ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সুরঞ্জিত সেন তার পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে মন্ত্রীত্বের স্বাদ পেলেন , কত খানি কাঠ-খড় পোহাতে হয়েছে তাকে, তা তিনিই ভালো করে জানেন । তবে এবার আওয়ামীলীগের মেয়াদকালে ইতিমধ্যেই অতিবাহিত মন্ত্রীত্ব পাবার তিন বছর সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক জীবনের বিগত পঞ্চাশ বছরের চেয়েও দীর্ঘততর বলে মনে হয়েছে , তার কারন অবশ্য সবাই কমবেশী জানেন , কোন সংস্কারবাদী আছর তাকে ভর করেছিল কিনা তা নিশ্চিত করে বলার কিছু যো নেই , তবে একথা সত্য যে, সত্য কথা বলতে সুরঞ্জিত ও ওবায়দুল কাদের কখনো দ্বিধা করেন না , মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পরও তাদের বক্তব্যে তারা আবারও প্রমান করেছেন । সে ক্ষেত্রে অবশ্য ওবায়দুল কাদের কথার চেয়ে কাজের প্রাধান্য বেশী দিতে চেয়েছেন বলে মন্ত্রীত্বের শুরুতেই কম কথা বলবেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন যে “কথা কম কাজ বেশী” । তাই আমার এখন প্রখ্যাত সেই কবিতার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে – “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে , কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?” তবে এসব জটিল রাজনৈতিক সমীকরণকে বিশ্লেষন করবার মত বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটোর কোনটিই আমার নেই , অবশ্য রাজনীতির যত টুকু ভাষা আমি বুঝি তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ফিস ফিস করে বলার মত ” দুটো বোমা বন্ধ করলাম ” অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদুপরি মন্ত্রীত্বের খাতা খোলার পরও গঠনমূলক রাজনৈতিক সমালোচনা এখনো করবেন বলে সুরঞ্জিতের যে দৃঢ় কন্ঠে ঘোষনা , স্বভাব সুলভ হাসী আর না চেপে রাখা উচ্ছ্বাসে তার ভাষায় যেমনটি প্রকাশ পেল তা হলো ” দেখেন যন্ত্রটা এখনো বাজে কিনা ? আর তাই এ সব থেকেই আমি শিখে নিতে পারি — ” রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই”