ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

news

ইন্টারনেটের এই যুগে নিজেকে প্রকাশিত করার সুযোগ ও নিজের প্রতিভা সম্পর্কে অন্যকে জানানোর সুযোগ অনেক বেশি, যেমন ফেসবুকের মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন ব্লগ বা বিভিন্ন অনলাইন নিউজ-পোর্টালের মাধ্যমে, তেমনি ভাবে এসব সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে খারাপ কাজ বা বিতর্কিত হবার সুযোগ ও কিন্তু কম নয়। ঠিক এমনটিই করছে আজকালের অধিকাংশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো।

কতিপয় অনলাইন নিউজ-পোর্টাল নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয় কারণ এই সব নিউজ পোর্টাল গুলো ভিজিটর পাচ্ছে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে ও বিভিন্ন ব্যক্তির শেয়ারের মাধ্যমে, কারণ এরা এমন সব খবর প্রকাশ করে যা দেখে অনেকেই কৌতূহলে এই সব নিউজ-পোর্টাল ভিজিট করেন, আস্তে আস্তে এভাবেই এদের পপুলারটি বেড়ে যায়।

হাতে গোনা কয়েকটি অনলাইন নিউজ-পোর্টাল বাদে শত শত পোর্টাল আছে যারা কপি পেস্ট বা এমন সব খবর প্রকাশ করে বা লেখে (আসলে তারা যে লেখে তা নয় কপি করে)যা পড়লে আপনি ভুল কিছু জানা বা হ য ব র ল খবর ছাড়া কিছুই পাবেন না, এবং এদের যে সব সাংবাদিক আছে তারা নামে মাত্র সাংবাদিক, হয়ত কেউ কেউ সবে অনার্স ভর্তি হয়েছে বা কেউ কেউ উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডিও পেরুতে পারেনি, তবে এরা কপিপেস্ট -এ বেশ দক্ষ।

আপনারা হয়ত দেখে থাকবেন আজব হলেও সত্য এদের ফেসবুকে আবার ভ্যারিফাইড পেজও আছে। অথচ আমাদের সকলের প্রিয় আমি যাকে অনলাইন নিউজ-পোর্টালের ক্ষেত্রে আইডল হিসাবে মানি তা হল Bdnews24.com সেটা কিছুদিন আগে ভ্যারিফাইড হল। হয়ত আবেদন করেননি এতদিন তাই।

নাম না জানা শত শত পোর্টালে আমার বন্ধু বান্ধবেরাও দেখি কাজ করে ও গর্ব করে বলে আমি অমুক নিউজ-পোর্টালের সাংবাদিক আমি তমুক পোর্টালের, ওহ এদের আবার সাংবাদিকতার কার্ড ও আছে।

কিছুদিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম (যশোরে) আমার প্রতিবেশী কিছু ভাইপো আছে ওরা কেউ মাধ্যমিক কেউবা উচ্চমাধ্যমিক পড়ে, তো ওরা বলে কাকা আপনি তো দেখি একটু আধটু লেখেন আপনার কি সাংবাদিকতার কার্ড আছে ? আমি বললাম না তো, ওরা বলে আমাদের আছে, আমি অমুক পোর্টালে লিখি, আমি বললাম ও তাহ ভাল লিখে যাও।

আমি বাড়ী থেকে আসার পর দেখি ওরা আমাকে একটা ফেসবুক পেজে ইনভাইট করেছে যেখানে ওদের লেখা প্রকাশিত হয়, আমি পেজে গিয়ে লেখা পড়ে তো অবাক, কি লেখে এরা আর বানানের বা কি অবস্থা, দেখা যায় শতকরা ৮০ ভাগ বানান ভুল আর খবর গুলো তো খবর না যেন কোন চটি গল্প।

এবার আসি আমাদের চোখের সামনে ফেসবুক চালাতে গিয়ে নিয়মিত পড়া কতিপয় নিউজ-পোর্টালের কথা যাদের ফেসবুকে বেশ পপুলারটি আছে ,তাদের খবর গুলো এমন ধরনের যে, কোন মেয়ে কেমন, কোন মেয়ে সেক্সুয়াল, কোন মেয়ে কঠিন সব চেনা যাবে মেয়ের চোখ দেখে। উনারা আবার দাবি করেন তারা নাকি আবার সাংবাদিক অথবা সম্পাদক। যাই হোক সাংবাদিক বা সম্পাদক যাই হোক না কেন তাতে আপত্তি নাই। কিন্তু নিউজের নাম করে এসব কি?

এ গেলো একদিক। অন্যদিকে অনেক নিউজ পোর্টাল তো দাওয়াখানা, হারবাল গ্রুপ খুলে বসেছে। ওসব পোর্টাল আপনাকে বলে দিচ্ছে কামের গোপন সূত্র, মিলনের সূত্র, সুবিধা অসুবিধা।আর আজব হলেও সত্য এদের এমন পপুলারটি দেখে কিছু জাতীয় পত্রিকাও দেখি এমন শিরোনাম দিয়ে তাদের খবর ফেসবুক পেজে শেয়ার করছে, যাতে লোকে আকৃষ্ট হয়। যেমন, দেখুন সেদিন মেয়েটি কি করেছিল, বাবা ও মেয়ের একি কাণ্ড ভিডিও সহ, মেয়েদের হোস্টেলে কি হচ্ছে এসব ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার বলি আমার কথা আমি নিজেও এমন নিউজপোর্টলে কাজ করার জন্য অফার পেয়েছি কিন্তু,আমি না করে দিয়েছি। কী আর করা বলুন? এই কপি পেস্ট বা চটি লেখা আমাকে দিয়ে হবে না, কখনও ভাল কোন অফার পেলে মানব সেবায় লেখার চেষ্টা করব।

পরিশেষে বাংলাদেশে কোন অনলাইন নিউজ পোর্টালের নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই ফলে ব্যক্তি-স্বার্থে পরিচালিত হওয়া এসব পোর্টালের উদ্ভট খবর মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা পুরো অনলাইন সেক্টরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সুতরাং এই ব্যাপার গুলো নিয়ে উপর মহলের ভেবে দেখার সময় এসেছে।

লেখা- রায়হান তানজীম (ফেসবুক) https://www.facebook.com/rayhantanjim72