ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ক্ষুদ্রঋণকে যদি একটা ধারালো ছুরির সাথে তূলনা করি তাহলে কেমন হয় ? ছুরি দিয়ে আমরা ফল কাটি আবার একটু অসাবধান বশতঃ হাতও কেটে যায় , ক্ষুদ্রঋণ এর কার্যকারিতা ক্ষেত্র বিশেষ শত ভাগ সফল , এ কথা আমরা এ ভাবে প্রমান করতে পারি যে , যদি সঠিক সময়ে, সঠিক মেয়াদে, সঠিক ব্যবস্থাপনায়, সঠিক মাধ্যমে, সঠিক পদ্ধতিতে, সঠিক শর্তে, সঠিক নিয়মে, সঠিক ব্যবসায়, সঠিক ব্যক্তিকে , সঠিক পরিমান টাকা, সঠিক ভাবে বিনিয়োগ করা হয়, আর ঋণ গ্রহিতা সঠিক ভাবে , সঠিক সময়ে ফেরত দেবার জন্য, সঠিক নিয়তে, সঠিক কাজে, সঠিক পরিশ্রমে, সঠিক কৌশলে, ঘোষিত ক্ষেত্রে , সঠিক নিয়মে ঋণের টাকা শতভাগ খাটায় তাহলে তা সফল হবে তাতে করে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব হবে ।

ক্ষুদ্রঋণ সাধারণতঃ জামানত বিহীন হয়, ফলে তার বিনিয়োগের ঝুঁকির শতকরা হার বেশী থকে, তাই এর কার্যকরী খরচ (অপারেশন কষ্ট) স্বভাবতঃই বেশী হয়, দরিদ্র হবার কারনে এরা কোন সময় বড় ঋণ পায়না , এবং ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য তাদের যখন পুঁজির দরকার হয় , যারা ভূমিহীন , বা যাদের বিক্রি করবার মত কিছুও থাকেনা, তখন তারা পেট ও ব্যবসা চালানোর জন্য বাধ্য হয়েই ঋণ নেয় , অথচ যখন তাদের ব্যবসা সামগ্রী / মাল ক্রমহ্রাসমান নিয়মে পর্যায়ক্রমিক অবনতির চক্রে ব্যবসা গুটিয়ে নেবার ( লাল বাতি জ্বলার )উপক্রম হয় সেই মুহূর্তে যারা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে , শরিয়াহ বর্ণিত সূদের বিপদ জনক দায়ভার বিবেচনায় রেখে , যদি তারা সামগ্রিক সামাজিক দায়বদ্ধতার বোঝা মাথায় নিয়ে ,হত দ্ররিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ায় ,তাহলে তাদেরকে আমরা রক্তচোষা বলি কি করে ? চেষ্টা করে দেখিতো পয়সা দিয়ে একটা নোবেল পুরষ্কার আনতে পারি কিনা?

সারা বিশ্ব এখন ক্ষুদ্র ঋণের প্রশংসা করে । মানুষ যদি ঋণ নিয়ে বিয়ে করে, স্ফুর্তি করে শতভাগ ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে , ব্যক্তিগত খাসলোতের কারনে পুঁজি হারায় , ব্যবসার লাল বাতি জ্বালায় আর ঋণ খেলাপী হয়ে পথে পথে ঘোরে তার জন্য কি ঋণ দাতারা দায়ী ? তবে হ্যাঁ যাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই , নাগরিক প্রতিশ্রুতি (Commitment) নেই কিংবা যাদের উপর সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুদায়িত্ব অর্পিত নেই বা যথেচ্ছ হারে প্রণোদনা / সাবসিডি দেবার ক্ষমতা নীতিমালায় নেই তাদের পক্ষে এই স্পর্শ কাতর ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ঠিক নয় । তাদের ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কার্যক্রম বিশ্বব্যাপি সমাদৃত হলেও এর কার্যকারীতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় ।