ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৪৭ সাল, ব্রিটিশ শাসনের অবসান । জন্ম হয় দুটি রাষ্ট্রের ,ভারত এবং পাকিস্তান । এই বিভাগের ভিত্তি দ্বি-জাতি তত্ত্ব । ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পাকিস্তান মুসলিম জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করে । পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে বুকে বুক মিলায় । এক দেশ এক প্রাণ , এক স্বপ্ন এক গন্তব্য । অভিন্ন স্বপ্নের বাস্তবায়ন , মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র । পাকিস্তান জিন্দাবাদ ।

ক’দিন পর  ভিন্ন বাস্তবতা। উর্দু এবং বাংলা মুখোমুখি। ভাষার যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানিরা বাঙালীতে রূপান্তরিত হয়ে যায় । বাঙালী তারপর থেকে সব কিছুতেই পাকিস্তানীদের মুখোমুখি । অধিকারের আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। অবশেষে ১৯৭১ সাল। বাঙালিদের সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ । ৯ মাস পর বিজয় অর্জন । ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল , এই  দুই দশকের বেশী সময় ধরে বাঙালির যত আন্দোলন সবই তখন গড়ে উঠেছে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মধ্যে থেকেই । এ যেন ‘ তোমারে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে ‘ । আর এটা ছাড়া কোন উপায়ও হতে পারত না । কারণ মুসলিম জাতীয়তাবাদী জনগণের মুসলিম প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলো তো সেই চারিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । মিডিয়াও  এর ব্যতিক্রম ছিল না । এখানে মিডিয়ার কথা সবিশেষ উল্লেখ্য কারন ইহাই আলোচ্য । আর এর সাথে আমাদের বর্তমান  সম্পর্কের বাস্তবতাটি  বলবার জন্য এইবার  বাঁকি কথার অবতারণা ।

বাঙালির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর সব কিছুতেই জাতীয়তাবাদের নতুন অভিজ্ঞান , রাষ্ট্রের নতুন চারিত্র বৈশিষ্ট্য । কিন্তু পরিণত হওয়ার আগেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে পাকিস্তানী ভূতের আছড়ে মুসলিম বাংলাদেশের অভ্যুদয় । ৭৫ ‘ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড থমকে দেয় অসাম্প্রদায়িক গনপ্রজাতন্ত্রকে । ৭১’র পরাজিত অংশ পুনর্বাসিত এবং সংগঠিত হয় । রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় পরাক্রমশালী ধর্ম-রাজনীতি ব্যাবসার ধ্বজাধারীরা হয়ে ওঠে মুসলিম বাংলাদেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা । সামরিক জান্তাদের ক্ষমতা দখল এবং স্বৈরাচারী শাসন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে   দাঁড়ায় । দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ততদিনে এই সব কিছুকে অভ্যাস করে নিয়েছে । বিশ্বাস ভাঙ্গা সেনাপতি জাতির কপালে কলঙ্ক তিলক এঁকে রাজাকার-মিত্র আদর্শের ষোলকলা পূর্ণ করেন । যার নাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ , জাতি হন্তারক জাতীয়তাবাদ । মানবতা বিরোধী রাজাকার ভূষিত হয় জাতীয় নেতার সম্মানে।

বলা যেতে পারে ৯০’ র গনঅভ্যুত্থান অতিক্রম করে ৯৬ সাল পর্যন্ত এই ধারা বিরতিহীন ভাবে ক্রিয়াশীল ছিল। সুতরাং স্বাধীনতা বিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মী, ধর্মান্ধ জঙ্গি আর পুঁজিবাদী বাটপার সব মিলেমিশে একাকার। একটি আরেকটির পরিপূরক । এরা নিজেদের স্বার্থ-সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে । এদের প্রতিপত্তি এবং প্রভাব সর্বত্র এবং সর্বগ্রাসী। মিডিয়া এখন এরা খুব ভাল বোঝে। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো মিডিয়া এদের দখলে।

দেশের প্রভাব প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটিগুলোতে একইভাবে দৃশ্যমান । আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বাংলাদেশী কম্যুনিটি এখন বর্ধিষ্ণু।  প্রায় ১০/১২ টি  সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে এবং  কয়েকটি টেলিভিশন সম্প্রচারিত হচ্ছে নিউইয়র্ক থেকে। এই মিডিয়াগুলোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বাস্তবতা অনেকাংশে সত্য। সে রাজাকার, সে প্রতিক্রিয়াশীল, সে অমুক, সে তমুক ইত্যাদি বলে আমরা অনেকেই এদেরকে এড়িয়ে চলছি। কিন্তু লাভ কী? এতো ‘ ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ ।