলাম যার ফলে খেয়াল করা হয়নি যে নম্বরপত্র ও সনদপত্রে নামের বানানে সামান্য ভুল এসেছে, এর পর অনেক দিন হয়ে গেল দেশে আসার পর কিন্তু খেয়াল করিনি, যখন প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হতে গেলাম তখনই বিপত্তি ঘটল উনারা বললেন নামের বানান টা ঠিক করে নিন , তো ভর্তি হবার পর আমি তেমন আর গুরুত্ব দিতাম না ঐ ব্যাপারে কারণ কারিগরি বোর্ডের ঝামেলার কথা শুনে এ সমস্ত কাজে যেতে চাইতাম না , তবুও আমার কাছের বন্ধু আতিফ বলল যে আমার কিছুটা পরিচিত আছে চল যায় ,ওর কথা শুনে যেতে রাজি হলাম কারণ উপায় নেই যে।

কিছুদিন পূর্বে গেলাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ঢাকার এবং যথারীতি নয় তলায় মুল এডমিট কার্ডের নামের বানান সংশোধনের জন্য এডমিট কার্ড সেকশনে গিয়ে উনাদের রুল মোতাবেক মুল এডমিট মুল রেজিষ্টেশন সহ অন্যান্য কাগজ পাতি জমা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট করলাম, তবে আজব ব্যাপার হচ্ছে যারা কাগজ জমা নিচ্ছে তারা যে ঠিকমত বাংলা পড়তে পারে কিনা আমার সন্দেহ, কারণ এরা সাধারণত বিভিন্ন খাতা কাগজের বস্তা বহন করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত, আর যারা কর্মকর্তা তারা কি করেন বা কোথায় থাকেন আমার জানা নেই, তবে মাঝে মাঝে কোথা থেকে উদায় হয়ে এসে এদেরকে ঝাড়ির উপর রাখেন।

ঐ দিনের মত সব মোটামুটি ঠিকঠাক মত হওয়াই চলে আসলাম, আমাকে ডেট দেওয়া হল ১৭ ই মে সংশোধিত এডমিট কার্ড নেওয়ার জন্য, এরপর আমি ও আমার বন্ধু ১৭ তারিখ গেলাম ও আমার ব্যাং ড্রাফটের কপি দেখালাম, কর্মকর্তারা একটা ছেলেকে ডেকে বলল এটা খুঁজে দ্যাখো তো ? ও খুঁজল কিন্তু কোথাও পেল না, বলল যে হয়ত নিচে কম্পিউটার রুমে আছে তবে এখন আনতে পারবনা কিছু বস্তা বাধতে হবে যাতে কিছু হাত খরচের টাকা পাই , আমি বললাম আমি কি করব? ও বলল যে কিছুক্ষণ দাঁড়ান, আমরা দাঁড়িয়ে থাকলাম প্রায় আধা ঘণ্টা ও এসে বলল আজ আর হবেনা আমার আরও কাজ আছে, আমি বললাম তাইলে দাড়াতে বললে যে? ও বলে হবেনা বিকাল ৪ টার পরে আসুন , আমার আবার অন্য কাজ ছিল তাই চলে আসলাম।

পরের দিন (১৮ ই মে) গেলাম সকাল ১১ টার দিকে। আবার ওরা সব কাগজ খুঁজে দেখল, কিন্তু আবারো আমারটা পেল না। আমি বললাম, কী হবে তবে? ছেলেটা আজও বলল, বসুন। নিচে যেতে হবে। তারপর ও প্রায় এক ঘণ্টা পর নিচে গেল খুঁজে আসল কিন্তু আমার কাগজ পেল না , অতপর এসে বলতে লাগল, কার কাছে জমা দিয়েছিলেন? কী করেছেন উল্টা পালটা! এরপর যিনি জমা নিয়েছিলেন উনি আবার ১ ঘণ্টা পর আর একজনকে নিচে পাঠালেন। কিন্তু আমার কাগজগুলো কোথাও পেল না। এভাবে এক এক জন করে কর্মকর্তা আসে আর ঝাড়ি দিয়ে চলে যায়, কেউ কোনো সমাধান দেন না।

