ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

উইকিলিকস নিয়ে অনেক হৈচৈ হল বেশ কয়েকদিন ধরে। এখনও হচ্ছে। পত্রিকাগুলো বেশ খোরাক পেলো কয়েকদিন!!! হাহাহাহা !!! এতদিন যা যা প্রকাশিত হল তাতে এমন কিছু পেলাম না যাতে কিনা আমেরিকার কোন স্বার্থ বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে—সেটা বাংলাদেশ হোক আর অন্যকোন দেশের বিষয়েই হোক। হ্যাঁ, কিছু কিছু তথ্য উইকিলিকস প্রকাশ করেছে যা আমেরিকার জন্য সামান্য বিব্রতকর হলেও তা মোটেও তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়নি। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা কি ভাবে স্থানীয় দালালদের ব্যবহার করেছে সেসব বিষয়ে একটি কেব্ল ও প্রকাশিত হয়নি। এর মধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে উইকিলিকসের যে ক্যাবলগুলো প্রকাশ হচ্ছে সেগুলো খুব সতর্কতা এবং চাতুর্যের সাথে নির্বাচন করা হচ্ছে। সাদ্দাম বা লাদেন এর ফাঁসি এবং হত্যার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এই দুজনের কাউকেই কোন গোপন তথ্য প্রদানের সুযোগ না দিয়েই পরপারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে আমেরিকার নোংরা বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়ে ওদের ভাবমূর্তির কোন ক্ষতি না হয়। তাদের সুষ্ঠ্য বিচার বা প্রকাশ্যে কথা বলার কোন সুযোগই দেয়া হয়নি। ঠিক তেমনি করে জুলিয়ান এসেঞ্জ-কে ও অনেক আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হত যদি তিনি আমেরিকার জন্যে সত্যি সত্যি কোন ঝুঁকির কারণ হতেন। আমেরিকা চাইলে কি পারতোনা উইকিলিকসের ক্যাবল প্রকাশ করা বন্ধ করতে। যেখানে তারা দেশের পর দেশ ধংস করছে আর লাদেন, সাদ্দাম আর গাদ্দাফির মত শক্তিমান লোকদের পাকড়াও করছে আর তাদের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিচ্ছে??! আর তাই জুলিয়ান এসেঞ্জের বেচে থাকা র উইকিলিকসের এখনো ক্যাবল প্রকাশ অব্যাহত রাখা প্রমান করে যে, উইকিলিকস ঠিক ততটুকুই প্রকাশ করছে যতটুকু আমেরিকা প্রকাশের সম্মতি দিচ্ছে। আর আমারা ততটুকুই জানতে পারছি যতটুকু আমেরিকা আমাদের জানতে দিচ্ছে।

একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে কি নিবিড় ভাবে সরকার সহ অন্যান্য সব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সকল কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমেরিকান দূতাবাসকে ওয়াকিবহাল রাখা হয়েছে। রাজনীতি সচেতনদের কাছে অবশ্য এটা অবাক করার মত কোন বিষয় না। কিন্তু আমাদের এটা বুঝা খুবই জরুরী, যে কি করে এই ধরনের সম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তাদের উপনিবেশ সদৃশ দেশগুলোর (যেমন- বাংলাদেশ) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিগুলোর মধ্যে আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এখনো এই সম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর উপনিবেশ হয়ে আছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে পূর্বের মত এখন এই সব দেশে তাদের সৈন্যের উপস্থিতি হয়তো থাকে না। মোদ্দা কথা হল, সরকার এবং বিরোধী – দুদল একই গুরু / মনিবের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

আরও একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, সেটা হলো সরকার এবং সন্দেহজনক ইসলামি গ্রুপের মধ্যেকার গোপন যোগাযোগ (The Daily Star এর এই খবরটি পড়ুন)। এই ধরনের প্রক্সি গ্রুপ, যার ভেতর কিনা সরকারি গোয়েন্দারা অনুপ্রবেশ করেছে, মুসলিম গুলোর সরকারের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের গ্রুপ, সিআইএ (CIA) আর ‘Black Water’ এর মত ব্যক্তি মালিকানাধীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইরাক, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উপর কি নির্মম আচরণ করেছে তা আমরা সবাই দেখেছি। আর এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ গুলোই ঐ সব দেশে ‘War on Terror’ এর নামে যাচ্ছেতাই করার তথাকথিত যৌক্তিকতা দিয়েছে। সেই একই ধারায় ‘War on Terror’ এর নামে সরকারি দল তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর দমন চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে। আর সেই একই হয়তো বাংলাদেশেও শুরু হতে যাচ্ছে নিকট ভবিষ্যতেই।

***
(আমার সামু ব্লগেও এই লেখাটি প্রকাশ করেছি, ‘এংগরি বার্ড’ নামে)