ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী না দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সরকার । স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষপাতি না হলেও অবশেষে সম্মতি দিয়েছিল ইসি । নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আগে শুক্রবার সকাল ৮টায় চার কোম্পানি সেনাসদস্য টহলে নামবে বলে ইসি জানিয়েছিল । কিন্তু তা হয়নি । প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা জানালেন, নির্বাচনে সেনা সদস্য পাচ্ছে না । প্রকারান্তরে সেনা সদস্য না পাওয়ায় সরকারকেই দায়ী করলেন সিইসি।

সেদিন সকাল থেকে সেনাসদস্য নামবে এটাই ঠিক ছিলো । সকালে সেনাবাহিনী না আসায় সরকারের উচ্চ মহল হতে জানালেন সেনা-বাহিনী বিকালে যাবে। অবশেষে জানা গেল সেনাবাহিনী নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছে না।

সরকার ভাবতেই পারে সেনাবাহিনী ছাড়াই অন্যান্ন ফোর্স দিয়ে এ ধরনের নির্বাচনের শান্তি শৃংখলা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব , যে কারনে প্রায় ১৪০০ বিশেষ ফোর্স রাখা হয়েছিল , যাদের মধ্যে শুধু সেনা বাহিনী নয় চৌকস সকল সদস্যের সমন্বয় ছিল , পাশাপাশি ইসি সেনা বাহিনী চাওয়ার আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারতেন । কোন নির্বাচনে সেনাবাহিনী প্রয়োজন কিনা তা উপলদ্ধি করে সেনাবাহিনী চাওয়ার এখতিয়ার যেমন ইসির আছে , তেমনি স্পর্শ কাতর এমন বাহিনী ব্যবহারের অনুমতি দেবার ক্ষমতা একমাত্র সরকারেরই আছে । তাই কারো ভূমিকাই প্রশ্নবিদ্ধ নয় আমরা মনে করি । তবে সিইসি যদি তার নিরপেক্ষতা প্রমানের জন্য বার-বার সরকারকে দায়ী করেন , তাহলে অন্ততঃ ইহাই প্রমান হয় যে , নির্বাচন কমিশনের উপর সরকারের কোন চাপ নেই , নির্বাচন কমিশন স্বাধীন , তবে এটুকু সত্য যে সেই মূহুর্তে সেনা নিরাপত্তা না দিয়ে সরকার নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন , এবং তাতে করে সরকার আলাদা কোন সুবিধা পেয়েছেন বলে মনে হয় না , কারন মিডিয়ার বিপ্লবে এখন ভোট কারসাজি করা অনেকখানি ঝুঁকিপুর্ণ আর অনিরাপদ বলে এ ধরনের নীলনক্সা বাস্তবায়নের সূযোগ নেই বলে ধারনা অনেকের । আর তাছাড়া সে রকম কোন ষড়যন্ত্রের আলামত বা ইচ্ছে সরকারের ছিলো না তাতো অনেকটাই স্পষ্ট, কারন সুষ্ঠ নির্বাচনের পক্ষে সরকারের অবস্থান সব সময়ই অনড় ছিল , তবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকার ভুল করায় তার নিরপেক্ষতা ও ন্যায় পরায়নতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল তা কিন্তু সত্য ।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা জানিয়ে সিইসি অবশ্য বলেছেন , “এরপরও আমরা সেনা মোতায়েন চেয়েছি, যেহেতু জনগণ বারবার দাবি করতে লাগলো।” এ কথা মূলতঃ অপ্রাসংগিক ও দায়ীত্বহীন কেননা এতে করে কিন্তু পরোক্ষভাবে ইসি নিজের ও সরকারের বিবেচনাকে অনেকখানি সমন্তরাল ও সমঝোতার অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন । অথচ শুধুমাত্র লোক দেখানো দোষারুপ করে ইসি সরকারকে নিজেদের সংগে আলাদা ভাববার অভিনয় করছে বলে কেউ কেউ ভুল বুঝতে পারেন । সিইসি শামসুল হুদা সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “সেখানে সেনা মোতায়েন হচ্ছে না।”এবং তার এ বক্তব্যের পরপরই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সমর্থক মেয়রপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন এবং মধ্যরাতে ঘোষনা দিয়ে বসে পড়েন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীও সেনা মোতায়েন না করার সমালোচনা করলেন এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বললেন “জনগনই আমার সেনাবাহিনী” । অথচ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান চুপ রইলেন এবং সেনা মোতায়েন না হওয়ায় কার সুবিধা বেশী হচ্ছে এটি জনগনের কাছে অনেকটা স্পষ্ট করলেন । অতঃপর সরকারের বিচক্ষনতা ,বিরোধী দলের সহিষ্ণুতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা , প্রশাসনের সততা, ও গনমাধ্যমের সচেতনতার কারনে আইভীর বিজয়ের মাধ্যমে রক্ষা পেল নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিতর্কিত প্রশ্নবিদ্ধতা ।