এগুলো সব দেখছিলেন আমার পাশের আর একজন কর্মকর্তা যিনি ৯ তলায় কম্পিউটারে কাজ করছিলেন উনার নাম হারুন সাহেব, ঊনি দেখে শুনে বললেন যে, সকাল থেকে আপনাদের দুর্গতি দেখছি। আমার হাতে তো অনেক কাজ। লাঞ্চের পর আসুন দেখি কী হয়। ততক্ষণে ১ টা বেজে গ্যাছে। লাঞ্চ ব্রেক ১ ঘণ্টা মানে দুইটার পর। তো কী আর করা উনাদের ভুলের জন্য ও অবহেলার জন্য আমাদের এই ভোগান্তি, এর মধ্যেও যে কী হবে শেষমেষ তারও তো কোনো সুরাহা নেই। সবাই যেন দায় সারতে ব্যস্ত। তো খাওয়াদাওয়া বাইরে করে নিয়ে আবার গেলাম দুইটার পর। দেখি কম্পিউটার অপারেটর কাজ করছেন। উনিও অনেক ব্যস্ত। প্রায় একঘণ্টা পর বললেন দেখি কী করা যায়। উনি আমাদের ব্যাংক ড্রাফটটি নিয়ে এদিক-সেদিক বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে গেলেন, কিন্তু সবাই দায় সারা কথা বলে। এরপর উনি নিজের কাজ ফেলে নিচে গেলেন ও প্রায় একঘণ্টার বেশি সময় পর এসে বললেন, আপনার কাজটা হবে অপেক্ষা করুন। তখনি সবাই বলে কী করে হবে? কেমনে হবে? কোথায় পেলেন কাগজ? উনি বললেন, আল্লাহ দিয়েছেন, কাউকে কিছু বললেন না তেমন, অতপর বিকাল ৫ টায় আমার সব কাগজ ফিরে পেলাম।

ধন্যবাদ হারুন সাহেবকে যিনি এমন উপকার করলেন , আর বাকিদের কথা কি বলব যারা এই কাজের জন্য নিয়োজিত, আর কারিগরি বোর্ডের যে কত অসুবিধা আছে আমরা জেনেছি এর আগেও অকারণে ফেল আসা রেজাল্ট না আসা আরও কত কি এইতো আমাদের ৮ম পর্বে সকলকে এক সাবজেক্টে ফেল দেখিয়েছিল ,তার জন্যও যে কত ভোগান্তি, কত মানববন্ধন কত টাকা খরচ তা আর বলে কি হবে ,আমি যেদিন কাগজ আনতে গিয়েছিলাম ঐ দিন দেখি আর একজন ও অনেক দূর থেকে এসে জানতে পারলেন অনেক্ষন পর যে তার এডমিট কার্ডটি এখনও কম্পিউটার রুম এ পাঠানোই হয়নি অথচ এক মাস হয়ে গ্যাছে, এবারো নাকি অনেক পলিটেকনিকের ছাত্রদেরকে ভুলবশত সবাইকে এক সাবজেক্ট এ ফেল দেখিয়েছে, সবাই দেখি এসে টাকা জমা দিয়ে রেজাল্ট চেক করছে, অথচ ভুল তো বোর্ডের,এভাবেই অযত্ন অবহেলায় চলছে বোর্ডের কাজ, একটা মাত্র বোর্ড দিয়ে কী হয়, এ ছাড়া আজকাল যেখানে সেখানে আনাচেকানাচে বেসরকারি পলিটেকনিক অনুমোদন পাচ্ছে, আর এ থেকে পড়াশুনা করে যারা বের হচ্ছে আল্লাহ জানে তাদের মাথায় কী আছে!

লেখা- রায়হান তানজীম (ফেসবুক)