ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

প্রায় ৪২ বছরের চেয়ে বেশী সময় ধরে মুয়াম্মার গাদ্দাফি লিবিয়া শাসন করেছে, যদিও তিনি সর্ব শেষে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন , গত ২০ অক্টোবর ২০১১ সির্তে হামলার পর নিহত হয়েছেন লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক গাদ্দাফি । অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তারা (ন্যাশনাল ট্রান্সিশনাল কাউন্সিল -এনটিসি) একথা গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন । সম্ভবতঃ একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ছিল তার বিরুদ্ধে বলে অনেকের ধারণা , তবে একথা সত্য যে , লোভ মানষকে ঠিকই ধ্বংস করে , মানব সেবার জন্য ক্ষমতা আকড়ে ধরে পড়ে থাকার কোন প্রয়োজন নাই , তিনি জাতি গঠনে ৪০ / ৪২ বছর ধরে একাই দেশ শাসন করবেন আর অন্যরা বঞ্ছিত হবেন তাতো হয়না , ন্যাটোর বিমান বাহিনী সির্তের কাছে একটি গাড়িবহরে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সেই গাড়িবহরেই গাদ্দাফি ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে । এরুপ নিজের দেশেই রাষ্ট্র নায়কদের খতম হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়, অনেকের মত সাদ্দাম ও গাদ্দাফির শেষ পরিনতি হতে আমরা যে রাজনৈতিক ধারণা পাই তা হলো গনতান্ত্রিক অশুভ সংকেত । গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিবর্জিত জাতিগোষ্ঠি যুগে যুগে দেশে দেশে বিরাজমান , যেমন গনমানুষের রাজনৈতিক চেতনায় ন্যুনতম সেবা প্রত্যাশিত একজন নিরীহ নাগরিক কখনো ক্ষমতার লোভ করেনা , পক্ষান্তরে যে কোন দেশের দুই রাজনৈতিক পরাশক্তি “সরকারি দল” আর “অপজিশন দল” ( বাংলায় অবশ্য যাকে আমি “বিরোধী দল” বলতে নারাজ ) ঘুরে ফিরে এসব দুই বা তিন দলের বিবর্তিত ক্ষমতার পালা বদল কোন দেশের জন্য কাঙ্খিত সেবা প্রদানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নয়, সম্পুর্ণ গনতান্ত্রিক বিশ্বাস ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে উদার ও আত্মমর্যাদাশীল ভূমিকা রেখে গাদ্দাফির উচিত ছিল সন্মাজনক ভাবে প্রস্থান নেবার সুযোগ হাতছাড়া না করা , সেই সাথে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশগুলোর উচিত হবে পানি ঘোলা করে দৃশ্যত মাছ ধরবার অভিনয় না করে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস পরিহার করে বিশ্বশান্তি এবং সৌহার্দ অক্ষুন্ন রাখতে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে পক্ষপাতহীন ধর্ম-বর্ণ ও ভৌগলিক বৈষম্য ভুলে কাধে কাধ মিলিয়ে সকল রাষ্ট্রকে তার নিজ নিজ আভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্বাধীনতার ভিত মজবুত ও তাদের ক্ষমতার ভারসাম্য সুদৃঢ় করতে সহায়তা করা ।

—– রাজু আহম্মদ খান