ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ জাল টাকা ব্যাংকের কাউন্টারে উপস্থাপন করে, সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জাল নোট উপস্থাপনকারীর পূর্ণ স্বাক্ষর গ্রহন পূর্বক এল-৪ ফরমে জাল নোটের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করবেন এবং গ্রহনযোগ্য সন্মানিত জামিনদার না পাওয়া গেলে জালনোট উপস্থাপনকারীকে জালনোট সহ নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করবেন। তবে ট্রেজারি রুলস পার্ট-৩ ক্যাপচার-৪ প্যারা-৫২ এবং আইডি ম্যানুয়েল-৬৯ ও ২৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পুলিশে না পাঠিয়ে জাল নোট সংক্রান্ত তথ্য কারেন্সী অফিসার এল- ৫৬ রেজিস্টারে রেকর্ড রেখে কেস নিস্পত্তি কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

অবশ্য জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার জন্য ব্যাংকের সকল শাখায় প্রচারপত্র টানানো আছে যা জাল টাকা প্রতিরোধে অনেক খানি সহায়ক। যেমন আসল ব্যাংকনোট চিনে নিন বা ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। সেখানে অনেক ভাবে আসল টাকা ও জাল টাকার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। যেমন ( OVI ) অপ্টিক্যালি ভেরিয়েবল ইঙ্ক ( রঙ পরিবর্তনশীল কালি ) ব্লাইন্ড ডট, হলোগ্রাফিক সূতা, জলছাপ, সীমানা বর্জিত ছাপ, ইত্যাদি নানা ভাবে অতিশয় সতর্কতার সাথে বোঝানো হয়েছে , তারপরেও অনেকের অভিমত অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যাংকার ব্যতিরেকে এত কিছু পার্থক্য সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই অসম্ভব। তাই দারুন ব্যস্ত মানুষ জাল টাকার কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত হচ্ছে প্রতিদিনই। জাল টাকা প্রতিরোধে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহিত নানামুখী পদক্ষেপ সফলতার দাবীদার হলেও জাল টাকা উৎপাদন ও বিপণন সন্তোষজনক হারে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে ধারণা অনেকেরই ।

ব্যংকের জাল টাকা চিহ্নিতকরণ মেশিন হতে বিচ্ছুরিত বেগুনি রশ্মি (আলট্রাভায়োলেট রে) দিয়ে যে টাকার কাগজ পরীক্ষা করা হয় সে কাগজ অনেক সময় টাকার কাগজ হওয়ায় তা ধরা পড়েনা। কারন অনেক ক্ষেত্রে একই আকারের নোট ( ১৫২ x ৬৫ ) মিমি. ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট বাজারে চালু থাকায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী একই আকারের ১০০ রঙ মুছে ৫০০ টাকার ছাপ দিয়ে তা চালিয়ে দিচ্ছে ।

এ প্রসংগে কতিপয় পরামর্শঃ

১) টাকশালের কর্তব্যঃ
টাকশালে যে কাগজে যে মুল্যের টাকা ছাপা হয়, বিশেষ নিরাপত্তার স্বার্থে কাগজের মধ্যে জলছাপের মাধ্যমে টাকার অংক লিখে দিতে হবে, যাতে টাকশালে জরুরী প্রয়োজনেও নির্ধারিত মুল্যের টাকার কাগজে নির্ধারিত টাকা ছাপা হতে ব্যত্যয় না ঘটে। অর্থ্যাৎ বাইরের দেশ হতে পূর্ণ নিরাপত্তায় টাকা ছাপানোর যে যে আকারের কাগজ আসে সেই আকারের টাকা ছাপাতে তা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহত হয় বা ব্যবহারের বিধিমালা নিশ্চিত হয়। মোট কথা বিভিন্ন মূল্য মানের টাকা বিভিন্ন আকারের হতে হবে, এবং পর্যায়ক্রমে টাকার মূল্য যত কম আকার তত কম, এই সূত্রে পূনরায় ফেরত যেতে হবে। তাহলে ১০০ টাকার নোট দিয়ে অবশ্যই ৫০০ টাকার নোট ছাপানোর জালচক্র প্রতিহত হবে ।

২) গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিঃ
জালটাকা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট চক্রকে ধরতে আরও বেশী গোয়েন্দা তৎপরতা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে ।

৩) গণমাধ্যমের অংশগ্রহনঃ
জালটাকা তৈরী সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি রিপোর্ট জনসমক্ষে উপস্থাপন ও শাস্তি প্রক্রিয়া গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগনকে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে এবং রেডিও টিভিতে জাল টাকা সনাক্ত করার মনোহরী বিজ্ঞাপন সরকারী খরচে তৈরী করে তা প্রতিদিন প্রচার করতে হবে ।

৪) নজরদারীঃ
সরকারী বেসরকারী সকল প্রেস/ছাপাখানার দৈনন্দিন কার্যক্রমে সর্তকতার সহিত নজরদারি বাড়াতে হবে, এবং সকল ফটোকপি মেশিন বিক্রেতা ও তা সরবরাহকারী এবং ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমকে কড়া নজরদারির আওতায় আনতে হবে।